পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ల్ఫిఆ বিভূতি-রচনাবলী বিভাগে বড় চাকুরিতে তিনি বেশ দ’পয়সা রোজগার করিয়াছিলেন, তবে হাতে রাখিতে পারিতেন না । সেকালের রীতি অনুযায়ী তাঁর কাশীর বাড়িটা ছিল একটা হোটেলখানা। চাকুরি-প্রয়াসী বা অক্ষম ও নিরাশ্রয় আত্মীয়ধ্বজন ও স্ব-গ্রামের লোকের ভিড়ে বাড়িতে পা দিবার স্হান থাকিত না । রামজীবনবাবরে চার ছেলে, বড় তিনটি ভয়ানক ডানপিটে, স্কুলে যাইবার নাম করিয়া পথে মারামারি করিত, ঘড়ি উড়াইত, স্কুলের সময়টি কাটাইয়া ছয়টির সময়ে বাড়ি ফিরিত। ইহাদের উপযুক্ত সঙ্গীও জটিয়াছিল দশ-বারোজন পাড়ার ছেলে, সকলেই সমান ডানপিটে, সমানই তাদের বিদ্যাজ’ন-পাহা । স্কুলের সময় দল বধিয়া বাড়ি হইতে বাহির হইয়া হয়তো শহরের বাহিরে পথের ধারের এক বড় পেয়ারা বাগানে ঢুকিয়া ফল ছিড়িয়া খাইয়া ফেলিয়া ছড়াইয়া নট করিয়া বেলা চারটার পরে বাড়ি ফিরিত । কোনোদিন বা সারনাথের পথে কোথাও চড়ুইভাতি করিতে গেল। মাসের মধ্যে পনেরো দিন এইরকম চলিত। গণেশ-মহল্লাতে প্রেমচাঁদ মনুখুয্যে নামে নদীয়া জেলার একজন বন্ধ ব্রাহ্মণ কাশীবাস করিতেন। তাঁর এক পিতৃমাতৃহীন ভাই-পো তাঁর কাছে থাকিয়া নামে বিদ্যাভাস করিত। কাজে সে ছিল উপরোক্ত ডানপিটে স্কুল-পালানো ছেলের দলের একজন চাই সদস্য । ভ্রাতুষ্পপত্রটির নাম সতীশ, রং টকটকে গৌরবণ, একহারা চেহারা, নতুন স্প্রিং-এর মত তার সমস্ত দেহের একটা দৃঢ়তা, বধিনী ও সিহতিহাপকতা ছিল । নতুন নতুন বদমায়েশি ফন্দী অটিবার বন্ধিতে ও সাহসে দলের সকলেই তার কাছে হার মানিত । ফলে এই দলটির লেখাপড়া যাহা হইবার হইল, তারপর যখন শখের থিয়েটারের ধর্ম কলিকাতা হইতে কাশী গিয়া পৌছিল, এদের দল কাশীতে নব আন্দোলনের প্রতিভূ ও প্রাণস্বরপ হইয়া মহা উৎসাহে নিজেরাই বড় বড় কাগজে সিন অকিয়া বেলের আঠা দিয়া জড়িতে লাগিল। নিজেরাই স্টেজ বধিল এবং ঘণ্টা মাকৰ্ণ সবেদার সাহায্যে রাজা, উজির সাজিয়া নাটকাভিনয় শরে করিল। বছর পাঁচেক পরে প্রেমচাঁদ মখায্যের লীলা-প্রাপ্তি ঘটিল, গণেশ-মহল্লার রামজীবনবাবও গভন'মেণ্ট পেনসনের মায়া কাটাইলেন। তাঁর ছেলেরা পৈতৃক অথ* ভাগ-বাঁটোয়ারা করিয়া লইয়া ভায়ে ভায়ে পথিক হইল । সতীশ নিরাশ্রয় ও কপদ"কশন্য অবস্হায় এখানে-ওখানে ঘরিতে ঘুরিতে জটিল গিয়া নেপালে। নেপালে যে কি করিয়া সে দরবার হাসপাতালে কপাউডারী পাইয়া চাকুরিতে ও চিকিৎসা ব্যবসায়ে দু’পয়সা রোজগার করিতে লাগিল,—যে সতীশ ইংরাজি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর গণ্ডি দু'তিন বৎসরেও ডিঙাইতে পারে নাই, সে কি করিয়া দরহ ইংরাজীতে লেখা ডাক্তারী বই আয়ত্ত করিয়াছিল, সামান্য বেতনের কক্ষপাউন্ডার হইয়া সে কি ভাবে অবসর সময়ে রোগী দেখিয়া চিকিৎসা ব্যবসায়ে বেশ নাম করিয়া ফেলিয়াছিল—সে সব খবর দিতে পারব না। কিন্তু প্র্যাকটিসে সে বাস্তবিকই সুনাম অজ’ন করিল, বিশেষ করিয়া অঙ্গচিকিৎসায় । ভালো ও নিপুণ অস্ত্র-চিকিৎসকের যে যে গণে থাকা দরকার—সাফ হাত, সাফ চোখ, সাহস, সতকতা, প্রকৃতিস্থতা, অবিচলিত বিচার-বধি–এই সব গণ তার ধীরে ধীরে বাড়িতে লাগিল—সঙ্গে সঙ্গে পসারও । সতীশ নেপালে আসিয়া হানীয় স্কুলের জনৈক শিক্ষকের কন্যাকে বিবাহ করিয়াছিল। শিক্ষকের নাম মাতু্যঞ্জয়বাব, বাড়ি নদীয়া জেলার মেহেরপরে ৷ পাঁচ বৎসর অন্তর বন্ধ পিতাকে দেখিতে একবার করিয়া দেশে যাইতেন । বিবাহের দুই বৎসর পরে বাংলা ১৩০৭ সালে তাঁহাদেরই সঙ্গে সতীশ বাংলাদেশে অনেককাল পরে ফিরিয়া আসিল ও সাবপ্রথম