পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা రిరీసీ দজনে পা ছড়িয়ে বসে গল্প করি— ==আর চাল-ছোলা ভাজা খাই—না রে ? ভাজি দটো চাল-ছোলা ? —না না শরৎদি । ঐ তোমার পাগলামি— —পাগলামি নিয়েই জীবন । আয় আমার সঙ্গে রান্নাঘরে, তার পর আবার দুজনে এসে বসবো । রাজলক্ষী আজকাল সর্বদা শরতের সঙ্গে থাকতে ভালবাসে । সম্পধ্যার আগে একাই বাড়ি চলে যায়, শরৎ দিদির মখে বাইরের জগতের কথা শুনতে ওর বড় আগ্রহ, যে একঘেয়ে জীবন আবাল্য সে কাটাচ্ছে গড়শিবপরে, যার জন্যে তার মনে হয় এ একঘেয়েমির চেয়ে যে " কোনো জীবন বাঞ্ছনীয়, যে কোনো ধরনের—শরৎ দিদি আজ কিছু দিন হ’ল বিদেশ থেকে ফিরে সেই একঘেয়ে আবেস্টনীর মধ্যে যেন আগ্রহ ও নতুনত্বের সঞ্চার করেছে। তা ছাড়া জীবনে শরৎ দিদিই তার একমাত্র ভালবাসার লোক, ও দরে চলে যাওয়াতে রাজলক্ষীর জীবন শুন্য হয়ে পড়েছিল, এখন আবার গড়বাড়িতে এসে, ওর সঙ্গে বসে গল্প করে, ওর সামান্য কাজকম্মেম সাহায্য করে রাজলক্ষীর অবসর-ক্ষণ ভরে ওঠে । শরৎ বললে, রেণুকার চিঠির জবাব দিলাম অনেক দিন, উত্তর তো এল না ? —আসবে। অত ব্যস্ত কেন ? দিন দশেক হ’ল মোটে জবাব গিয়েছে। ঠিকানা লেখা ঠিক হয়েছিল তো ? o —ঠিকানা লিখে দিয়েছিলেন জ্যাঠামশায় । উনি কি আর ভুল করবেন ? আমার-বড় মন কেমন করে খোকনমণির জন্যে। সে যদি চিঠি লিখতে পারতো আমায় নিজের হাতে— রাজলক্ষয়ী হেসে বললে, একেই বলে মায়া । কোথাকার কে তার ঠিক নেই— শরৎ ব্যথা-কাতর কণ্ঠে বললে, অমন বলিস নে রাজি । তুই জানিস নে, সে আমার কি। কেন তাকে ভুলতে পারি নে তাই ভাবি । কখনো অমন হয় নি আমার, কাশীতে থাকবার শেষ একটা মাস যা হয়েছিল। খোকাকে না দেখলে পাগলের মত হয়ে যেতাম, বুঝলি ? কন্টও যা গিয়েছে । আচ্ছা বল তো, সত্যিই সে আমার কে ? অথচ মনে হ’ত কত জন্মের আপনার লোক সে, তার মুখ দিনান্তে একবার না দেখলে—ভালই হয়েছে রাজি, সেখানে বেশিদিন থাকলে মায়ায় বন্ড জড়িয়ে পড়তাম । আর তেমনি ছিল মিনার মা ! —সে কে শরৎদি ? —যাদের বাড়ি ছিলাম, সে বাড়ির গিন্নী । বলবো তোকে সব কথা একদিন । এখন না— —কাশীর কথা শুনতে বন্ড ভাল লাগে তোমার মাথে—কখনো কিছু দেখি নি—যেন মনে হয় এখানে বসে দেখছি সব—আজ একটু ঠাণ্ডা পড়েছে, না শরৎদি ? —তা হেমন্তকাল এসে পড়েছে, একটু শীত পড়বার কথা। একটা নারকেল কুরতে হবে —দা-খানা খুজে দ্যাখ ততক্ষণ—আমি ছোলাগুলো ততক্ষণ ভেজে ফেলি— —কেন অত হাঙ্গামা করছো শরৎদি ? দাঁড়াও আমি নারকোল কুরে দিই— শরৎ বললে, দুজনে পা ছড়িয়ে বসে গল্প করবো আর চালভাজা—কি বলিস ? ছেলেমানষের মত উৎসাহ ও আগ্রহভরা কণ্ঠস্বর তার। এই জন্যই শরৎ দ্বিদিকে রাজলক্ষীর এত ভাল লাগে। এই পাড়াগাঁয়ে সব লোক যেন ঘমেনুচ্ছে, তাদের না আছে কোনো বিষয়ে আগ্রহ, না শোনা যায় তাদের মখে একটা ভাল কথা । অলপ বয়সে বড়িয়ে যেতে হয় ওদের মধ্যে থাকলে । শরৎ দিদি এসে বাঁচিয়েছে। রাজলক্ষী হঠাৎ মনে পড়বার সরে বললে, ভাল কথা, বলতে মনে নেই শরৎদি, টুঙিমাজদে থেকে তোমার নামে একখানা চিঠি এসেছিল একবার—