পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ষালাবদল θάq কোন গভীর তলদেশে আরও পাঁচটা পরানো দিনের আদশে’র ও কৌতুহলের বস্তর স্তপের সঙ্গে ভন্ডুলমামা ও তাঁর বাড়িও চাপা পড়ে গিয়েচে । তাই ঈষৎ অবজ্ঞামিশ্রিত চোখে সামান্য একটু কৌতুহলের সঙ্গে চেয়ে দেখলাম মাত্ৰ—ভন্ডুলমামার বয়স পঞ্চাশের ওপর হবে, টিকিতে একটা মাদলী বাঁধা, গলায় কিসের মালা, কাঁচাপাকা একমুখ দাড়ি । এই সেই ছেলেবেলাকার ভঙুলমামা ! উদাসীন ভাবে প্রণামটা সেরে ফেললাম । ভণভুলমামা কিস্ত আমার সঙ্গে খুব আলাপ করলেন, একটু গায়ে পড়েই যেন । আমি । কোন কলেজে পড়ি, কোন মেসে থাকি, কবে আমার পরীক্ষা ইত্যাদি নানা প্রশ্নে আমায় জবালাতন ক'রে তুললেন । আজকাল তিনি কলকাতায় চাকরি করেন, বাগবাজারে বাসা, তাঁর বড় ছেলেও এবার ম্যাট্রিক দিয়ে ফাস্ট ইয়ারে পড়ছে—এসব খবরও দিলেন । আমি জিজ্ঞেস করলাম,—আপনাদের এখানকার বাড়িতে ছেলেমেয়ে আনবেন না ? ভাণ্ডুলমামা বললেন, আনবে, শিগগাঁরই আনবে বাবা । এখনও একটু বাকী আছে, একটা রান্নাঘর আর একটা কুয়ো—এ দুটো করতে পারলেই সব এনে ফেলি। কলকাতায় বাসাভাড়া আর দধের খরচ যোগাতেই “সেইজন্যেই তো খেয়ে না-খেয়ে দেশে বাড়িটা করলাম, তবে ঐ একটুখানি যা বাকী আছে”তা ছাড়া চিলেকোঠার ছাদটা এখনও এইবারেই ভাবছি শ্রাবণ মাসের দিকে ওটাও শেষ করব । বলে কি ! এখনও বাকী ! জ্ঞান হয়ে পয্যন্ত দেখে আসছি ভন্ডুলমামার বাড়ি উঠছে । এ তাজমহল নিন্মাণের শেষ বেচে থেকে দেখে যেতে পারব তো ! ভঙুলমামা আপন মনেই বলে যেতে লাগলেন—সামান্য চাকরি, ছা-পোষা মানুষ বাবা, কাচাবাচ্চা খাইয়ে যা থাকে তাতেই তো বাড়ি হবে ? এখন তো বাসায় বাসায় কাটচে, আজ যদি চাকরি যায় তবে ছেলেপ,লে নিয়ে কোথায় দাঁড়াব, তাই ভেবে আজ চোঁদ-পনেরো বছর ধরে একটু একটু ক'রে বাড়িটা তুলচি । তবে এইবার আর দেরি হবে না, আসছে বছর সব এনে ফেলবো । জায়গাটা বড় ভালবাসি । ভাণ্ডুলমামা বললেন তো চোঁদ-পনেরো বছর, কিন্তু আমার মনে হ’ল ভন্ডুলমামার বাড়ি উঠছে আজ থেকে নয়, জীবনের পিছন ফিরে চেয়ে দেখলে যতদুর দটি চলে ততকাল ধরে... যেন অনন্তকাল, অনন্ত যুগ ধ'রে ভ"ডুলমামার বাড়ির ইট একখানির পর আর একখানি উঠছে“শিশু থেকে কবে বালক হয়েছিলাম, বালক থেকে কিশোর, কৈশোর কেটে গিয়ে এখন প্রথম যৌবনের উন্মেষ, আমার মনে এই অনাদ্যস্ত মহাকাশ বেয়ে কত শত জন্মমৃতু্য, সান্ট ও পরিবত্তনের ইতিহাসের মধ্য দিয়ে ভণভুলমামার বাড়ি হয়েই চলেছে ওরও বুঝি আদিও নেই, অন্তও নেই । lo পরের বছর আবার ভন্ডুলমামার সঙ্গে কলকাতাতেই দেখা । আমি তখন থাড" ইয়ারে পড়ি। ভঙ্গুলমামা বললেন—এস একবার আমাদের বাসায় । তোমার মামী তোমায় দেখলে খশী হবে –সামনের রবিবার তোমার নেমস্তন্ন রইল, অবিশ্যি অবিশ্যি যাবে। গেলাম, ভন্ডুলমামার ছেলেদের সঙ্গেও আলাপ হ'ল। ভন্ডুলমামা অনযোগের সরে বললেন,—ওদের বলি, যা একবার এই সময়ে । আষাঢ় মাসে দেশে গিয়ে উঠোনে খাসা বরবটি আর সিম লাগিয়ে রেখে এসেছি, মাচাও বেধে রেখে এসেছি,—তা কেউ কি কথা শোনে ? মামৗমা বাৎকার দিয়ে বলে উঠলেন,—যাবে সেখানে কেমন ক'রে শুনি ? কোনো ঘরে বাস করবার জো নেই, ছাদ ফুটো হয়ে জল পড়ে । জলের ব্যবস্হা নেই বাড়িতে, শ্ধ সিম আর বরবটির পাতা চিবিয়ে তো মানযে-“তাতে বাড়ি হাট আলগা, পাঁচল নেই। ভঙুলমামা মদ প্রতিবাদের সরে ভয়ে ভয়ে যা বললেন তার মন্ম" এই যে, মানুষ বাস না করলেই বাড়িতে বট-অবথের গাছ হয়, ছাদ অটো হয়ে গেছে আজ অনেকদিন, কিন্ত কেউ