পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৪২৮ বিভূতি-রচনাবলী আছে কিন্ত আমার বলবার উদ্দেশ্য বাংলা দেশটাতে যদি আজ সারেন্ডা রিজাভ ফরেস্টের মত একটা অরণ্য গড়ে উঠত, তার বনবৈচিত্র্য ও সৌন্দয" এবং নিবিড়তা অনেক বেশী হ'ত— শ্রীনগরের ও ছঘরের পথের ধারের বন দেখে এ ধারণা আমার মনে আরও বদ্ধমতল হয়েছে । তবে বাংলার বনে পাহাড়ী নদী বা ঝরণা নেই, ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত শিলাখণ্ড নেই-তেমনি ও সব বনের পথে এত পাখী নেই, বিচিত্র বণের বনপল্পের সবাস নেই। এ আমি স্বীকার করি যদি বাংলা দেশের বনভূমির পিছনে থাকত দুরবিস্তৃত নীল গিরিমালা, মাঝে মাঝে যদি কানে আসত পাহাড়ী ঝরনার কুলকুল শব্দ, শিলাসন আস্তৃত থাকত স্নিগ্ধ ছায়া ঝোপের নিচে, চরত ময়র, চরত হরিণ-নন্দন—উপলাকীর্ণ বন্য নদীর শিলাময় দই তটে স্তবকে স্তবকে স্বাসভরা বনকুসুম ফুটে থাকত—গিরি-সান দেশে থাকত ঘনসন্নিবিষ্ট বাঁশবন—তবে এ বন আরও সদর হত । কলপলোক ছাড়া সে বন কোথায়—যেখানে এত সৌন্দষ্যের একত্র সমাবেশ সম্ভব ? অন্ততঃ আমি তো দেখি নি । যদি কোথাও এমন থাকে ভারতবষের মধ্যে তবে আমার সন্দেহ হয় তা আছে বা থাকা সম্ভব গোদাবরী তীরের অরণ্যে, রাজমহেন্দী থেকে গোদাবরীর উজান পথে গিয়ে উতকামন্দ ও কোদাই কানাল অঞ্চলে। মহীশর ও হিবাকুরের রিজাভ ফরেস্টে, হিমালয়ের নিম্ন অধিত্যকীয়, আসামের বনে । যদিও এদেশের প্রত্যেকটি সম্বন্ধে আমি যা কল্পনা করচি তা আছে কিনা সে বিষয়ে আমার যথেস্ট সন্দেহ । আজ মনে বড় আনন্দ ছিল । জগো আর গোপালকে সঙ্গে নিয়ে বন-ফুলের সবাসভরা বনপথ দিয়ে বেলেডাঙার আইনন্দি মণ্ডলের বাড়ি গেলাম। অইনদি যত্ন করে বসালে—ও নিজে কত গ্রামে পরিচিত সে গল্প করলে । বহরপী সেজেচি বাপ, কাটাম ডুর খেলা খেলেচি—নাগরদোলা ঘুরিয়েচি ।” আমি ওকে খুশি করবার জন্যে বললাম—চাচা তোমাকে অনেক দরের লোকে জানে । ও বড় খুশি হ’ল । বললে—শোন তবে আমার কত গায়ের লোকে জানে। এই কাটকোমরা, ইচ্ছেপর, মেটিরি, শলকো হানিডাঙা--- তার তালিকা আর শেষ হয় না । বললে—তা লাঠিতে বা বন্দকে মরব না, আমার গরের কৃপায় । আগন খাব । শ্যন্যে উড়ে যাব । মড়ে কেটে আবার জোড়া দেব । আমি বিস্ময়ের সরে বললাম-“বল কি চাচা ? • হ’্যা, তোমাদের বাপ-মার আশীবাদে, গণে কিছু ছেল শরীলে । ওই যেখানে চটকা তলায় সায়ের ছেল, ওখানে এক সমিসি এসে আস্তানা বাঁধে আজ চল্লিশ বছর আগে। আমার তখন অনুরাগ বয়েস। তিনিই আমার ওস্তাদ । সন্ধ্যা হয়ে গিয়েচে দেখে উঠলাম। জগো, গোপাল ও আমি ঘন বনের পথে আবার ফিরি। তখন কুঠীর মাঠের জঙ্গলে অন্ধকার বড় ঘন হয়েচে । ওরা বাঘের ভয়ে বনের মধ্যে কথাবাত্ত" বলে না। আমি যত সাহস দিই, ওরা তত ভয় করে। আমাদের ঘাটে যখন এসেচি, তখন নিস্তদ্ধ নদীচরের ওপরকার আকাশে অগণ্য দাতিলোক—বনশিমের ফুল ফোটা ঝোপটি ঘাটের ওপর নত হয়ে আছে, জোনাকী ঝাঁক জলচে অন্ধকারের ফাঁকে ফাঁকে । বাড়ি এসে দেখি সবাই বাড়ির চারিদিকে মাটির প্রদীপ জেলেচে, কারণ আজ দীপ দ্বান করবার নিয়ম । ক্ষদদের বোধনতলায়, আমার লেখবার ঘরের সামনে, পঢ়িদিদিদের