পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা 9్ఫరి আমিও কোনদিন ওই রকম না হই ভাই— —বালাই ষাট, তুমি কেন অমন হতে যাবে ভাই ?...ধরো, আমার হাত ধরো ভাই, বড় ਚੈੱੋ-ਜੀਵੂ এই অন্ধ পটলের বউ। এর ওপরও এমন মায়া হয় শরতের ! কে আছে এর জগতে, কেউ নেই—পটল ছাড়া । আজ যদি, ভগবান না করন, পটলের কোন ভালমন্দ হয়, তবে কাল এই নিঃসহায় অন্ধ মেয়েটি দাঁড়ায় কোথায় ? আবার ওই রাস্তার ধারের পাগলীর কথা মনে পড়ে। জগতে যে এত দঃখ, ব্যথা, কট আছে, শরৎ সেসব কিছু খবর রাখতো না । গড়শিবপরের নিভৃত বনবিতান শ্যামল আবরণের সংকীর্ণ গন্ডী টেনে ওকে স্নেহে যত্নে মানুষ করেছিল—বহিsজগতের সংবাদ সেখানে গিয়ে কোনোদিনও পে"ছোয় নি । শরৎ জগৎটাকে যে-রকম ভাবত, আসলে এটা সে রকম নয়। এখন তার চোখ ফুটেছে, জীবনে এত মৰ্ম্মান্তিক দুঃখের মধ্যে দিয়েই তবে সে উদার দটি লাভ হয়েছে তার, একএকদিন গঙ্গার ঘাটে চুপ করে বসে থাকতে থাকতে শরতের মনে ওঠে এসব কথা। আগেকার গড়শিবপুরের সে শরৎ যে আর সে নেই—সেটা খুব ভাল করেই বোঝে। সে শরৎ ছিল মনেপ্রাণে বালিকা মাত্র । বয়স হয়েছিল যদিও তার ছাবিশ—দটি ছিল রাজলক্ষীর মতই, সংসারের কিছু বুঝত না, জানত না। সব লোককে ভাবত ভাল, সব লোককে ভাবত তাদের হিতৈষী । সেই বালিকা শরতের কথা ভাবলে এ শরতের এখন হাসি পায় । শরৎ মনে এখন যথেষ্ট বল পেয়েছে । কলকাতা থেকে আজ এসেছে প্রায় দেড় বছর, যে ধরনের উদভ্ৰান্ত, ভীর মন নিয়ে দিশেহারা অবসহায় পালিয়ে এসেছিল কলকাতা থেকে— এখন সে মন যথেস্ট বল সঞ্চয় করেছে । দুনিয়াটা যে এত বড়, বিস্তত—সেখানে যে এত ধরনের লোক বাস করে, তার চেয়েও কত বেশী দুঃখী অসহায়, নিরাবলম্ব লোক যে তার মধ্যে রয়েছে, এই সব জ্ঞানই তাকে বল দিয়েছে। সে আর কি বিপদে পড়েছে, তার চেয়েও শর্তগণে দুঃখিনী ওই গণেশ-মহল্লার পাগলী, এই অন্ধ পটলের বউ । এই কাশীতে সেদিন সে এক বাড়ীকে দেখেছে দশাশ্বমেধ ঘাটে, বয়স তার প্রায় সত্তর-বাহাত্তর, মাজা ভেঙে গিয়েছে, বাংলা দেশে বাড়ি ছিল, হাওড়া জেলার কোন এক পাড়াগাঁয়ে । কেউ নেই বড়ীর, অনেক দিন থেকে কাশীতে আছে, ছত্ৰে ছত্রে খেয়ে বেড়ায় । 穩 সেদিন শরৎকে বললে, মা, তুমি থাকো কোথায় গা ? —কাছেই । কেন বলন তো ? —তোমরা ? —ব্রাহ্মণ । —আমায় দটো ভাত দেবে একদিন ? —আমার সে সবিধে নেই মা। আমি পরের বাড়ি থাকি। আপনার মত অবস্থা। কেন, আপনি খান কোথায় ? —পটের ছত্তরে খেতাম, সে অনেকদরে। অত দরে আর হটিতে পারি নে--আজকাল আবার নিয়ম করেছে একদিন অন্তর মাদ্রাজীদের ছত্তরে ডাল ভাত দেয়। তা সে-সব তরকারী নারকোল তেলে রান্না মা । আমাদের মখে ভাল লাগে না। আজ এক জায়গায় ভোজ দেবে, সেখানে যাবো—ওই পড়েদের ধম্মশালায়—চলো না, যাবে মা ? —কতদনর ?