পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


OరిO বিভূতি-রচনাবলী জিজ্ঞেস করবারকি দরকার তিনিবঝেতে পারলেন না। জগন্নাথ চাটুজে পরের ছিদ্র অনুসন্ধান করে জীবন কাটিয়ে দিলেন কি না, তাই ভয় হয় । গোপেশ্বরকে দেখিয়ে জগন্নাথ বললেন, ইনি সেই একবার তোমার এখানে এসেছিলেন না ? চমৎকার হাত তবলার। একদিন শুনতে হবে আবার । —হTা । —শরৎ বুঝি এর পরিবারের সঙ্গে তাঁথ* করে এল ? —হ’্যা । —বেশ বেশ । জগন্নাথ চাটুজে হঠাৎ বললেন, ভাল কথা কেদার ভায়া, শনেছ বোধ হয় প্রভাসের বাবা হারান বিশ্বেস মারা গিয়েছে আজ বছরখানেক হ'ল। প্রভাসদের কলকাতার বাড়িতে তোমরা তো প্রথম যাও—না ? কেদারের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল । জগন্নাথ চাটুজে কতটা জানে বা না জানে আন্দাজ করা শক্ত। কি ভেবে ও কি কথা বলছে, তাই বা কে জানে ? হঠাৎ প্রভাসের কথা তোলার মানে কি ? - তবুও সত্য কথার মার নেই ভেবে তিনি বললেন, প্রভাসদের বাড়িতে তো ছিলাম না আমরা ; একটা বাগানবাড়িতে আমাদের থাকবার জায়গা করে দিয়েছিল । —কতদিন সেখানে ছিলে তোমরা ? —বেশি দিন নয়—দিন পনেরো । —তার পর কোথায় গেলে ? এইবার জবাব দিলেন গোপেশ্বর চাটুজে । বললেন, তার পর একদিন আমার সঙ্গে হঠাৎ দেখা । আমি ওদের সঙ্গে দেখা করলাম বাগানবাড়িতে গিয়ে তার পরদিন সকালে । আমার বাড়ির সকলে তীথ করতে বেরিয়েছিল—সেই সঙ্গে শরৎকে নিয়ে গেলাম । রাজামশাই দেশে চলে আসছেন, হিংনাড়ার বাজারে ঘোষেদের আড়তের একজন কমচারীর সঙ্গে ও’র চেনা ছিল—সে নিয়ে গিয়ে চাকরি জটিয়ে দিলে । এই হ'ল মোট ব্যাপার। কেমন, এই তো রাজামশাই ? —হ*্যা, ওই বৈকি । եկ দপারবেলা। কেউ কোথাও নেই। গোপেশ্বর কালোপায়রার দীঘিতে মাছের চার করতে গিয়েছেন, আহারাদির পর কেদারকে নিয়ে মাছ ধরতে যাবেন। শরৎ বাবাকে একা পেয়ে বললে, আচ্ছা বাবা, আমার খোঁজ করলে না কেন ? কেদার এ কথার কি উত্তর দেবেন ? এ সব ব্যাপারকে তিনি এড়িয়ে চলতে চান— জীবনের সব চেয়ে বড় ধাক্কাকে তিনি ভুলে যেতে চেণ্টা করে আসছেন—তাঁর সব চেয়ে ভয় মেয়ে পাছে আবার ঐসব কথা তোলে । আমতা আমতা করে বললেন, তা—খোঁজ করি কোথায় ? আমার— —তোমাকে ওরা বলেছিল আমি ইচ্ছে করেই তোমার সঙ্গে দেখা করি নি—না ? বলো বাবা, তা যদি বিশ্বাস করে থাকো আমি তোমার সামনেই দীঘির জলে ডুবে মরবো । এবার কেদার যেন একটু বিচলিত হলেন, তাঁর অনড় আত্মম্বাচ্ছন্দ্য"বোধ এইবার একটু ধাক্কা খেলে । মেয়ের মুখের দিয়ে চেয়ে তিরস্কারের সরে বললেন, তাই তুই বিশ্বাস করিস যে আমি ওসব ভাবতে পারি ? দে—একটু তেল দে মাখবার—দেখি আবার গোপেশ্বর ভায়া মাছের চারের কতদরে কি করলে। তোর রান্না হ’ল ?