পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ধালাবদল లిగ్రీ বিখ্যাত রায়দীঘি মজে গিয়েছে, দামে বোঝাই, জল দেখা যায় না, গরবাছরে কচুরীপানার দামের ওপর দিয়ে হেটে দিব্যি পার হতে পারে । সন্ধ্যা রাতেই গ্রাম নিশতি হয়ে যায়। দু-এক ঘর নিরপোয় গহন্থ যারা নিতাত্ত অথর্ণভাবে এখনও পৈতৃক ভিটেতে ম্যালেরিয়া-জীণ হাতে সন্ধ্যাদীপ জালাচ্ছে, সন্ধ্যা উত্তীণ হতে-না-হতেই তারা প্রদীপ নিবিয়ে শষ্যা আশ্রয় করে—তারপর সারারাত ধরে চারিধারে শধ্যে প্রহরে প্রহরে শগালের রব ও নৈশপাখীর ডানা ঝটাপটি । আমার মামারাও গ্রামের ঘর-বাড়ি ছেড়ে শহরে বাসা করেছেন । ছোট মামার, ছেলের ' অন্নপ্রাশন উপলক্ষ্যে সেখানে একবার গিয়েছি । ব্রাহ্মণভোজনের কিছু আগে একজন শীণকায় বন্ধ একটা পটলি-হাতে বাড়িতে ঢুকলেন। এক পা ধলো, বগলে একটা ময়লা সাদা কাপড়বসানো বাঁশের বাঁটের ছাতা। প্রথমটা চিনতে পারি নি। পরে বুঝলম ভঙুলমামা এত বড়ো হয়ে পড়েচেন এর মধ্যে “শহরে এসে মামাদের নতুন সভ্য, শোঁখীন আলাপী বন্ধবোন্ধব জটেছে, তাদের পোশাক-পরিচ্ছদের ধরনে ও কথাবাত্ত'র সরে ভন্ডুলমামা কেমন ভয় খেয়ে সঙ্কোচের সঙ্গে নিমস্মিত ভদ্রলোকদের সতরঞ্চির এককোণে বসলেন । তিনিও নিমম্মিত হয়েই এসেছিলেন বটে, কিন্ত মামারা তখন শহরে বন্ধদের আদর-অভ্যর্থনায় মহা ব্যস্ত । তাঁর আগমন কেউ বিশেষ লক্ষ্য করেছে এমন মনে হ’ল না । আমি গিয়ে ভন্ডুলমামার কাছে বসলাম । চারিধারে অচেনা মুখের মধ্যে আমুীয় দেখে ভাণ্ডুলমামা খাব খুশী হলেন । আমি জিজ্ঞেস করলাম—আপনি কি কলকাতা থেকে আসছেন ? ভঙুলমামা বললেন—না বাবা, আমি রিটায়ার করেছি আজ বছর-পাঁচেক হবে । গাঁয়ের বাড়িতেই আছি । ছেলেরা কেউ আসতে চায় না। অন্নপ্রাশন শেষ হয়ে গেল। ভন্ডুলমামা কিন্তু মামার বাড়ি থেকে আর নড়তে চান না । চার-পাঁচ দিন পরে কিছু চাল-ডাল ও বাসি সন্দেশ-রসগোল্লা নিয়ে দেশে রওনা হলেন । পায়ে দেখি কটক থেকে কিনে-আনা বড় মামার সেই পরোনো চটিজতো জোড়া। আমায় দেখিয়ে বললেন—নবীন কটক থেকে এনেছে, দেখে বড় শখ হ’ল, বয়েস হয়েছে কবে মরে যাব, বললাম তা দাও নবীন, জাতোজোড়াটা পরোনো হ'লেও এখনও দু-তিন মাস যাবে। বাড়িতে একজোড়া রয়েছে, আঙলে বড় লাগে বলে খালি পায়েই-- তিনি বাড়ির বার হয়ে গেলেন । আমি চেয়ে চেয়ে দেখলাম শীণকায় ভন্ডুলমামা ভারী চাল ডালের মোটের ভারে একটু সামনের দিকে ঝুকে চটিজ তোর ফটাং ফটাং শব্দ করতে করতে স্টেশনের পথে চলেছেন। হঠাৎ আমার মনে তাঁর উপরে আমার বাল্যের সেই রহস্যময় নেহ ও অন্যকপার অনভূতিটুকু কতকাল পরে আবার যেন ফিরে এল। আমি চে'চিয়ে বললাম—একটু দাঁড়ান মামা, আপনাকে তুলে দিয়ে আসি। ভঙুলমামার প:টুলিটা নিজের হাতে নিলাম, টিকিট করে তাঁকে গাড়িতে তুলেও দিলাম। ট্রেনে ওঠবার সময় একমাখ হেসে বললেন—যেও না হে একদিন, বাড়িটা দেখে এস আমার—খাসা করেছি—কেবল পাঁচলটা এখনও যা বাকি । কি করি, আমার হাতে আজকাল আর তো কিছু নেই, ছেলেরা নিজেদের বাসার খরচই চালিয়ে উঠতে পারে না—অবিশ্যি ওদের জন্যেই তো সব । দেখি, চেণ্টায় আছি—সামনের বছরে ঘদি” ভঙুলমামার সঙ্গে আর আমার দেখা হয় নি। কিন্তু এর মাস-কতক পরে তাঁর বড়ছেলে হরিসাধনের সঙ্গে কলকাতায় দেখা হয়েছিল । ম্যাকমিলান কোম্পানীর বাড়িতে চাকরি করে, ঞ্জিনের কোট গায়ে, হাতে বইয়ের আকারে খাবারের কোঁটো, মুখে একগাল পান—বোঁবাজারের ফুটপাত দ্বিয়ে বেলা দশটার সময় আপিসে যাচ্ছে। আমিই ভন্ডুলমামার কথা