পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ধালাবদল లీఆరీ তাহলে রাজী হয়েছেন ? দ্যাথো তা হলে আমার একটা সাধ আছে, সেটা বলি। আমার এত বড় বাড়িখানা পড়ে আছে, অনেক দিন এতে মা-লক্ষীদের চরণ পড়েনি, ঠিকমত সন্ধ্যে পড়ে না । তোমাদের ও-বাড়িটাও তো ছোট, ঘর-দোরে কুলোয় না, তা ছাড়া পরোনোও বটে । তোমরা আমার এখানে কেন এস না সবসন্ধে ? তোমারই তো বাড়িঘর হবে, তোমাকেই সব দিয়ে যখন যাব, তখন এখন থেকে তোমার নিজের বাড়ি তোমরা না দেখলে নষ্ট হয়ে যাবে যে । এ প্রস্তাবেও অবনী রাজী হ’ল, একটা ভাল দিন দেখে সবাই এ বাড়িতে চলে এল । অবনীর বেী নিস চৌধুরীর বাড়ি কখনো দেখে নি, কারণ সে ও-পাড়ার বউ, এ-পাড়ায় আসবার দরকার তেমন হয় নি কখনো । ঘর-বাড়ি দেখে বেী যেমন অবাক হয়ে গেল, তেমনি খুশী হ’ল । নিস চৌধুরীর বাবা রোজগারের প্রথম অবস্হায় শখ ক'রে বাড়ি উঠিয়েছিলেন —তখনকার দিনে সস্তাগণডার বাজার ছিল, দেখে অবাক হবার মত বাড়িই করেছিলেন বটে, পাড়াগাঁয়ের পক্ষে অবিশ্যি । কলকাতার কথা ছেড়ে দেও । মস্ত দোতলা বাড়ি, ওদের নীচে বড় বড় সাত-আটখানা ঘর, বারান্দা, প্রকান্ড ছাদ, সান-বাঁধানো উঠোন, ভেতর বাড়িতে পাকা রান্নাঘর, ইদারা, বাইরে প্রকাণ্ড বৈঠকখানা । বাড়ির পেছনে ফলের বাগান, ছোট একটা পুকুর, বাঁধানো ঘাট—পাড়াগাঁয়ে সম্পন্ন গেরস্ত বাড়ি যেমন হয়ে থাকে। ওরা বাড়িতে উঠে এসে জাঁকিয়ে সত্যনারায়ণের পুজো দিলে, লোকজন খাওয়ালে, লক্ষীপজো করলে । সবাই বললে অবনীর বৌয়ের পয় আছে, নইলে আমন বিষয়-সম্পত্তি পাওয়া কি সোজা কথা আজকালকার বাজারে । আবার অনেকেরই চোখ টাটালো । এ-সব হ’ল গিয়ে ও-বছর ফালগন মাসের কথা। গত বছর বোশেখ মাসে নিস চৌধুরী মারা গেল । জর হয়েছিল, অবনী ভাল ভাল ডাক্তার দেখালে, খলনা থেকে নপেন ডাক্তারকে নিয়ে এল—বিস্তর পয়সা খরচ করলে, অবনীর বোঁ মেয়ের মত সেবা করলে—কিন্ত কিছুতেই কিছ হ’ল না। অবনী বষোৎসগ শ্রাধ করলে খুব ঘটা করে, সমাজ খাওয়ালে—তা সবাই বললে দেখে শুনে যে নিজের ছেলে থাকলে নিস চৌধুরীর—সেও এর বেশী আর কিছ করতে পারত না । তারপর এখন ওরাই সম্পত্তির মালিক, অবনী নিজেই খাটিয়ে ছেলে, কোনো নেশা-ভাণ্ড করে না, অতি সৎ । কাজেই বিষয় উড়িয়ে দেবে সে ভয় নেই, দেখে শুনে খাবার ক্ষমতা আছে । তাই বলছিলাম, ভগবান যাকে দেন, তাকে এমনি করেই দেন। ওই অবনীর বেী অচিল পেতে চাল ধার ক’রে নিয়ে গিয়েচে আমার মাসীমাদের বাড়ি থেকে, তবে হাঁড়ি চড়েচে—এমন দিনও গিয়েচে ওদের । আমার মাসীমার বাড়ি ওদের একই পাড়ায় কিনা ? তাঁরই মুখে সব শনতে পাই । আর তারাই এখন দেখো ইস্টার ক্লাসে—ভগবান যখন ষাকে— *. অবনীর বউটি খুব ভাল, অত্যন্ত গরীব ঘরের মেয়ে ছিল, পড়েছিলও তেমনি গরিবের ঘরে । সে নাকি মাসীমার কাছে বলেচে, যা কোনদিন স্বপ্নেও ভাবি নি দিদি তাই যখন হ’ল, এখন ভাবি, ভগবান সব বাঁচিয়ে বত্তে রাখলে হয়। গরীব লোকের কপাল, ভরসা করতে ভয় পাই দিদি । প্রথম যে-দিন বাড়িতে ঢুকলাম, দেখি এ যেন রাজবাড়ি, অত ঘরদোর অত বড় জানলা দরজা, এতে আমার ছেলে-মেয়েরা বাস কত্তে পারবে, জান তো কি অবস্থা ছিলাম —তোমার কাছে আর কি লুকুবো ? এ যেন সবই স্বপ্ন বলে মনে হয়েছিল। এখন রতটা নেমটো ক'রে, দ-দশ জন ৱাক্ষণের পাতে দহ-মনুঠো ভাত দিয়ে যদি ভালোয় ভালোয় দিনগুলো কাটাতে পারি, তবে তো মুখ থাকে লোকের কাছে । সেই আশীব্বাদ করো তোমরা সকলে । সন্ধ্যার অন্ধকার চারিধারে খরব গাঢ় হয়েছে। ট্রেন হু-হন ক’রে অন্ধকার মাঠ, বাঁশবন,