পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ტðყ বিভূতি-রচনাবলী —ও খোকন, ও কালো— —কি মা ? —বেড়িও না এই রোন্দরে হটর হটর করে—ঘরে শোবে এসো— খিল খিল করে দ"টুমির হাসি হেসে খোকা ছটে পালায় । @ হাঁড়ি-হোসেলের অবসরে নতুন আলাপী খোকনকে ঘিরে তার মাতৃহৃদয়ের সে কত অলস স্বপ্ন। যে সাধ আশা কোনোকালে পণ্য হবার নয়, ইহজীবনে নয়, মন তাকেই হঠাৎ যেন সবলে অাঁকড়ে ধরে । দিন দুই পরে সে রেণুকাকে বলে—চল ভাই, কালোকে দেখে আসি গে— কিন্ত সেদিন রেণুকার যাবার সময় হয় না। স্বামী দজন বন্ধকে খাওয়ার নিমন্ত্রণ করেছেন, রান্নাবান্নার হাঙ্গামা আছে । আরও দিন কয়েক পরে আবার শরতের অবসর মিললো—এবার রেণুকাকে বলে কয়ে নিয়ে গেল প্রবেশবরের গলি । দীর থেকে বাড়িটা দেখে ওর বকের মধ্যে যেন সমদের ঢেউ উথলে উঠল—বড় বড় পাবতিপ্রমাণ ঢেউ যেন উদাম গতিতে দীর থেকে ছুটে এসে কঠিন পাষাণময় বেলাভূমির গায়ে আছড়ে পড়ছে। খোকা দেখতে পেয়েছে, সে তাদের বাড়ির দোরে খেলা করছিল । সঙ্গে আরও পাড়ার কয়েকটি খোকাখ,কি । শরতের বকে টিপ ঢিপ করে উঠল—খোকা যদি ওকে না চিনতে পারে । কিস্ত খোকা তাকে দেখেই খেলা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে দুধে-দাঁত বার করে একগাল হেসে ফেললে । শরতের অদ্যটিাকাশের কোন সন্য যেন রাশিচক্লের মধ্যে দিয়ে পিছ হঠতে হঠতে মানরাশিতে প্রবিষ্ট হলেন, যার অধিপতি সধবপ্রকার স্নেহপ্রেমের দেবতা শুক্ল ! —চিনতে পারিস খোকা ? আয়— শরৎ হাত বাড়িয়ে দিলে ওকে কোলে নেবার জন্যে । খোকা বিনা দ্বিধায় ওর কোলে এসে উঠল, বললে—মাছীমা— —তাহলে তুই দেখছি ভুলিস নি খোকা— খোকার মা ছটে এসে বললেন, যাক, এসেছ ভাই ? ও কেবল মাসীমা মাসীমা করে, একদিন ভেবেছিলাম রেণুকাদের বাড়ি নিয়েই যাই—দাঁড়াও ভাই, পাশের বক্সীদের বাড়ির বড় বউ তোমাকে দেখতে চেয়েছে, ডেকে আনি— বক্সীদের বাড়ির দুই বউ একটু পরে হাজির ৷ দুজনেই বেশ সুন্দরী, গায়ে গহনাও মন্দ নেই দুজনের। বড় বউ প্রণাম করে বললে—ভাই, আপনার কথা সেদিন দিদি বলছিলেন, তাই দেখতে এলমে— 夸 —আমার কথা কি বলবার আছে বলনে ? —দেখে মনে হচ্ছে, বলবার সাঁতাই আছে । যা নয় তা কখনো রটে ভাই ? রটেছে আপনার নামে— শরতের মুখ শকিয়ে গেল। কি রটেছে তার নামে ? এরা কি কেউ গিরীন প্রভাসের কথা জানে নাকি ? সে বললে, আমার নামে কি শুনেছেন ? বড় বউ হেসে বললে, না, তা আর বলবো না । শরতের আরও ভয় হ’ল । বললে, বলনই না ? —আপনার চেহারার বড় প্রশংসা করছিলেন দিদি । আমায় বললেন, ভাই রেণুকাদের বাড়িও’লাদের বাড়িতে তিনি এসেছেন রান্না করতে, কিস্ত অনেক বড় ঘরে অমন রপ নেই।