পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


θqο বিভূতি-রচনাবলী কিন্ত ক্ৰমে বছর যেতে লাগল, দু-তিন বছর পরে আর ধার মেলে না—সকলেই হাত গটিয়ে ফেললে । পাওনাদারের যাতায়াত শর্যে হ’ল এইজন্যে—আরও বিশেষ করে পণ‘বাব বাজারে ক্রেডিট হারিয়ে ফেললেন যে, সবাই দেখলে পুণবাবর পিসিমা ওদের আদৌ বাড়িতে ডাকেন না, পাণবাবকেও না, পাণবাবর বেী ছেলেমেয়ে কাউকে না । পিসিমার কাছে খাতির পেলে বাজারেও পণ‘বাবর খাতির থাকতো—অনেকে বলতে লাগলো পপ'বাবুর পিসিমা ওদের দেখতে পারে না, সমস্ত সম্পত্তি হয়ত দেবোত্তর করে দিয়ে যাবে—একটি পয়সাও দেবে না ওদের । পণেবাবর পিসিমার বিশ্বাস যে এরা তাঁকে বিষ খাইয়ে মারবে—যত বয়স হচ্ছে এ বিশ্বাস আরও দিন দিন বাড়চে—এতে ক'রে হয়েচে এই যে পণবাবর, কি পণবাবর সন্ত্রীর, কি পণবাবর ছেলেমেয়ের পিসিমার বাড়ির ত্রি-সীমানায় ঘোষবার যো নেই। কাজেই অতবড় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েও পাণবাব আজ ত্রিশ টাকা মাইনের আমীনগিরি করচেন । আমি পণ"বাবর এ গল্প বিশ্বাস করি নি । কিন্ত, সেটেলমেণ্ট ক্যাম্পে আমরা একসঙ্গে দেড় বছরের উপর ছিলাম—এই দেড় বছরের প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যায় কি রাত্রে একসঙ্গে বসবার সাযোগ হলেই পাণবাব আমায় তাঁর পিসিমার সম্পত্তির গল্প করতেন। কখন কোনটা হয়ত বলে ফেলেচেন হু-মাস আগে তাঁর মনে থাকবার কথা নয়, আবার আজ যখন নতুন কথা বলচেন ভেবে বললেন তখন খ:টিনাটি ঘটনাগুলোও ছ-মাস আগের কাহিনীর সঙ্গে মিলে যেত—নানা টুকরো কথার জোড়াতালি মিলিয়ে এই দেড় বছরে পুণবাবার সমস্ত গল্পটা আমি জেনেছিলাম—একদিন তিনি বসে আগাগোড়া গলপ আমায় করেন নি, সে ধরনের গল্প করার ক্ষমতাও ছিল না পণবাবরে । সেই থেকে পণবাবর দন্দেশার সত্রপাত হ’ল । বন্ধ-বান্ধব ছেড়ে গেল, “বশুরবাড়িতে খাতির কমে গেল, সংসারে দারিদ্র্যের ছায়া পড়ল । দু-এক জন হিতৈষী বন্ধর পরামশে* পাণবাব আমীনের কাজ শিখতে গেলেন—বেী ছেলেকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। এ সব আজ ত্রিশ বছর আগেকার কথা । এই ত্রিশ বছরে পণবাব আমোদপ্রিয়, শোখীনচিত্ত, অপরিণামদশী যুবক থেকে কন্যাদায়গ্রস্ত, রোগ-জীণ, অকাল-বন্ধ, দরিদ্র্যভারে কুইজদেহ ত্রিশটাকা মাইনের আমীনে পরিণত হয়েচেন—এখন আর মনে তেজ নেই, শরীরে বল নেই, খেলে হজম করতে পারেন না, চুল অধিকাংশই পেকে গিয়েচে, কশের অনেকগুলো দাঁত পড়ে গেলেও পয়সা অভাবে বাঁধাতে পারেন না বলে গালে টোল খেয়ে যাওয়ায় বয়সের চেয়েও বড়ো দেখায় । বাড়ির অবস্হাও ততোধিক খারাপ। পনেরো টাকা ভাড়ার এদো ঘরে বাস করার দরুণ । সত্ৰী ছেলে মেয়ে সকলেই নানারকম অস.খে ভোগে—অথচ উপযুক্ত চিকিৎসা হয় না । তিনটি মেয়ের বিয়েতে পাণবাব একেবারে সব স্বাস্ত হয়ে গিয়েচেন, অথচ মেয়ে তিনটির প্রথম দুটি ঘোর অপাত্রে পড়েচে । বড় জামাই বৌবাজারে দরজীর দোকান করে, ঘোর মাতাল, কুচরিত্র —বাড়িতে সন্ত্রীকে মারপিট করে প্রায়ই, তবুও সেখানে মেয়েকে মুখ গজে পড়ে থাকতে হয়—বাপের বাড়ি এলে শোবার জায়গাই দেওয়া যায় না । মেজ জামাই মাতাল নয় বটে, কিন্তু তার এক পয়সা রোজগারের ক্ষমতা নেই—রেলে সামান্য কি চাকুরি করে, সে সংসারে সবাই একবেলা খেয়ে থাকে, তাই নাকি অনেক দিন থেকে নিয়ম । আর একবেলা সকলে মড়ি খায়। মেজ মেয়ের দুঃখ পাণবাব দেখতে পারেন না বলে মাঝে মাঝে তাকে বাড়িতে অনিয়ে রাখেন ; সেখানে এলে তব মেয়েটা খেতে পায় পেট পরে দ-বেলা । আজকাল প্রায়ই জনরে ভোগে, শরীরও খারাপ হয়ে গিয়েচে, ডাক্তারে আশংকা করচে থাইসিস। বড়ী