পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


898 বিভূতি-রচনাবলী আমায় ছাড়তে হবে এবার । সার অলিভার লজের পত্রাবলীর মধ্যে সেদিন পড়লম এই বিশাল বিশ্বের আকৃতি, গঠন 2FTāwī (Structure and extent of the Universe ) slo isosi Moos o osco —Eið GF EIAsIII fEfR AFT5R CTYFLSI—“Universc is thc body of God—this is one of His modes of manifestations,’ old offbo foto SIFT-I, soft, as Eosals, কীটপতঙ্গ, মানুষ, জীবজন্ত—সব মিলেই তিনি। তিনি এই ভাবে পদাথের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করচেন । তাই উপনিষদ বলেচে—‘একমেবাদ্বিতীয়ম’ । একই আছে, দ্বিতীয় আর কিছু নেই । ঈশোপনিষদের—‘ঈশাবাস্য মিদং সৰব*ং যৎকিঞ্চি জগত্যাং জগৎ ।” আজ সন্ধ্যায় দমদমার বাগান বাড়ি থেকে ফিরে এসে বারান্দায় দাঁড়িয়ে নক্ষত্র জগতের পানে চেয়ে চেয়ে ঐ সব কথাই মনে হচ্ছিল । সেদিনকার সেই গানটা—“The home I was born.’ আমার কানে এখনও যেন বাজচে—তা থেকেই কথাটা মনে এল । এ রকম যে কতবার হয়েচে । একটা অনুভুতি পেলে মন শীঘ্ৰ চলে যায় আর এক শ্রেণীর অনুভুতিতে । শকেবারে বিকেলে বনগাঁয়ে গেলাম। সেখানে নেমে বাসায় গিয়েই খয়রামারির মাঠে বেড়াতে গেলাম তখন চাঁদ উঠেচে—মাটির সোঁদা সোঁদা সুগন্ধ ভুর ভুর করচে বাগানে । কেলেকোঁড়ার ফুল এখনও আছে বটে, সুগন্ধ নেই । দ-দিন বনগাঁয়ে থেকে আজ বিকেলের ট্রেনে এলমে কলকাতায়—জাপানী কবিনোগচিকে P. E. N.-এর পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা করা হচ্ছে । প্রথমেই হোটেলের হলে ঢুকে দেখি তখনও "সবাই আসে নি, কেবল মণীন্দ্র বসু ও দ-পাঁচজন এখানে ওখানে আছে। কিরণশঙ্কর রায়ের সঙ্গে গালডি ও ঘাটশিলা সম্বন্ধে কথাবাত্তা বলচি, এমন সময়ে পবিত্র এসে বললে, তোমাকে ডাকচে, নলিনী পণ্ডিত তোমার সঙ্গে দেখা করতে চায় । তাকে কে একজন তোমার সম্পকে পত্র লিখেচে সেজন্যে । * বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলচি, মণীন্দ্র এসে টেনে নিয়ে গেল । তারপর সবাই টেবিলে যে যার বসে গেল । সুরমা বস ও ক্ষীরোদের স্ত্রী, আমি এবং নিমলি বস এক টেবিলে । চা পরিবেশন হওয়ার পরে স্যান্ডউইচ চলেচে সেই সময় নোগচি এলেন । কালিদাস নাগ নিয়ে এলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দী কবি-সম্মেলন থেকে । রামানন্দবাব উঠে তাঁর ষষ্টিতম জন্মতিথি উপলক্ষে অভিনন্দন জানালেন । নরেন দেব আমাকে ডেকে নিয়ে গেলেন চার রায়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরিচিত করতে । চার রায় কেন যে সাহেবী পোশাক পরে এসেচেন, এ আমি বুঝতে অক্ষম, যেখানে নোগুচি নিজে এসেচেন জাপানী পোশাকে । তারপর নোগুচি নিজের জাপানী কবিতা পাঠ করলেন এবং তারপর ইংরেজী অনুবাদ পড়লেন। কালিদাস নাগ আন্তজাতিক P. E. N.-এর সভাপতি H. G. Wells-এর একখানা চিঠি পড়লেন। আমাদের বঙ্গীয় P. E. N.-এর প্রতি শুভেচ্ছাজ্ঞাপক পত্র। জাপানী কনসাল জেনারেল কিছদ বললেন, কিস্ত তা কেউ বুঝতে পারলে না । যখন এ পর্য্যস্ত হয়েচে—তখন চপলা দেবীর ভাই ফণী চক্ৰবত্তী এসে আমাদের টেবিলে বসল। সুরমা বস তাকে চা করে দিলেন । ফণীর সঙ্গে মণীন্দ্র বস আমার আলাপ করিয়ে দিতে যাচ্ছিল—ফণী হেসে বললে অনেক কালের আলাপ আছে, আলাপ করিয়ে দিতে হবে না । তারপর জাপানী সাহিত্য সম্বন্ধে সে কিছু কিছ নিজের মত জানালে, বিশেষতঃ নোগচির কবিতা সম্বন্ধে। আমি, নিম’লবাব ও ফণী তিনজনেই তখন মজে গিয়েচি। সুরমা বসকে ইউরোপীয় সঙ্গীত বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। কারণ তিনি মিউনিকে বেহালা শিখতে গিয়েছিলেন এবং জামান ক্লাসিকাল