পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ర్సిly दिष्ट्राँउ-ब्रफ़नावलौ ছিল কোথায় এতদিন হে ?” গত বিশ বৎসরের মধ্যে যাদ; ডাক্তার এত রোগীর ভিড় কখনো দেখে নাই এ-অঞ্চলে । _ বেগতিক বুঝিয়া কবিরাজটি একদিন জিনিস-পত্ৰ বধিয়া অন্যত্র সরিয়া পড়িল—কানাই দরজির দোকান খলিবার জন্য সুবিধামত দোকানঘরের সন্ধান করিতে লাগিল। যাদ স্যাকরার অন্য কোনো উপায় ছিল না এ-বয়সে । আগেকার দু’পাঁচটা বাঁধা পরানো ঘর ও পাব'-সঞ্চিত সামান্য কিছু টাকার জোরে কোনো রকমে টিকিয়া রহিল মাত্র। সতীশেল দু'টি ছেলে ও ছোট একটি মেয়ে । মেয়েটির হঠাৎ একদিন ভয়ানক জর হইয়া পড়িল । নিজের বাড়িতে নিজে চিকিৎসা করা যায় না বলিয়া সতীশ যাদরাম স্যাকরাকে ডাকাইল । যাদরাম দেখিয়াই বিষন্নমুখে বলিল, তাই তো মাখয্যে মশায়, এ তো ভয়ানক রোগ, আপনিও বোঝেন, আমিও বুঝি, এ-রোগ তো এখানে সারবার নয় । এখন অন্য সবাইকে তফাৎ করুন, ছোঁয়াছুয়ি না হয়, ডিপ'থিরিয়া বড় সাংঘাতিক ব্যাপার কিনা ? যাদরাম প্রাণপণে ক'দিন দেখিল, কিছুই করা গেল না । তৃতীয় দিনে মেয়েটি মারা পড়িল । এই ব্যাপারের পর হইতে সতীশের স্ত্রীর সামান্য মস্তিৎক-বিকৃতি ঘটিল—আপন মনে বকুনি, ইহাই দড়িাইল উপসগ । নয় তো অন্য সবদিকে কোন অপ্রকৃতিহতার চিহ্নও নাই, সংসারের কাজ-কম", স্বামী পত্রের যত্ন—কিছরই মধ্যে কোন কটি নাই । সতীশ বড় দমিয়া গেল । হাতে পয়সার জোর ছিল, কিছুদিন প্র্যাকটিস বন্ধ রাখিয়া এখানে-ওখানে ঘরাইয়া আনিল সকলকে, পৰ্ববঙ্গে বশুরবাড়ি গিয়া রহিল কিছুদিন, কলিকাতায় আসিয়া ডাক্তার-কবিরাজ দেখাইল, তখনকার মত উপশম না হইল যে এমন নয় । কিন্তু দেশে আসিয়াই যথা পড়বং তথা পরং।’ বড় ছেলেটির বয়স বারো, সে তিন ক্লোশ দরবত্তী রামনগরের হাই স্কুলের বোডিং-এ থাকিয়া পড়াশনা করিতেছিল । ছোট ছেলেটিকেও এবার সতীশ সেখানে রাখিয়া দিল । এ-সব বাংলা ১৩১২ সালের কথা । তারপর যেমন অন্য পাঁচজন মানষের দিন যায়, সতীশের দিনও তেমনি ভাবে যাইতে লাগিল। রোগী দেখা, টাকা রোজগার, সংসার প্রতিপালন । ছেলেরা বড় হইল। বড় ছেলেটির নাম বিনয়, সে আই-এস-সি পাশ করিয়া মেডিকেল কলেজে ডান্ডারী পড়িতে লাগিল। সতীশ পত্রবধর মুখ দেখিবার জন্য এই সময় তাহার বিবাহও দিল । ছোট ছেলে তখনও কুলের ছাত্র, সে তার দাদার চেয়েও মেধাবী এবং সবন্ধি । ইতিমধ্যে নানাসহান হইতে তাহার বিবাহের সৎবন্ধ যাতায়াত করিতেছিল। এ সব গেল বাহিরের ব্যাপার। সতীশের মনের বড় অন্তুত পরিবত্তান হইতে লাগিল ধীরে ধীরে । পনেরো-ষোলো বৎসর ধরিয়া সে এই গ্রামে এবং পাশ্ববত্তী অঞ্চলে ডাক্তারী করিতেছে—এই পনেরো-ষোলো বৎসরের জীবনে নিতান্ত একঘেয়ে ; রোগী দেখা, খাওয়া, ঘুমানো—ভূষণ দী-এর দোকানে বসিয়া মাঝে মাঝে গল্প-গজেব, সংসারের বাজার-হাট করানোর ব্যবস্হা করা—দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বংসরের পর বৎসর—একঘেয়ে, এক রকম জীবনধারা, বৈচিত্র্য নাই, পরিবত্তন নাই, নতুনতর অনুভুতির কোনো আসিবার পথ নাই কোনো দিক দিয়া । কিন্তু সতীশ এ বিষয়ে খুব সচেতন নয়, জীবনে তেমন আর আনন্দ নাই, এ কথা এক-আধবার তাহার মনে যে না উঠিয়াছে এমন নয়—কিন্তু এ লইয়া ভাবিতে সে বসে নাই কখনো, ভাবিবার সময়ও পায় নাই ।