পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যালাবদল t్సS পরে কোথায় নিরদেশ হইয়া গেল। সে আজ বছর-দই আগেকার কথা । কিন্তু এ সকল কথাই আমি শনিয়াছিলাম এক তরফা—বন্দিনাথের শত্রপক্ষের মাখে। অর্থাৎ তার সৎমা ও বাবার মুখে । বন্দ্ৰিনাথের স্বপক্ষেও হয়ত অনেক কথা বলিবার আছে, কিন্ত সে কথা আমি শুনি নাই । বন্দিনাথকে আজ এ অবস্হায় দেখিয়া মনে মনে তাহার উপর সহানুভূতি হইল—বলিলাম—ভিজাঁচস কেন ? আয় ছাতির মধ্যে । তারপর এ অবস্হায় কোথা ? শ্রীরামপারে যাস নি আর ? শ্রীরামপরেই সেজমামার শ্বশুরবাড়ি । বন্দিনাথ রাঙা দাঁত বাহির করিয়া একগাল হাসিল –না দাদা, সেখানে বাবা বাড়ি ঢুকতে দ্যায় না। বলে, টাকা রোজগার করবি নে তো বসে বসে তোকে খাওয়ায় কে ? গেছলাম আষাঢ় মাসে । বাবা হুকুম দিয়ে দিলে আমার ভাত বন্ধ করে দিতে । রাত্তিরে ইস্কুল ঘরে শয়ে থাকতুম । বাবা দোকানে খাতা লিখতে বেরিয়ে গেলে মাকে গিয়ে বলতুম, ভাত দাও নৈলে কি আমি না খেয়ে মরবো ? মা চুপি চুপি খাইয়ে দিত। আবার এসে সারাদিন ইস্কুল ঘরে শয়ে থাকতুম । এ রকম কোরে ক'দিন কাটে ? সতেরোই আষাঢ় বাড়ি থেকে বেরিয়েচি আবার । ” বলিলাম—এ ক'দিন ছিলি কোথায় ? இ. —গাড়িতে গাড়িতে বেড়াচ্চি । পরশ দিল্লী এক্সপ্রেসে গেছলাম, আজ এই এলাম। পথে পথেই ঘরচি ক’দিন—আমার তো আর টিকিট লাগে না । ধরবে কে ? এ গাড়িতে চেকার এল, ও গাড়িতে গিয়ে বসলাম । নিতান্ত ধরলে বল্লম, গরীব ভিখিরী, পয়সা নেই। বল্লে নেমে যাও। নিতান্ত গালমন্দ দিলে তো নেমে গিয়ে পরের ট্রেনে আবার চড়লাম। গাড়ির মধ্যে বসে থাকলে তব তো বন্টির হাত থেকে বাঁচি । বন্টিটা আবার জোরে আসিল । দু'জনে একটা গাড়ি-বারান্দার নীচে দাঁড়াইলাম । জিজ্ঞাসা করিলাম, তোর মামার বাড়ি যাস নে কেন, শানেচি তাদের না কি বেশ অবস্হা ভালো ? —ভালো তো, কিন্ত তারা আমায় দেখতে পারে না । সেবার বসিরহাটে আমাদের দলের গাওনা ছিল তো, ওখান থেকে মামার বাড়ি গেলাম। বড় মামা বল্লে—এখানে কি জন্যে এলি ? দিদিমা বল্লে—যাকে নিয়ে সম্মবন্ধ, সে-ই যখন চলে গিয়েছে তখন তোর সঙ্গে আর সবাদ কিসের ? তুই আর এখানে আসিস নে । সেই থেকে আর যাই নে । একটা খাবারের দোকানে বসাইয়া বন্দিনাথকে কিছল খাওয়াইলাম । সে যেরূপ গোগ্রাসে খাইতে লাগিল, তাহাতে বুঝিলাম কয়েকদিন তাহার অদন্টে আহার জোটে নাই বোধ হয়। মনে কষ্ট হইল—ছোঁড়াটার নিতান্ত অদন্ট মন্দ, এই বটি বষ*ায় ছোড়া কাপড় পরিয়া খালি পেটে আশ্রয়-অভাবে আজ দিল্লী, কাল বেনারস করিয়া রেলে রেলে বেড়াইতেছে, দর দর করিয়া শেয়াল-কুকুরের মত সবাই তাড়াইয়া দিতেছে, এমন কি নিজের বাবা পয্যন্ত ! বেচারী তবে যায় কোথায় ? বলিলেই তো হইল না ! ভাবিয়া চিন্তিয়া বলিলাম—এক কাজ কর বোদে, তুই রাণাঘাটে আমার বাসায় গিয়ে থাক। চল আমি তোকে টিকিট কেটে গাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছি—সেখানে বাড়ির ছেলের মতন থাকবি, কোন কষ্ট হবে না, চল । টিকিট কিনিয়া গাড়িতে উঠাইয়া দিয়া বন্দিনাথের হাতে আনা দুই পয়সা দিয়া বলিলাম —পথে যদি দরকার হয় রৈল তোর কাছে । শনিবার রাণাঘাটে গিয়া দেখিলাম বন্দিনাথ বাড়িতে মেয়েদের কাছে খাব আদর-যত্ন