পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ల్సఆ বিভূতি-রচনাবলী —চলো, আজ কুচবিহারের কালীবাড়িতে খুব কান্ড, সেখানে যাই । নাটকোটার ছত্তর চেন ? —না মা, আমি কোথাও যাই নি— - —চলো আজ সব দেখিয়ে আনি— সারা বিকেল তিন-চারটি বড় বড় ছত্রে শরৎ কাঙালী ভোজন, ব্রাহ্মণ ভোজন দেখে বেড়াল। বাঙালীটোলা ছাড়িয়ে অনেক দর পয্যন্ত পাঁচিল দিয়ে ঘেরা বিরাট কালীবাড়ি ও ছত্র কুচবিহার মহারাজের। কালী মন্দিরের দেওয়ালে কত রকমের অস্ত্রশস্ত্র, কি চমৎকার বন্দোবস্ত অনাহত রবাহত গরীব, নিরন্ন সেবার ! মেয়েদের জন্যে খাওয়ানোর আলাদা জায়গা, পুরুষদের আলাদা, ব্রাহ্মণদের আলাদা । এত অকুণ্ঠ অন্নদান সে কখনো কল্পনাও করতে পারে নি । শরৎ বললে, হ্যা, মা, এখানে যে আসে তাকেই খেতে দেয় ? —কুচবিহারের কালীবাড়িতে তা দেয় গো । তবুও আজকাল কড়াকড়ি করেছে। হবে না কেন, বাঙাল দেশ থেকে লোক এসে সব নণ্ট করে দিয়েছে । —আমি নিজে যে বাঙাল—হ’্যা, মা— o শরৎ কথা বলেই হেসে ফেললে । বড়ী কিছুমাত্র অপ্রতিভ না হয়ে বললে, হ্যা গো, বাঙাল না ছাই, তোমার কথায় বুঝি বোঝা যায় কিছ, চলো চলো—নাটকোটার ছত্তর দেখিয়ে আনি— নাটকোটার ছত্রে যখন ওরা গেল, তখন সেখানকার খাওয়া-দাওয়া শেষ । বাইরের গরীব লোকেরা ভাত নিয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ । শরৎ বললে, এ কাদের ছত্র মা ? —তৈলিঙ্গিদের ছত্তর । এখানে খেতে এসেছিলাম একদিন, ডালে যত বা টক, তত বা লঙ্কা। সে মা আমাদের পোষায় না। তুন্ডুম ডুদের পোষায়, ওদের মখে কি সোয়াদ আছে মা ? শরৎ হেসে কুটি কুটি । বললে, তু"ডুম ডু কারা মা ? —আরে ওই তৈলিঙ্গিদের কথাবাত্তা শোনো নি ? তু"ডুমডু না কি সব বলে না ? —আমি কখনো শুনি নি। অামায় একদিন শোনাবেন তো"। —একদিন খাওয়া-দাওয়ার সময় নাটকোটার ছত্তরে নিয়ে আসবো—দেখতে পাবে— —আর কি ছত্তর আছে ? - —এখনো রাজরাজেশ্বরী ছত্তর, পটের ছত্তর, আমবেড়ে—আহিল্যেবাই— —সব দেখবো মা, আজ সব দেখে আসবো— সমস্ত ঘরে শেষ করতে ওদের প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। বড়ী বললে, কাশীতে ভাতের ভাবনা নেই, অন্নপণো মা দ-হাতে অন্ন বিলিয়ে যাচ্ছেন— শরৎ বাসায় ফিরে এসে ভীষণ অন্যমনস্ক হয়ে রইল। তার সকলের চেয়ে ভাল লেগেছে কাশীর এই অন্নদান । এমন একটা ব্যাপারের কথা সত্যিই সে জানত না। ডাল ভাত উননে চাপিয়ে দিয়ে সে শধে ভাবে ওই কথাটা । তার আর কিছ ভাল লাগে না। কাল সকাল সকাল এদের খাইয়ে-দাইয়ে দিয়ে সে আবার বেরবে ছত্র দেখতে । ছত্রে খাওয়ানোর দশ্য সে মাত্র দেখলে কুচবিহারের কালীবাড়িতে। অন্য ছত্রে যখন গিয়েছিল তখন সেখানকার খাওয়ানো বন্ধ হয়ে গিয়েছে । সে দেখতে চায় দচোখ ভরে এই বিরাট অন্নব্যয়, অকুণ্ঠ সদাব্রত—যেখানে গণেশমহল্লার পাগলীর মত, ওই অন্ধ রেণুকার মত, তার নিজের মত, ওই সত্তর বছরের মাঙ্গা-ভাঙা বাড়ীর মত—নিরন, নিঃসহায় মানুষকে দুবেলা খেতে