পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩৭২ বিভূতি-রচনাবলী পণ"বাবর ট্রেন এসে পড়ল । দিন পনের কুড়ি পরে আবার বেড়াতে গিয়েচি স্টেশনে। সেদিন শীত খাব পড়েচে, বেশ জ্যোৎস্না, রাত আটটার কম নয়। স্টেশনের রাস্তা যেখানে ঠেকেছে সেখানে চপকুাটলেট চায়ের দোকান থেকে কে আমার নাম ধ'রে ডাকলে—ও রামরতনবাব—েএই যে—এদিকে— ফিরে চেয়ে দেখি পুণবাব একটা কোণে টেবিলে বসে। পণ"বাবর মাথায় একটা পশমের কানঢাকা টুপি, শালের কফটার গলায় জড়ানো, হাতে দস্তানা। আমায় বললেন—আসন, বসন--কিছু খাওয়া যাক । আজ ফিরে এলাম মহাল থেকে—এই রাতের গাড়িতে ফিরব কলকাতায়—কিছর খাবেন না ?--না, না,খেতেই হবে কিস্ত, সেদিন তো কিছু খেলেন না— এই বয়, ইধার আও— আমাকে জোর ক’রে পণেবাব চেয়ারে বসলেন । তারপর তাঁর নিজের জন্যে যা খাবার দিলে, তা দেখে আমার তো হৎকম্প উপস্হিত হ’ল । এত খাবেন কি করে পণবাব এই বয়সে ? আর একটা অতি বাজে দোকানে, খানআন্টেক চপ, থানচারেক কাটলেট, এক প্লেট মাংস, পাউরটি, ডিমের মামলেট, পুডিং, কেক, চা—তিনি কিছর বাদ দিলেন না। আমাকে দেখিয়ে বললেন—এই, রাবকো ওয়াস্তে এক প্লেট মাটনি আউর তিন পিস— আমি সবিনয়ে বললাম—আমার শরীর তো জানেন পুণবাব, ওসব কিছ: আমি— —আরে, তা হোক, শরীর শরীর করলে কি চলে । খান খান—মাংসটা বেশ করেছে— কলকাতায় মাংস রাঁধতে জানে না মশাই রেস্টোরেট—আমি ঝাল পছন্দ করি, কলকাতায় শাধ মিষ্টি—খেয়ে দেখনে মাংসটা–কাটলেটেও এরা কাঁচালঙ্কা-বাটা দিয়েচে–ভারি চমৎকার থেতে—এই বয়, আউর দটো কাটলেট— কথাটা শেষ হবার আগেই তাঁর বেঞ্জায় কাশির বেগ হ’ল—কাশতে কাশতে দম আটকে যায় আর কি ! একটু সামলে বললেন—বন্ড ঠান্ডা লেগেছে মহালে—সেই জন্যে বেশ একটু গরম চা— চপ খেয়ে দেখবেন ? ভারি চমৎকার চপ করেছে ! এই বয়,— আমি কথাটা মুখ ফুটে বললাম— পাণবাবন, আপনার শরীরে এসব খাওয়া উচিত নয়— আর এ ধরণের দোকান তো খুব ভাল নয় । চা বরং এক কাপ খান, কিন্তু এত—এগলো খেলে— পণে“বাব হেসে উড়িয়ে দিলেন—খাবো না বলেন কি রামরতনবাব, খাবার জন্যেই সব । শরীরকে ভয় করলেই ভয়, ওসব ভাবলে কি আর–আপনিও যেমন । রেস্টোরেট থেকে বার হয়ে এসে আমায় নীচু স্বরে বললেন–কিছু মনে করবেন না রামরতনবাব, একসঙ্গে অনেকদিন কাজ করেছি এক জায়গায় । এখানে কোন ভাল বাঈজীর বাড়ি-টারি জানা আছে ? থাকে তো চলন না আজ রাতটা—শনেছি পশ্চিমে নাকি ভাল ভাল—কলকাতায় না হয় আজ না-ই গেলাম— আমি বুঝিয়ে বললাম, পশ্চিমের যে সব জায়গায় ভাল বাঈজী থাকে, গয়া সে তালিকায় পড়ে না। বিহারের কোথাও নয় । কাশী, লক্ষেী, দিল্লী ওদিকেই সত্যিকার বাঈজী বলতে যা বোঝায়, তা আছে । পাণবাব বললেন—পাটনাতে নেই ? —আমার তাই মনে হয় । —এদিকে আর কোথাও নেই ? না হয় এমনি আর কোথাও— —কোথাও কিছু নেই । আমি ঠিক জানি । পণ"বাবা ওয়েটিং-রমে ঢুকে আমায় বসতে বললেন। পাণবাবকে আরও বেশী বন্ধ