পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ළු9 বিভূতি-রচনাবলী অফিসে সে নানা হানের ভ্রমণকাহিনী পড়ে, ডেকের মধ্যে পরিয়া রাখে। পরানো বইয়ের দোকান হইতে নানা দেশের ছবিওয়াল বণনাপণ বই কেনে—নানা দেশের রেলওয়ে বা স্টীমার কোম্পানী যে সব দেশে যাইতে সাধারণকে প্রল-ধ করিতেছে—কেহ বলিতেছে, হাওয়াই দ্বীপে এস একবার—এখানকার নারিকেল কুঞ্জে, ওয়াকিকির বালুময় সমুদ্রবেলায় জ্যোৎস্নারাত্রে যদি তারাভিমুখী উৰ্ম্মিমালার সঙ্গীত না শনিয়া মর, তবে তোমার জীবন বথা । 輕 এলো-পাশো দেখ নাই। দক্ষিণ কালিফোণিয়ার চুনাপাথরের পাহাড়ের ঢালতে, শান্ত রাত্রির তারাভরা আকাশের তলে কবল বিছাইয়া একবারটি ঘুমাইয়া দেখিও শীতের শেষে নড়িভরা উচুনীচু প্রাস্তরে ককশ ঘাসের ফাঁকে ফাঁকে দু-এক ধরণের মাত্র বসন্তের ফুল প্রথম ফুটিতে শরে করে, তখন সেখানকার সোডা-আলাকালির পলিমাটিপড়া রৌদ্রদীপ্ত মক্ত মর্যবলয়ের রহস্যময় রপে—কিংবা ওয়ালোয়া হ্রদের তীরে উন্নত পাইন ও ডগলাস ফারের ঘন অরণ্য, হ্রদের স্বচ্ছ, বরফগলা জলের তুষারকিরিটী মাজামা আগ্নেয়গিরি প্রতিচ্ছায়ার কল্পন— উত্তর আমেরিকার ঘন স্তম্বধ, নিজন অরণ্যভূমির নিয়ত পরিবত্তনশীল দশারাজি,ককশ বন্ধর পৰবতমালা, গভীরনিনাদী জলপ্রপাত,ফেনিল পাহাড়ী নদীতীরে বিচরণশীল বলগা হরিণের দল, ভালক, পাহাড়ী ছাগল, ভেড়ার দল, উষ্ণ প্রস্রবণ, তুষারপ্রবাহ, পাহাড়ের ঢালর গায়ে সিডার ও মেপল গাছের বনের মধ্যে বনো ভ্যালেরিয়ান ও ভায়োলেট ফুলের বিচিত্র বণসমাবেশ-দেখ নাই এসব ? এস এস । টাহিটি! টাহিটি ! কোথায় কত দরে, কোন জ্যোৎস্নালোকিত রহস্যময় কুলহীন স্বপ্ন-সমাদের পারে, শুভরাত্রে গভীর জলের তলায় যেখানে মুক্তার জন্ম হয়, সাগরগহায় প্রবালের দল ফুটিয়া থাকে, কানে শুধ দরশ্ৰত সঙ্গীতের মত তাহাদের অপব্ব আহবান ভাসিয়া আসে । অফিসের ডেকে বসিয়া এক একদিন সে সবপ্নে ভোর হইয়া থাকে—এই সবের সবপ্নে। ঐ রকম নিজন স্হানে, যেখানে লোকালয় নাই, ঘন নারিকেল কুঞ্জের মধ্যে ছোট কুটিরে, খোলা জানালাদিয়াদরের নীল সমুদ্র চোখে পড়িবে—তার ওপারে মরকতশ্যাম ছোট ছোট দ্বীপ, বিচিত্র পক্ষীরাজি, অজানা দেশের অজানা আকাশের তলে তারার আলোয় উৎজল মাঠটা একটা রহস্যের বাত্তা বহিয়া আনিবে—কুটিরের ধারে ফুটিয়া থাকিবে ছোট ছোট বনফুল—শুধ সে আর অপণা । এই সব বড়লোকের টাকা আছে, কিন্ত জগৎকে দেখিবার, জীবনকে বুঝিবার পিপাসা কই এদের ? এ সিমেন্টে বাঁধানো উঠান, চেয়ার, কোচ, মোটর—এ ভোগ নয়, এই শোঁখীন বিলাসিতার মধ্যে জীবনের সবদিকে আলো-বাতাসের বাতায়ন আটকাইয়া এ মরিয়া থাকা— কে বলে ইহাকে জীবন ? তাহার যদি টাকা থাকিত ? কিছও যদি থাকিত, সামান্যও কিছ । অথচ ইহারা তো লাভ ক্ষতি ছাড়া আর কিছু শেখে নাই, বোঝেও না, জানে না, জীবনে আগ্রহও নাই কিছতেই, ইহাদের সিন্দুক-ভরা নোটের তাড়া। এই অফিস-জীবনের বন্ধতাকে অপর শাস্তভাবে, নিরপোয়ের মত দ, িবলের মত মাথা পাতিয়া স্বীকার করিয়া লইতে পারে নাই । ইহার বিরুদ্ধে, এই মানসিক দারিদ্র্য ও সংকীর্ণতার বিরদ্ধে তাহার মনে একটা বাঞ্চ চলিতেছে অনবরত, সে হঠাৎ দামবার পাত্র নয় বলিয়াই এখনও টিকিয়া আছে,—ফেনোছিল সরার মত জীবনের প্রাচুর্য ও মাদকতা তাহার সারা অঙ্গের শিরায় উপশিরায়—ব্যগ্ন, আগ্রহভরা তরণ জীবন বকের রক্তে উন্মত্ততালে পদিত হইতেছে দিনরাত্রি—তাহার স্বপ্নকে আনন্দকে নিঃশ্বাস বদ্ধ করিয়া মারিয়া ফেলা খুব সহজসাধ্য নয় । 14শু এক এক সময় তাহারও সন্দেহ আসে। জীবন যে এই রকম হইবে, সযোদয়