পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ষালাবদল లిశిషి আমন ধানের জমি ও আমবাগানের মায়া কাটাতে হয় । বিশ বছর ধরে গোপনে মনের কোণে পোষণ-করা কাশীবাসের ইচ্ছাও পরিত্যাগ করতে হয় । পঞ্চ মাখয্যে তাই দুঃখ করে বলছিলেন ঃ কি জান হারাণ ভায়া ! এই জায়গাজমিগুলোই হয়েছে কাল—নইলে এ-গাঁয়ের মুখে ঝাঁটা মেরে কোনদিন বেরতোম। এই আমাদের দুঃখ । বিদেশে যারা বেরিয়েচে, তারা বেশ দু’পয়সা—এই ধরো না কেন, সরলের দীন ভট্চায্যির ছেলে—চেনো তাকে ? আরে, অই যে রোগাপানা ছোকরা, বোসেদের বাড়ি কালীপ জো দেখতে আসতো—মনে নেই ? সে লেখাপড়া তো শিখলে না, একবার তো ম্যালেরিয়ায় মর-মর হোল, তারপর তার মামারা তাকে কোথায় যেন নিয়ে গেল । এখন বেশ সেরে উঠেচে, আর সে পিলেরোগা চেহারা নেই । সেদিন শনালাম রেলে চাকরি পেয়েচে–পয়ত্রিশ টাকা করে মাইনে। থাকে অই মগরা লাইনের ওদিকে যেন কোথায় । উপযুক্ত ভৌগোলিক জ্ঞানের অভাবে পঞ্চ মখায্যে বণনাটাকে বিশদ করে তুলতে পারলেন না। হারাণ রায় বল্লেন ঃ তোমার সেই চাকরির কি হোল, পঞ্চ ভায়া ? পঞ্চ মখায্যের বয়স পঞ্চাশের ওপর । জীবনে তিনি এ-জেলার গণ্ডী পার হন নি, কিন্ত উঠতি বয়েস থেকেই তাঁর ইচ্ছে, বিদেশে কোথাও তিনি চাকরি পেলে করেন। সদীঘ" ত্রিশ বছরের মধ্যে এ-আশা পাণ’ হয় নি। গ্রামের সামান্য সম্পত্তির আয়েই সংসার চলে। যে-ভাবে চলে, তাকে চলা বলা যায় না—অন্য জায়গায় হোলে আচল হোতো, রুপগঞ্জ বলেই চলচে । তিনি মধ্যে বোসেদের বাড়ি হিতবাদী’ কাগজে দেখেছিলেন, কলকাতার কি একটা আপিসে ষাট টাকা মাইনের গটি দুই তিন চাকরি খালি আছে—কাজ জানার দরকার হবে না, তারাই শিখিয়ে নেবে । পঞ্চ মাখয্যে একখানা দরখাস্ত করেছিলেন ; কাল বিকেলে তার উত্তর পেয়েছেন । হারাণ রায়ের প্রশ্নের উত্তরে পঞ্চ সেই উত্তরের চিঠিখানা মলিন জীণ কামিজের পকেট থেকে বার করে সকলকে দেখিয়ে মানমখে বল্লেন ঃ এই তো তারা চিঠি দিয়েচে—কালকে সকালের হাটে পিওন বিলি কল্পে ! কিন্ত পাঁচশো টাকা নগদ জামিন জমা চায় । কোথা থেকে দেবো নগদ পাঁচশো টাকা জমা ? পাঁচটা টাকার সংস্হান নেই। নাঃ, ও-সব আমাদের জন্যে নয় হে— মধ্য লাহিড়ী নিজের বাড়ি থেকে তামাক সেজে হ:কো হাতে নিয়ে বটতলায় এসে পৌছলেন। সবাই জানে মধ্য লাহিড়ী সম্প্রতি কিছয় টাকা হাতে পেয়েচেন তাঁর শাশুড়ীর মৃত্যুর পরে, গত কাত্তিক মাসে । এজন্য মধ্য লাহিড়ীর ওপর কেউ সম্ভন্ট নয়, মনে মনে সবাই তাঁকে হিংসে করে । মধ্য বয়োজ্যেষ্ঠ হারাণ রায়ের হাতে হকো দিয়ে বল্লেন ঃ কাল রাত্রে এক কাল্ড হয়েচে আমার বাড়ি, জানো না বোধ হয় ? রান্নাঘরের জানলার পাশে অনেক রাত্তিরে কে একজন দাঁড়িয়ে ছিল—রাম ছাদ থেকে দেখতে পায় । সে বাইরে এসেছিল, ছাদের নীচেই ওপাশে রান্নাঘর। ধপধপে জ্যোৎস্না রাত, দেখে যে কালোমত কে একজন জানলার গরাদ ধরে দাঁড়িয়ে । সে ছেলেমানষে, চে'চিয়ে উঠতেই আমার স্ত্রীর ঘুম ভেঙেচে । আমারও ঘন্ম ভেঙেচে। সবাই ছাদে বার হয়ে দেখি, কোথাও কিছু নেই—কিস্ত রান্নাঘরের পেছনে সেওড়াগাছগুলোর মধ্যে যেন কি শব্দ হচ্ছে । সারা রাত জেগে কাটিয়েচি ! গাঁয়ে বাস করা ভার হোল দেখাঁচ ! মধ্য লাহিড়ীর এ-কথায় কেউ সন্তান্ট হোল না। কেউ কথাটা বিশ্বাসও করলে না।