পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যালাবদল లిసి& তোমার মামীমা তখখনি তাদের হার বালা সব খালে ট্রাকের মধ্যে পরলেন। খুব সকালে বন্দিনাথ চলে গেল, আমি তখনও মশারীর মধ্যে শয়ে । একটু বেলা হোলে দেখি, আমার BBB BB BBB BBB BB BBBSBB BBBSBB BBB BBBB বাকী রইল না । সেই থেকে আর তাকে দেখি নি। ছোকরাটা এমন করে উচ্ছন্ন গেল ! ওর বাবারও দোষ নেই । ওকে মানুষ করবার চেষ্টা যথেষ্ট করেছিল কিন্তু যে মানুষ না হবার, তাকে মানুষ করে কার সাধ্যি ? 强 পজোর পরে সেজো মামার পত্রে জানিলাম, দত্তপর্কুেরের জমিদার কাছারী হইতে একখানা পরানো কাপড় চুরি করিবার ফলে বন্দিনাথের জেল হইয়াছে তিন মাস। জেল হইতে বাহির হইবার অনেক দিন পরে সে একবার রাণাঘাটে আমার বাসায় আসিল । সবারই মুখে শনিতে পাইলাম বন্দিনাথ ভালো হইয়া গিয়াছে, কি করিয়া তাহারা এ কথা জানিল, আমি তাহা বলিতে পারি না । কিন্তু হঠাৎ দেখি বন্দিনাথকে বাড়ির সবাই খুব যত্ন আদর করিতেছে । দিন দুই তিন বাসায় থাকিল, একদিন সকালে বন্দিনাথ চা খাইতে খাইতে আমারই সঙ্গে বসিয়া গলপ করিতেছে, বৌদিদি আসিয়া বলিলেন,—বোদে, এই বাটি রইলো আর ঠাকুরপোর কাছ থেকে দশটা পয়সা নিয়ে ওই মোড়ের দোকান থেকে সষের তেল নিয়ে আসিস তো ! বন্দিনাথকে পয়সা বাহির করিয়া দিলাম চা খাওয়ার পরে । বন্দিনাথ কাসার বাটিটা হাতে করিয়া পয়সা ট্যাকে গজিয়া বাহির হইয়া গেল। সকাল-সাড়ে সাতটার বেশী নয় । বন্দিনাথের সঙ্গে পুনরায় দেখা বছরখানেক পরে, হঠাৎ একদিন কলকাতায়, সাঁতারাম ঘোষের গীটের মধ্যে একটা গলির মোড়ে । জীণ, মলিন, ছন্নছাড়া মতি—খালি পা, বড় বড় ঝাঁকড়া রক্ষ চুল, যেমন ময়লা কাপড় পরনে, ততোধিক ময়লা জামা গায়ে । প্রথম কথাই আমার মখ দিয়া কি জানি বাহির হইয়া গেল, হ্যা রে, বোদে, বাটিটা কি করাঁল রে ?— এই এক বৎসর যেন ওই কথাটা জানিবার জন্যই হা করিয়া ছিলাম। বন্দিনাথ বিপন্নমুখে কি একটা জবাব দিবার দু’একবার চেণ্টা করিতে গিয়া যেন বিষম থাইল এবং হঠাৎ সড়ৎ করিয়া পাশের গলির মধ্যে ঢুকিয়া পড়িয়া দ্রতপদে অদশ্য হইয়া গেল। ডানপিটে যে সময়ে আমাদের গল্পের শর, কাশীতে তখন উৎকৃষ্ট লাচ্ছাদার রাবাড়ি পচি আনা সের বিক্রয় হইত, ল্যাংড়া আম টাকায় এক পণ, মহিষের দুধ টাকায় পাকি বারো সের। কাশীতে তখন স্কুল-কলেজ বেশী ছিল না, শহরের বসতি আরও ঘিঞ্জি ছিল, তেলের আলো জনলিত রাস্তায়, অত্যন্ত অপরিস্কার ছিল শহরের অবস্হা, গাড়ি-ঘোড়া ছিল কম । বড়েয়া-মঙ্গলের মেলার সময় গঙ্গার ধারে ধনীদের দু’চারখানা নতুন ধরনের ভিক্টোরিয়া কি ফিটন দেখা যাইত। একা ও স্প্রিং-বিহীন টাঙা ছিল প্রধান সবল, শহরের বাহিরে উটের গাড়ি চলিত । গণেশ মহল্লাতে তখন রামজীবন চক্রবত্তীর খাব নাম ও পসার-প্রতিপত্তি । কমিসারিয়েট বাংলা ১২৮৭-৮৮ সালের কথা ।