পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা లషీలి গৌরী-মা বললেন, তাঁর কৃপায় সব হয় বাবা, তিনিই সব করছেন—আপনি আমি নিমিত্ত 5Tो । বাসায় ফিরে আসবার পথে শরতের কেবলই মনে হচ্ছিল, যদি কমলার সঙ্গে একবারটি পথেঘাটে কোথাও দেখা হয়ে যেতো, কি মজাই হ’ত তা হলে । কলকাতার মধ্যে যদি কারো সঙ্গে দেখা করবার জন্যে প্রাণ কেমন করে—তবে সে সেই হতভাগিনী বালিকার সঙ্গেই আবার সাক্ষাতের আশায় । কাশীতে গিয়ে এই দেড় বৎসরে সে অনেক শিখেছে, অনেক বুঝেছে। এখন সে হেনাদের বাড়ি আবার যেতে পারে, কমলাকে সেখান থেকে টেনে আনতে পারে, সে সাহস তার মধ্যে এসে গিয়েছে । কিন্ত দুঃখের বিষয় সে হেনাদের বাড়ির ঠিকানা জানে না, শহর বাজারে ঘরবাড়ির ঠিকানা বা রাস্তা না জানলে বের করতে পারা যায় না, আজকাল সে বুঝেছে । কলকাতায় এসে আবার তার বড় ভাল লাগছে । কাশী তো পণ্যস্হান, কত দেউল দেবমন্দির, ঘাট, যত ইচ্ছে স্নান কর, দান কর, পণ্যে কর – স্বয়ং বাবা বিশ্বনাথের সেখানে অধিষ্ঠান। কিন্ত কলকাতা যেন ওকে টানে, এখানে এত জিনিস আছে যার সে কিছুই বোঝে না—সেজন্যেই হয়তো কলকাতা তার কাছে বেশী রহস্যময় । এত লোকজন, গাড়িঘোড়া, এত বড় জায়গা কাশী নয় । 隐 শরৎ বলে, জ্যাঠামশায় আপনি কোন কোন দেশে বেড়ালেন ? —বাংলা দেশের কত জায়গা পায়ে হেটে বেড়িয়েছি মা, বন্ধমানে গিয়েছি, বৈচি, শক্তিগড়, নারানপরে গিয়েছি। রাঢ় দেশের কত বড় বড় মাঠ বেয়ে সন্দেবেলা সমুখ অধির রাত্তিরে একা গিয়েছি। খড় তালগাছ ঘেরা দীঘি, জনমানব নেই কোথাও, লোকে বলে ঠ্যাঙাড়ে ডাকাতের ভয়—এমন সব দীঘির ধারে সারাদিন পথ হাটবার পরে বসে চাটি জলপান খেয়েছি । একদিন সে কথা গলপ করবো তোমাদের বাড়ি বসে। —বেশ জ্যাঠামশায় । —বেড়াতে বড় ভাল লাগে আমার । আগে বাংলাদেশের মধ্যেই ঘরতাম, এবার গয়া কাশীও দেখা হ’ল— —আমারও খুব ভাল লাগে। বাবা কোনো দেশ দেখেন নি, বাবাকে নিয়ে চলন আবার আমরা বের বো— —খব ভাল কথা মা। চলো এবার হরিদ্ধারে যাবো— —সে কতদর ? কাশীর ওদিকে ? —সে আরও অনেক দরে শুনেছি। তা হোক, চলো সবাই মিলে যাওয়া যাক-বান্দাবন হয়ে যাবো—তোমার বাবাও চলন । —জ্যাঠামশায় ? —কি মা ? —বাবার দেখা পাবো তো ? —আমি যখন কথা দিয়েছি মা, তুমি ভেবো না । সে বিষয়ে নিশ্চিন্দি থাকো । পরদিন গোপেশ্বর চাটুজে শরৎকে কলকাতায় তাঁর সবগ্রামবাসী কৃষ্ণচন্দ্র মোদকের বাসায় রেখে দদিনের জন্যে গড়শিবপরে গেলেন। শরৎকে আগে হঠাৎ গ্রামে না নিয়ে গিয়ে ফেলে সেখানকার ব্যাপার কি জানা দরকার। গড়শিবপরে গিয়ে সম্প্রধান নিয়ে কিস্ত তাঁর চক্ষস্থির হয়ে গেল, যা শনলেন সেখানে। গ্রামের লোকে বললে, কেদার রাজা বা তাঁর মেয়ে আজ