পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8১২ বিভূতি-রচনাবলী বল্লে, হ্যাগা, ওদেশের পোপে নাকি খুব বড় বড় ? কাল পরের পর থেকে বাক্স গুছিয়েচে••• মানকচু সঙ্গে নিয়ে যাবে বলে বিকেলে বেছে বেছে বড় মানকচুটা ওর ভাইকে দিয়ে তোলালে। রাত্রে ঘামোয় না—কেবল বাসার গল্প করে-- এ করবো-ও করবো--"আমায় বল্লে —পেতলের ডেকচিতে খেয়ে খেয়ে তোমার অসুখ হয়েছে “তারা তো আর তেমন মাজে না ? •••অসখের আর দোষ কি ? সেখানে মাটির হাঁড়ি-কড়ি পাওয়া যাবে তো ?--রাত অনেক হয়েছে দেখে আমি বল্লাম—শোও ঘমোও, কাল আবার সারাদিন গাড়ির কষ্ট হবে"রাত দােপর হোল•••ঘুমিয়ে পড়া “কোথায় চলে গেল আর-“আর আমায়রোধে খাওয়াতে আসবে না।••• হঠাৎ একটা গোলমাল ও বচসার আওয়াজে ভদ্রলোক ও আমি দুজনেই ফিরে চাইলাম । বিনোদ বড়িয্যে ও তার বন্ধ: টিকিট বাবর সঙ্গে কি নিয়ে ঝগড়া বাধিয়েছে এবং আমার মনে হোলো তারা এমন সব কথা বলচে যা হয়তো তারা স্বাভাবিক অবস্থায় বলতে সাহস কতো না টিকিট বাবকে । বিনোদ বড়িয্যে বলচে, যান যান মশাই অনেক দেখোঁচ ওরকম —আমরা গড়বাড়ি বড়িয্যে—সতোহাটা পরগণার মধ্যে যেখানে যাবেন ওদিকে তমলুক এস্তেক—আমাদের এক ডাকে চেনে—ছোট নজর যেখানে দেখি সেখানে আমরা থাকি নে । এই শীতের রাতে কে আসতো মশাই ?—আমাদের আগে খোলসা করে আপনার বলা উচিত ছিল তা হোলে দেখতাম নৈহাটির বাজার থেকে কোন ব্যাটা পৈতেওলা বামন আজ মড়া নিয়ে আসতো-“মন্দ"ফরাস দিয়ে না যদি••• ব্যাপার কি উঠে দেখতে গেলাম ; বিনোদ বড়িয্যে আমায় দেখে বললে, এই তো এই ভদ্দর লোক রয়েছেন—আচ্ছা বলনে তো আপনি ? আমরা সকলের আগে বলে দিয়েচি আমাদের এই চাই, এই চাই-এখন আসলে হাত গটোলে চলবে কেন ? আপনিই বলন তো ?--হ’্যা, মানুষ বলি এই বাবকে-কোনো লোভ নেই, উনি খাবেন না, কিছু করবেন না—উনি এসেচেন মড়া নিয়ে এই শীতে। উনি বলতে পারেন—ও'র পায়ের ধলো নিয়ে মাথায় দিতে হয়— ঝোঁকের মাথায় বিনোদ বড়িয্যে সত্যিই আমার পায়ে হাত দেবার জন্যে ছটে এল । আমি সেখান থেকে সরে পড়লাম—এদের অপ্রকৃতিস্হ অবস্হার ভাগ-বাঁটোয়ারা সংক্রান্ত কথার মধ্যে আমার থাকবার দরকার কিসের ? মনে কেমন একটা দুঃখ হোল। এই অভাগিনী পল্লীবধর অন্ত্যেটিক্লিয়ার উপযুক্ত সন্মান এখানে রক্ষিত হলো না । মনে হোল ও এখানে কেন ? এই জ্যোৎস্নাপ্লাবিত গঙ্গার উদাম তরঙ্গভঙ্গ, এই হিমবষী নক্ষত্রবিরল বিরাট আকাশ, এই অমঙ্গলময়ী মহানিশার মৃত্যু অভিযান–জীবনের নানা ছোটখাটো সাধ যাদের মেটে নি, এ রদ্র আহবান তাদের বেলা আর কিছুদিন হগিত রাখলে বিশ্বকমার কাজের কি ক্ষতিটা হোত ?...ছোট একটি গহচ্ছ বাড়ির দাওয়ায় মেয়েটি খোকাকে কোলে নিয়ে দুধ খাওয়াচ্ছে, সবে সে নদীর ঘাট থেকে গা ধয়ে এসেচে, পায়ে আলতা, কপালে টিপ, খোঁপাটি বাঁধা—ওকে মানায় জীবনের সেই শাস্ত পটভূমিতে—শরশানে মাতালের হাড়োহাড়ির মধ্যে ওকে এনে ফেলা যেমনি নিষ্ঠুর তেমনি অশ্লীল--- রাত দাপরে' বিনোদ বড়িয্যে হঠাৎ কি মনে করে আমার পাশে এসে বসলো। সে আমার প্রতি অত্যন্ত ভক্তিমান হয়ে উঠেচে“আমি কি করি কোথায় থাকি, বাড়িতে কে কে আছে,—এই সব নানা প্রশ্নে ব্যতিব্যস্ত করে তুলল । —আপনি মশাই এর মধ্যে মানুষ । মানুষ চিনি মশাই, আজ না হয় দেখাচেন ইস্টিশানে