পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যালাবদল やb。 ঘটক আমাকে দেখে বল্লে—ছেলের বয়স একটু বেশী না ? বাবা সামনে বসে। বল্লেন, কোথায়, এই তো মোটে তেইশ– আমি ভাবলাম বেশ তো ? বাবা ওরকম কথা কেন বল্লেন ? ছিঃ, ওরা কি মনে ভাবলে ? মোটে তেইশ মানে কি ? সেই থেকে আমার বিশ্বাস হোল যে বিবাহ করবারও আমার বয়স আর নেই । ঘটক নিশ্চয় আমার লম্বা-চওড়া মত্তি দেখে আমার বয়স বেশী আন্দাজ করেছিল —তেইশ বছরের অনুপাতে আমার চেহারা বড় ছিল । কিন্তু আমার সেই থেকে বিশ্বাস দাঁড়ালো অন্যরকম । চব্বিশ, প'চিশ, ছাখিবশ, সাতাশ, আটাশ--- ত্রিশ বৎসর বয়সে যেদিন পড়লাম, সেদিন থেকে মনে হোল এখন থেকে গভীরভাবে চলাফেরা করতে হবে, সাদা রং ছাড়া অন্য রঙের জামা পরা তো অনেকদিনই ছেড়েছিলাম, এখন থেকে ছোট বড় চুল ছাঁটা পয্যন্ত ছেড়ে দিলাম । তখন থাকতুম পাড়াগাঁয়ে, সেখানে কেউ কোন দিন একথা বলে নি যে আমার বয়েস খুব বেশী এমন কিছু নয়। পাড়াগাঁয়ে কি পুরুষ কি গীলোক, রিশের পরেই বন্ধত্বে পে"ছোয়, মনে তো বটেই, চেহারাতেও খানিকটা বটে । 影 কারণ আমাদের মুখশ্রীকে আমরা অহরহ গড়চি, আমাদের ভাব ও চিন্তার দ্বারা, যেমন ভাস্কর বাটালি দিয়ে মাত্তির মুখ গড়ে । এদের প্রভাব আমাদের মুখশ্রীর ওপরে অনেক বেশী, অন্তরের তারণ্য মুখশ্ৰীতে তো বটেই, সারাদেহের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। এমন কি দৈহিক সবাসেহ্যর ওপরও । বাল্যের কত সন্দের-মাখ ছেলেকে যৌবনে হতশ্ৰী, হীনশ্রী হতে দেখেচি, শিক্ষার ও কালচারের অভাবে । বৃয়েস বাড়বার সঙ্গে সঙ্গে কত লোকেরও দেখেচি, বিধাতা যেন তাদের দেহ ও মুখশ্রীকে কি চোখের দটি পয্যন্ত ভেঙে গড়েচেন । এ সব অবাস্তর কথা যাক । তারপর আজ এতকাল পরে যখন পঞ্চাশের কোঠায় বয়েস চলচে, কাগজেপত্রে লোকের মুখে শনি কুড়ি বছর বয়েস থেকে তরণ বয়েসের নাকি শর-মোটের ওপর বাইশ বছরটা যে নিতান্ত তরুণ বয়েস, এতকাল পরে তা" বঝেছি খুব ভাল করেই। কারণ আমার বড় ছেলেরই প্রায় হতে চলেচে ওই । কিন্তু শুনলাম কখন, যখন বয়োবন্ধ ভীম পিতামহ মত্ত ধামে ফিরে এলেও আর আমাদের তরণ বলতে সাহস করবেন না, স্নেহপরবশ হয়েও নয়। লোক-লজার ভয় একটা আছে তো ? হায়রে আমার বাইশ বৎসরের প্রথম যৌবন, তুমি যখন এসেছিলে, তখন তোমায় চিনি নি, তারপর পথিবী নিজের কক্ষপথে বহন্দরে চলে গিয়েচে সে দিনটির পরে, আজ আর তোমার জন্যে দীঘনিঃশ্বাস ফেলে লাভ কি ? কিন্তু মুশকিল এই যে তখন একথা বল্পেও বিশ্বাস করতুম না। একটা কথা মনে এল । চব্বিশ বছর বয়সে একবার টুগেনেভের কোন একখানা বইয়ে পড়ি যে ভালবাসা, প্রেম, রোমান্স সব তরুণদের জন্যে । যৌবন ফুরিয়ে গেলে ওসবের দিন শেষ হোল। কথাটা পড়ে মনে বড় কট হয়েছিল,—এই জন্যে যে আমার আর সেদিন নেই—বাইশ বছরের গডি অনেক দিন ছাড়িয়েচি, যৌবন কতকাল শেষ হয়ে গিয়েচে । তাই বলচি—যদি কেউ একথা বলতো তখন যে আমার বাইশ বৎসরে তরুণ বয়সের অবসান নয়, সবে শর-একথা আমি বিশ্বাস করতুম না নিশ্চয়। মা তো বারো বছর বয়সে বলেছিলেন আমি ছেলেমানষে, সে তো নিতান্ত বাল্যকাল, মায়ের কথা কি বিশ্বাস করেছিলাম ?