পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা ల్ఫి রেণুকা বললে, আমার হাঁড়িতে বোধ হয় ভাত আছে । —তাই দেখি গে চলো,— পাগলীকে ভাত দেওয়া হ’ল, কতক ভাত সে ছড়ালে, কতক ভাত ইচ্ছে করে ধলোতে মাটিতে ফেলে তাই আবার তুলে তুলে খেতে লাগল, অধোক খেলে ভাত, অধোক খেলে ধলো মাটি । শরতের চোখে জল এসে পড়ে। মনে ভাবলে—আহা, অলপ বয়সে, কি পোড়া কপুল দেখো একবার । মুখের ভাত দটো খেলেও না— 尊 বললে, ভাত ফেলছিস কেন ? থালায় তুলে নে মা—অমন করে না— ঠিক সেই সময় রাজপথে সম্ভবতঃ কোনো বিবাহের শোভাযাত্রা বাজনা বাজিয়ে ও কলরব করতে করতে চলেছে শোনা গেল । শরৎ তাড়াতাড়ি সদর দরজার কাছে ছটে এসে দেখতে গেল, এসব বিষয়ে তার কৌতুহল এখনও পল্লীবালিকার মতই সজীব । সঙ্গে সঙ্গে পাগলীও ভাতের থালা ফেলে উঠে ছটে গেল শরৎকে ঠেলে একেবারে সদর রাস্তায়— শরৎ ফিরে এসে বললে, gমা, একি কান্ড, ভাত তো খেলেই না, গামছাখানা পষ‘্যস্ত ফেলে গেল । অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও পাগলীর আর দেখা পাওয়া গেল না । प्ङ्गं পরদিন শরৎ আবার খোকাদের বাড়ি প্রবেশবরের গলিতে গিয়ে হাজির, সঙ্গে পটলের বউ । খোকার মা বললেন, দু-দিন আস নি ভাই, খোকা মাসীমা মাসীমা’ বলে গেল। খোকার জন্যে আজ সে এসেছে শ্ধ হাতে, কারণ পাগলীকে পয়সা দেবার পরে ওর হাতে আর পয়সা নেই। মিনার কাকীমার কাছে বার বার চাইতে লজ্জা করে । থোকা শরতের কোল ছাড়তে চায় না । শরৎ যখন এদের বাড়ি আসে, যেন কোন নতেন জীবনের আলো, আনন্দের আলোর মধ্যে ডুবে যায় । আবার যখন মিনার কাকীমাদের বাড়ি যায়, তখন জীবনের কোন আলোআনন্দহীন অন্ধকার রঞ্জপথে ঢুকে যায়, দর দিকচক্লবালে উদার আলোকোজল প্রসার সেখান থেকে চোখে পড়ে না । খোকা বলে, এসো, মাছীমা—খেলা করি— খোকার আছে দুটো রবারের বল, একটা কাঠের ভাঙা বাক্স, তার মধ্যে 'মেকানো” খেলার সাজ-সরঞ্জাম । শেষোক্ত জিনিসটা ছিল খোকার দাদার, এখন সে বড় হয়ে তার ত্যন্ত সৎপত্তি ছোট ভাইকে দিয়ে দিয়েছে । খোকা বলে, সাজিয়ে দাও মাছীমা । শরং জীবনে মেকানো'র বাক্স দেখে নি, কল্পনাও করে নি। সে সাজাতে পারে না। খোকাও কিছ জানে না, দুজনে মিলে হেলাগোছা করে একটা অদ্ভুত কিছু তৈরী করলে । খোকার মা শরতের জন্যে খাবার করে খেতে ডাকলেন । শরৎ বললে, আমি কিছু খাবো না দিদি— —তা বললে হয় না ভাই, খোকার মাসীমা যখন হয়েছ, কিছ মুখে না দিয়ে— —রোজ রোজ এলে যদি খাওয়ান তা হলে আসি কি করে ? —খোকনকে তুমি বড় হলে খাইও ভাই। শোধ দিও তখন না হয়—