পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


එ8ෂී বিভূতি-রচনাবলী এদের কাউকে সে হারাতে প্রস্তত নয় । আর একটি মেয়ের কথা মনে হয়—হতভাগিনী কমলার কথা—কে জানে সেই পাপপরীর মধ্যে কি ভাবে সে দিন কাটাচ্ছে ? - সরলা শরৎ জানত না—পাপে যারা পাকা হয়ে গিয়েছে, তাঁদের পাপপণ্য বলে জ্ঞান অলপ দিনেই তারা হারিয়ে ফেলে, পাপে ও বিলাসে মত্ত হয়ে বিবেক বিসর্জন দেয় । কোনো -অসুবিধাতে আছে বলে নিজেকে মনে করে না। পণ্যের পথই কণ্টকসকুল, মহাদুঃখময়— পাপের পথে গ্যাসের আলো জলে, বেলফুলের গড়ে মালা বিক্রি হয়, গোলাপ জলের ও এসেন্সের সগন্ধ মন মাতিয়ে তোলে । এতটুকু ধুলো কাদা থাকে না পথে । ফুলের পাপড়ির মত কোঁচা পকেটে গজে দিব্যি চলে যাও । রাজলক্ষী বললে, দিন ঘনিয়ে এল, তাই তো তোমায় ছাড়তে পারি নে— —হ:—কি ভাবছো শরৎদি ? শরৎ চমক ভেঙে উঠে বললে—কই না—কিছল না । হ’্যা রে, তুই আশাদিদির বরের গান শুনেছিস ? খাব নাকি ভাল গায় ? বাবা আর জ্যাঠামশায় সেখানে ধন্না দিয়ে পড়ে আছেন আজ ক'দিন থেকে । দিন দশেক থেকে দেখছি— —ও । তাই শরৎদি ! মুখতেজ-বাড়ির দিকে যেতে দেখেছি বটে ওদের আজ সকালে— —রোজ সেখানে পড়ে আছেন দুজনে—কি সকাল, কি বিকেল-কেমন গান গায় রে লোকটা ? —হিন্দী-মিদি গায়—কি হা হা করে, হাত-পা নাড়ে, আমার ও ভাল লাগে না । দুজনে সন্ধ্যার পর্বে পৰ্য্যস্ত গল্প করলে, সন্ধ্যার আগে প্রতিদিনের মত রাজলক্ষী চলে গেল, শরৎ এগিয়ে দিতে গেল । অলপ অলপ অন্ধকার হয়েছে, ভারি নিজনি গড়বাড়ির জঙ্গল । শরৎ ভয় পায় না একটুও, বরং এতকাল পরে তার বড় ভাল লাগে। এসব জিনিস তার হারিয়ে গিয়েছিল, আবার সে ফিরে পেয়েছে। চিরদিনের গড়বাড়ির জঙ্গল তার পল্লবপ্রচ্ছায় বীথিপথে কত কি বনপপের সবাস ও বনবিহঙ্গের কলকাকলী নিয়ে বসে আছে, পিতৃপিতামহের পায়ের দাগ আজও যেন অাঁকা আছে সে পথের ধলোয়, মায়ের স্নিগ্ধ স্নেহদটি কোন কোণে সেখানে যেন লকিয়ে আছে আজও—তাই তো মনে হয়, তার যদি কোনো পাপ হয়ে থাকে নিজের অজ্ঞাতে-সব কেটে গিয়েছে এখানে এসে, ধরে মুছে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে । রাজলক্ষীর বিবাহে বেশী ধুমধাম হবে না, গ্রামের সকলকে ওরা বিবাহ-রাত্রে নিমন্ত্রণ করতে পারবে না বলে বেছে বেছে নিমন্ত্রণ করছে। কেদার ও গোপেশ্বর দুজনেই অবিশ্যি নিমতি—এসব খবর কেদারই আনলেন। শরৎ বললে, বাবা, ওর বিয়েতে কি একটা দেওয়া যায় বলো না— —তুই যা বলবি, এনে দেবো । —তুমি যা ভাল ভাবো, এনো। —আমি তো তোকে বললাম, ওসব মেয়েলি ব্যাপারে আমি নেই— —টাকা আছে ? —আড়তে চাকরি করার দরন টাকা তো খরচ হয় নি। সেগুলো আছে একজনের কাছে জমা । কত চাই বলে দে– —আইবড়ো ভাতের একখানা ভাল শাড়ি দাও আর এক জোড়া দল—ও আমার বড় ভালবাসে, আমার ছোট বোনের মত। আমার বড় সাধ—