পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা ෆ86 তার কি কেউ নেই সংসারে ? কেউ তার দিকে দাঁড়িয়ে, তার হয়ে দটো কথা বলবে না ? প্রভাস ও গিরীন যদি তার নামে কুৎসা রটিয়ে দেয় গ্রামে, তবে তাদের কথাই সবাই সত্য বলে মেনে নেবে ? তার কথা কেউ শুনবে না ? এমন সময় কেদার ও গোপেশ্বর এসে পে"ছে গেলেন । তাঁরা মুখতেজ-বাড়ির জামাই সোমেশ্বরের কাছে নতুন রাগিণীর সন্ধানে গিয়েছিলেন, বোধ হয় খানিকটা কৃতকায"ও হয়েছেন, তাঁদের মুখ দেখলে সেটা বোঝা যায়। @ গোপেশ্বর খেতে খেতে বললেন—গলাটা ভাল লোকটার। —বেশ । ভৈরবীখানা গাইলে, বড় চমৎকার—অবরোহীতে একবার যেন ধৈবৎ ছয়ে নামলো== —না না । আমার কানে তো শুনলাম না। কোমল ধৈবৎ তো লাগবেই অবরোহীতে— —সেটা আমার খুব ভাল জানা আছে-শনবে ? এই শোন না—আচ্ছা খেয়ে উঠি । অবরোহীতে কোমল নিখাদ, তার পরেই কোমল ধৈবৎ আসছে । যেমন— শরৎ বললে, বাবা খেয়ে নাও দিকি । এর পর ওর অনেক সময় পাবে। —এটা কিসের চচ্চড়ি মা ? ' —মেটে আল। রাজলক্ষী আর আমি তুলে এনেছিলাম আজ ওই বনের দিক থেকে— —রাজলক্ষয়ী এসেছিল নাকি ? —কতক্ষণ ছিল । এই তো খানিকটা আগে গেল— —ওর বিয়ের কথা শ,নে এলাম কিনা—তাই বলছি— —আমার সঙ্গে অত ভাব, ও চলে গেলে গায়ের আর কেউ এদিকে মাড়াবে না। ওকে একটা কিছল দিতে হবে বাবা— —কি দিবি ? —তুমি বলো বাবা— —আমি ওসব বুঝি নে। যা বলবি, কিনে এনে দেবো—ওসব মেয়েলি কাণ্ডকারখানার আমি কোনো খবর রাখি নে— আহারান্তে কিছুক্ষণ বিগ্রাম করে দুজনে হাটে চলে গেলেন, আজ পাশের গ্রামে হাট। পবে” হাট ছিল না, দই জমিদারে বাদাবাদির ফলে আজ বছরখানেক নতুন হাট বসেছে। হাটের খাজনা লাগে না বলে কাপালীরা তরিতরকারী নিয়ে জমা হয়—সস্তায় বিক্রি করে । অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহ শেষ হয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহ পড়েছে। অথচ এবার শাঁত এখনও তেমন পড়ে নি। বাবা ও জ্যাঠামশায় চলে গেলে শরৎ রোদে পিঠ দিয়ে বসে আবার সেই একই কথা ভাবতে লাগল । গড়ের খাল পার হয়ে দেখা গেল রাজলক্ষী আসছে। ওর জীবনে যদি কেউ সত্যিকার বন্ধ থাকে তবে সে রাজলক্ষী, ও এলে যেন বাঁচা যায়, দিন কাটে ভাল । রাজলক্ষয়ী আসতে আসতে বললে, আজ একটু শীত পড়েছে শরৎদি—না ? —আয় আয়, তোর কথাই ভাবছি— —তুই চলে গেলে যেন ফাঁকা হয়ে যায়, আয় বোসশরৎ ভাবছিল বটুকের কথাটা বলা উচিত হবে কি না। কিন্ত তা হলে অনেক কথাই ওকে এখন বলতে হয়—রাজলক্ষী তাকে কিছল যদি মনে করে সব শনে ? শরৎ তা হলে মরে যাবে—জীবনের মধ্যে দটিমাত্র বন্ধ সে পেয়েছে—অন্ম রেণুকা আর এই রাজলক্ষী।