পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা එඌළු রাজলক্ষীকে বললে, দটি নিকম" আর নিশ্চিন্দি লোক এক জায়গায় জটেছে, জ্যাঠামশায় আর বাবা—দই-ই সমান । দুটিতে জড়ি মিলেছে ভালো । কেদার বলতে বলতে আসছিলেন, বেহালা বাজাই নি আজ দেড় বছর দাদা। তারগলো সব ছিড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে । আজ ওবেলা ছিবাসের ওখানে আসর করা যাক গিয়ে । তোমার তবলাও অনেক দিন শোনা হয় নি । তেরে দিন দশ-পনেরো কেটে গেল । এ দিনগুলো কেদার ও গোপেশ্বরের কাটলো খুব ভালই । ছিবাস মদির দোকানে প্রায়ই সন্ধ্যার পর ছে’ড়া মাদর আর চট পেতে আসর জমে, কেদার এসেছেন শনে তাঁর পরানো কৃষ্ণযাত্রা দলের দোহার, জড়ি, একানে গায়কেরা কেউ জাল রেখে, কেউ লাঙল ফেলে ছুটে আসে । —রাজামশাই ? ভাল ছেলেন তো ? এটা পায়ের ধলো দ্যান— —বাবাঠাকুর, এ্যান্দিন ছেলেল কনে ? মোদের দল যে একেবারে কানা পড়ে গেল আপনার জন্য । 鬱 গে"য়োহাটি কাপালী পাড়ার মধ; কাপালী, নেত্য কাপালী এসে পীড়াপীড়ি— গেয়োহাটিতে একবার না গেলে চলবে না। সবাই রাজামশাইকে একবার দেখতে চায় । এদের ওপর কেদারের যথেষ্ট আধিপত্য, অন্য সময় যে কেদার নিতান্তনিরীহ—এদের দলের দলপতি হিসাবে তিনি রীতিমত কড়া ও উগ্র মেজাজের শাসক । মধকে ডেকে বললেন, তোর যে সেই ভাইপো দোয়ার দিতো সে কোথায় ? —আজ্ঞে সে পাট কাটছে মাঠে— কেদার মুখ খিচিয়ে বলেন, পাট তো কাটছে বুঝতে পারছি, চাষার ছেলে পাট কাটবে না তো কি বড় গাইয়ে হবে ? কাল একবার ছিবাসের এখানে পাঠিয়ে দিও তো ? বুঝলে ? —যে আজ্ঞে রাজামশাই— —আর শশীকে খবর দিও, দু-বছরের খাজনা বাকী। খাজনা দিতে হবে না ? নিকের জমি ভোগ করতে লাগল যে একেবারে— নেত্য কাপালী এগিয়ে এসে বললে, বাবাঠাকুর, আপনি যদি বাড়ি থাকতেন, তবে সবই হত। তারা খাজনা নিয়ে এসে ফিরে গিয়েল— কেদার ধমক দিয়ে বললেন, তুই চুপ কর—তোকে ফোপর-দালালি করতে বলেছে কে ? কেদারের নামে বহু লোক জড়ো হয় ছিবাসের দোকানে—কেদারের বেহালার সঙ্গে মিশেছে ওস্তাদ গোপেশ্বরের তবলা । পাড়াগাঁয়ে নিঃসঙ্গ দিনে রাত্রে সময় কাটাবার এতটুকু সত্রও যারা নিতান্ত আগ্রহে অকিড়ে ধরে—তাদের কাছে এ ধরনের গণী-সম্মেলনের মল্য অনেক বেশী। দু-তিনখানা গ্রাম থেকে লোকে লণ্ঠন হাতে লাঠি হাতে জতো বগলে করে এসে জোটে । সেই পরোনো দিনের মত অনেক রাত্রে দুজনেই অপরাধীর মত বাড়ি ফেরেন। শরৎ বলে, এলে ? ভাত জড়িয়ে জল হয়ে গিয়েছে— গোপেশ্বর আমতা আমতা করে বলেন—আমি গিয়ে বললাম মা রাজামশায়কে—যে শরৎ বসে থাকবে হাঁড়ি নিয়ে—তা হয়েছে কি, উনি সত্যিকার গণী লোক, ছড়ে ঘা পড়লে আর শিহর থাকতে পারেন না । জ্ঞান থাকে না মা— কেদার গোপেশ্বরের পেছনে দাঁড়িয়ে মনে মনে কৈফিয়ৎ তৈরী করেন।