পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


එ96 বিভূতি-রচনাবলী সবাই ভাবলে, হাতে টাকা হয়েচে, তাই লোককে জানানো যে আমার বাড়ি চোর যাতায়াত করে রাত্রে—এটা বড়মানুষী দেখানো একরকম । হারাণ রায় মধর হাত থেকে হকো নিয়েছিলেন, তিনি চক্ষলৎজায় পড়ে বল্লেন ঃ • তুমি আবার বাস করো বাঁশবাগানের মধ্যে । রাত-বেরাত খুব সাবধান থাকবে, কাল পড়েচে বড়ই খারাপ । মধ্য লাহিড়ী বল্লেন ঃ উঠে যাবো উঠে যাবো করি, কিন্ত উঠে যাই বা কোথায় ? একবার তো ভেবেছিলাম, শ্বশুরবাড়ি বলাগড় গিয়ে বাস করি । কিন্ত সে বেজায় ম্যালেরিয়ার জায়গা—আমাদের এখানকার চেয়েও বেশী । তাই দাদা বারণ কল্পে, দুই ভায়ে যে ক'দিন বেচে থাকি, এক জায়গাতেই থাকি, পৈতৃক ভিটেটাতে আলো দি দুজনে । তাই— পষ্ণু মািখয্যে বল্লেন ঃ না, উঠে যাবে কেন ? সবাই যদি উঠে যাবে, গাঁয়ে তবে থাকবে কে ? তোমাদের বাড়ির পাশে শ্যামাপদ চাটুয্যেদের ভিটে এখনও পড়ে আছে—তোমরা দেখো নি, আমাদের একটু একটু মনে আছে, শ্যামাপদ চাটুয্যে এখানেই মারা যায় । তার স্ত্রী এখানকার সম্পত্তি বেচে কিনে বাপের বাড়ি চলে গেল, ছ'মাসের ছেলে নিয়ে । অবস্হা ভাল ছিল না, থাকবার মধ্যে ছিল ওই ঘাটের ধারের আমবাগানখানা—এখন মাখন কাকা কিনেচেন ॥. আর কিছন ধানের জমি, তাতে বছর চলতো না । একশো টাকার সম্পত্তি বিক্ৰী করে ফেtল্ল, রাজকৃষ্ট জ্যাঠা কিনলেন, আমার বেশ মনে আছে। তারপর এখন আবার মাখন কাকা কিনে নিয়েচেন রাজকৃষ্ট জ্যাঠার ছেলের কাছ থেকে । তবে ফাঁকি দিয়ে কেনা সম্পত্তি, ওর অপবাদ আছে, ও ভোগে আসে না । হারাণ রায় এখানে সকলের চেয়ে বয়োবন্ধ । তিনি বল্লেন ঃ অনেকদিন পরে শ্যামাপদর কথাটা উঠলো। শ্যামাপদদা আমাদের চেয়ে দশ পনরো বছরের বড় ছিল । তাহোলেও একসঙ্গে ছিপে মাছ ধরতে গিয়েছি খাদের পুকুরে । আহা, অলপ বয়সে মরে গেল । হ’্যা হে, তার সে ছেলেটা বেচে আছে কিনা জানো ? তার অন্নপ্রাশনে নেমস্তন্ন খেয়ে এসেচি, বেশ মনে আছে । ছেলেদের মুখে ভাত দেওয়ার মাস দুই পরেই শ্যামাপদদা মলো । আহা, সে সব কি আজকের কথা ! পষ্ণু বল্লেন ঃ না। তাদের আর কোনো খবরই পাওয়া যায় নি অনেককাল । মধ্য লাহিড়ী বল্লেন ঃ কি জানো, একবার এ গা থেকে বেরলে আর কি কেউ ফিরতে চায় ? এই আমাদেরই যদি অন্য উপায় থাকতো, তবে কি আর এখানে পড়ে থাকতে যে তুম ? এই যে আমার বাড়ি কাল রাত্তিরে কান্ডটি হয়ে গেল—ন মধ্য লাহিড়ীকে কথা শেষ করতে না দিয়েই পঞ্চু অসহিষ্ণুভাবে কি একটা বলতে যাচ্ছিলেন, এমন সময় পথের মোড়ে হঠাৎ মোটর গাড়ির হণের আওয়াজে তিনি এবং উপস্হিত সবাই সেদিকে চেয়ে রইলেন । এবং চেয়ে থাকতে থাকতেই প্রকাণ্ড একখানা নতুন মোটর বটতলায় এসে দাঁড়িয়ে গেল । মোটর গাড়ি যে এ-গ্রামে আসে না তা নয়, তিন ক্লোশ দরবত্তী স্টেশন থেকে মাঝে মাঝে গ্রামের কোনো নতুন জামাই শখ করে ট্যাক্সি ভাড়া করে এনেচে, শক্ত অসাথে পড়লে কেউ মহকুমা থেকে ডাক্তার অনেকবার এসেচে নিজের মোটরে—কিস্ত এ-ধরণের বড় ও সন্দের মোটর গাড়ি উপস্থিত ব্যক্তিগণের কেউ দেখে নি। লম্বা ধরনের প্রকান্ড গাড়ি, পালিশ-করা নিকেলের পাতের বনেট, দোরের হাতল ল্যাপ—সবই ঝকঝকে ; তবে গাড়ির পেছনে ও মাডগাডে রাঙা ধুলো জমেছে—যেন অনেক দর থেকে আসচে। একজন বিশ-বরিশ বছরের যবেক গাড়ি চালাচ্ছিল—দোহারা গড়ন, গায়ে সাদা সিকের পাঞ্জাবি, মাথায় একমাথা ধলো । সে নেমে বটতলার দিকে এগিয়ে এল—এবং অপেক্ষণ