পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ల్ఫి0 বিভূতি-রচনাবলী রাস্তায় বেরলেই ওরা এমনি করে রোজ রোজ—তার পরেই ভিড়ের দিকে রখে দাঁড়িয়ে বললে, দে আমার গামছা, ও মুখপোড়ারা, তোদের মড়া বাঁধা ওতে হবে না—দে আমার গামছা— to ভিড় তখন শরতের অপ্রত্যাশিত ব্যবহারে কিছু অবাক হয়ে ছত্রভঙ্গ হবার উপক্রম হয়েছে। দু-একজন হি হি করে মজা দেখবার তৃপ্তিতে হেসে উঠল । শরৎ মেয়েটির হাত ধরে গলির বাইরে যত টেনে আনতে যায়, মেয়েটি ততই বার বার পিছনে ফিরে ভিড়ের উদ্দেশে রদ্রমাত্তিতে নানা অশ্লীল ও ইতর গালাগালি বর্ষণ করে । অবশেষে শরৎ তাকে টানতে টানতে গলির মুখে বড় রাস্তার ধারে নিয়ে এল, যেখানে মনোহারী দোকানের সামনে সে রেণুকাকে দাঁড় করিয়ে রেখে গিয়েছিল । রেণুকা চোখে না দেখতে পেলেও গোলমাল ও গালাগালি শুনেছে ; এখনও শনছে মেয়েটির মুখে—সে ভয়ের সরে বললে, কি, কি ভাই ? কি হয়েছে ? ও সঙ্গে কে ? —সে কথা পরে হবে । এখন চলো ভাই ওদিকে— মেয়েটি গালাগালি বষণের পরে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল যেন । সে কাদো কাদো সরে বলতে লাগল—আমার গামছাখানা নিয়ে গেল মুখপোড়ারা—এমন গামছাখানা— শরৎ বললে, ভাই রেণুকা, দোকান থেকে গামছা একখানা কিনে দিই ওকে—চল তো— মেয়েটি গালাগালি ভুলে ওর মাখের দিকে চাইলে । রেণুকা জিজ্ঞেস করলে, তোমার নাম কি ? থাকো কোথায় ? মেয়েটি কোনো জবাব দিলে না । গামছা কিনতে গিয়ে দোকানী বললে, একে পেলেন কোথায় মা ? শরৎ বললে, একে চেন ? —প্রায়ই দেখি মা। গণেশমহল্লার পাগলী, গণেশমহল্লায় থাকে-ও লোককে বড় গালগালি দেয় খামকা— পাগলী রেগে বললে, দেয় ! তোর পিন্ডি চটকায়, তোকে মণিকণিকার ঘাটে শইয়ে মখে নড়ো জেলে দেয় হারামজাদা— দোকানী চোখ রাঙিয়ে বললে, এই চুপ । খবরদার—ওই দেখনে মা— শরৎ ছেলেমানষেকে যেমন ভুলোয় তেমনি সরে বললে, ওকি, অমন করে না ছিঃ— লোককে গালাগালি দিতে নেই। পাগলী ধমক খেয়ে চুপ করে রইলো । —গামছা কত ? —চোন্দ পয়সা মা—আমার দোকানে জিনিসপত্তর নেবেন । এই রাস্তায় বাঙালী বলতে এই আমিই আছি । দশ বছরের দোকান আমার । হুগলী জেলায় বাড়ি, ম্যালেরিয়ার ভয়ে দেশে যাই নে, এই দোকানটুকু করে বাবা বিশ্বনাথের ছিচরণে পড়ে আছি—আমার নাম রামগতি নাথ । এক দামে জিনিস পাবেন মা আমার দোকানে—দরদপ্তরে নেই। মেড়োদের দোকানে যাবেন না, ওরা ছরি শানিয়ে বসে আছে । বাঙালী দেখলেই গলায় বসিয়ে দেবে। এই গামছাখানা মেড়োর দোকানে কিনতে যান—চার আনার কম নেবে না। দোকানীর দীঘ বক্ততা শরৎ গামছা হাতে দাঁড়িয়ে একমনে শুনলে, যেন না শনলে দোকানীর প্রতি নিষ্ঠুরতা ও অসৌজন্য দেখানো হবে । তার পর আবার রাস্তায় উঠে পাগলীকে বললে, এই নেও বাছা গামছা—পছন্দ্ৰ হয়েছে ? পাগলী সে কথার কোনো জবাব না দিয়ে বললে, থিদে পেয়েছে— শরৎ বললে, কি করি রেণ্য, ছ’টা পয়সা সম্বল, তাতেই যা হয় কিনে খাক গে–