পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


రిలిషి বিভূতি-রচনাবলী শরৎ বললে, এই দেড় বছরে গায়ের খবর বল—কিছই তো জানি নে । —চিন্তে বড়ী মরে গিয়েছে জানো ? —আহা, তাই নাকি ? কবে মোলো ? —ফালগন মাসে । গরপদ জেলের সেই হাবা ছেলেটা মরে গিয়েছে আষাঢ় মাসে । ম্যালেরিয়া জনরে । —আহা ! --পাঁচী গয়লানীর বাড়ি চোর ঢুকে সব বাসন নিয়ে গিয়েছিল। থানার দারোগা এল, এর নাম লিখলে, ওর নাম লিখলে—কিছুই হ’ল না শেষটা । —ভাল কথা, ওপাড়ার সেজখড়ীমার ছেলেপিলে হবে দেখে গিয়েছিলাম— —একটা ছেলে হয়েছে—বেশ ছেলেটি । দেখতে যাবে কাল ? —বেশ তো চল না । সাতকড়ি চৌধুরীর মেয়ের বিয়ে হয়েছে ? —কেন হবে না ? হাতে পয়সা আছে—মেয়ের বিয়ে বাকি থাকে ? শরৎ হেসে বললে, কেন রে, তোর বুঝি বড় দুঃখ-বিয়ে না হওয়ায় ? —কার না হয় শরৎদি, যদি সত্যি কথা বলা যায় । যেমনি মা হিম হয়ে বসে আছে, তেমনি মেজখড়ীমা হিম হয়ে বসে আছে—আমার এদিকে আঠারো পেরলো, লোকের কাছে বলে বেড়ান পনেরোতে নাকি পা দিইছি। এমন রাগ ধরে ! শরৎ হেসে গড়িয়ে পড়ে আর কি । —ওমা, তুই হাসালি রাজলক্ষী । আজকালকার মেয়ে সব হ’ল কি ? সত্যি রে তোর মনে কট হয় ? —ঐ যে বললাম দিদি, সত্যি কথা বললে হাসবে সবাই । তুমি বললে, তাই বললাম । —আমি দেখবো রে তোর সম্বন্ধ ? —না, হাসি না শরৎদি । এতদিন তুমি ছিলে না—আমার মন পাগল-পাগল হয়ে উঠত। এই গাঁয়ে একঘেয়ে থাকলে মানুষ পাগল হয়ে যায় না তুমিই বলো ? তার চেয়ে মনে হয়—যা হয় একটা দেখে-শনে দে, একঘেয়েমির হাত থেকে নিস্তার পাই । জামালাম গড়শিবপর, তো রয়েই গেলাম সেই গড়শিবপুরে । এই যে তুমি কত দেশ বেড়িয়ে এলে শরৎদি, কেন বেড়িয়ে এলে ? নতুন জিনিস দেখবার জন্যে তো ? শরৎ গভীর সরে বললে, আমার কপাল দেখে হিংসে কৗরস নে ভাই । তোকে সব খলে বলবো সময় পেলে । রাজলক্ষী বিস্ময়ের সরে বললে, কেন শরৎদি ? —সে কথা এখন না ভাই-বাবা আসছেন, সরে আয়— কেদার গামছায় মাথা মুছতে মুছতে বললেন, কে ও ? রাজলক্ষসী । বেশ মা বেশ । হ’্যা ভাল কথা শরৎ—মনে পড়ল নাইতে নাইতে—তোর মায়ের সেই কড়িগুলো কোথায় আছে মা ? শরৎ হেসে বললে, কোনো ভয় নেই বাবা ৷ লক্ষীর হাঁড়িতেই আছে। প্রথম দিন এসেই আমি আগে দেখে নিয়েছি । ঠিক আছে । —ও, তা বেশ । আর—ইয়ে—তোর মার সেই ভাঙা চিরনিখানা ? —সেই গোল তোরঙ্গের মধ্যে রেখে গিয়েছিলাম, সেইখানেই আছে। সেও দেখে নিয়েছি সেদিন । —ইয়ে, ডাকি তবে গোপেশ্বর দাদাকে ? রান্না হয়েছে তো ? কেদার আবার গেলেন পুকুরপাড়ে গোপেশ্বর চাটুজেকে ডাকতে । শরৎ মদ হেসে