পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা టoరి শরৎ বলে, তুমি বাংলা দেশে যাও নি কখনো ? —না ভাই, এখানেই জন্ম, বিশ্বনাথের চরণ ছেড়ে আর কোথাও যাবার ইচ্ছে নেই । —দেশ ছিল কোথায় বাবার মুখে শোনো নি ? - হালিশহর বলদেঘাটা। এখনো আমার কাকারা সেখানে আছেন শানেছি। দজনে বসে সখদঃখের কথা বলে। রেণুকার অনেক কাজ শরৎ করে দেয়। বড় ভাল লাগে এই অন্ধ মেয়েটিকে । মন বড় সরল, অল্পেই সন্তান্ট, জীবন ওকে বেশী কিছ দেয় নি, যা দিয়েছে তাই নিয়েই খুশী আছে। রেণুকা বলে, একদিন আমার বাড়ি কিছু খাও ভাই— —বেশ আমি কি খাবো না বলছি ? ~রান্না তো খেতে পারবে না। নিরিমিষের হাড়ি নেই –সব একাকার। রান্না করে খাবে আলাদা ? —না ভাই, সে হাঙ্গামাতে দরকার নেই—তুমি ফল খাইও বরং— রেণুকার স্বামী ছানা, ফলমল মিষ্টি কিনে রেখে গিয়েছিল। একদিন বিকেলে রেকাবি সাজিয়ে রেণুকা ওকে খেতে দিলে । চোখে দেখতে পায় না বটে-কিন্ত কাজকম সবই করে হাতড়ে হাতড়ে । g o শরৎ একদিন মিনার কাকীমাকে বলে কয়ে বিশ্বনাথ দশনের ছয়টি নিলে । ওদের আয়া সঙ্গে গেল ম*িারের পথ দেখানোর জন্যে । শরৎ রেণুকাকে হাত ধরে নিয়ে গেল”। বিশ্বনাথের গলির মধ্যে কি লোকের ভিড় ! কত বেী-ঝি, কত লোকজন। শরৎ অবাক হয়ে চেয়ে দেখলে, তার কাছে সব কিছু নতুন, সবই আশ্চয' । মন্দির থেকে বার হয়ে দশাবমেধ ঘাটে গিয়ে বসলো বিকেল বেলা নিত্য উৎসব লেগেই আছে সেখানে। নেীকো আর বজরাতে কত লোক সাজগোজ করে বেড়াতে বেরিয়েছে । রেণুকা বললে, আমি এসব জায়গা দেখেছি ছেলেবেলায় । চৌদ্দ বছর বয়েস থেকে অসুখে চোখ হারিয়েছি। এখনো সেইরকম আছে, কানে শুনে বুঝতে পারি। —ভারী ভাল জায়গা ভাই । কলকাতা শহর দেখে ভাল লেগেছিল বটে—কিস্ত সেখানে শান্তি পাই নি এমন । এখানে মন জড়িয়ে গেল । —একদিন গঙ্গায় নাইতে এসো— —সময় পাই নে, আসি কখন । কাল একবার বলবো--- শরৎ আর রেণুকা একটু তফাৎ হয়ে বসে। চারিদিকের জন-কোলাহল ও সম্মুখে পণ্যতোয়া জাহ্নবীর দিকে চেয়ে শরতের নতুন চোখ ফোটে । সতাই সে বড় শান্তি পেয়েছে মনে । আয়া বললে, একদিন তোমাঝে কেদার ঘাটে নিয়ে যাবো – শরৎ চমকে উঠে বললে, কি ঘাট ? —কেদার ঘাট। ওই দিকে—আমার সঙ্গে যেও— শরতের মন সবপ্লঘোরে একমহত্তে কোন পথে চলে গেল পাহাড় পৰ্ব’ত বন-বনানীর ব্যবধান ঘাঁচিয়ে। গরীব বাবা কত কণ্টে চাল যোগাড় করে, নন তেল যোগাড় করে এনে বলতেন ভাল করে রাধো, বাবা যে ছেলেমানষের মত, ঘরে কিছু নেই, তা বঝেবেন না— ভাল খাওয়াটি হওয়া চাই—নইলে অবঝের মত রাগ করবেন, অভিমান করবেন। এতটুকু কট সহ্য করতে পারেন না বাবা । কোথায় গেলেন বাবা 1 জানবার জন্যে বকের মধ্যে কেমন করে ওঠে, তিনি এখন কোথায় কি ভাবে আছেন । এমন জায়গা কাশী, সেই কতকাল আগের গল্পে শোনা বিশ্বনাথের মন্দির, দশাশ্বমেধ ঘাট সব দেখা হ’ল—কিস্ত মনের মধ্যে সব সময় একথা আসে কেন, বাবা যে এসব কিছু দেখলেন না, বাবা বড়ো হয়েছেন, তাঁর