পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


80& বিভূতি-রচনাবলী তাঁর আসতে একটু দেরিই হোল । সোয়েন হেডিনের তাকলা-মাকান মরুভূমি পার হওয়ার গল্প করলাম—ওরা খুব মন দিয়ে শনলেন । সকালে বীরেশ্বরবাব এলেন । তারপর বালিগঞ্জে অন্নদা দত্তের বাসায় গেলাম, দপরে নিমন্ত্রণ ছিল । অন্নদাবাবরে শরীর খুব খারাপ—পবে দেশের জন্যে খুব করেচেন—এখন কেউ মানে না, পৌঁছে না—অথচ চট্টগ্রাম মেডিকেল কুলের জন্যে উনি কি ভয়ানক পরিশ্রমই না করেচেন। আমি সব জানি । ১৯২২-২৩ সালের কাউন্সিলে উনি চট্টগ্রামের প্রথম M. L. C. ছিলেন । আমি ওর কাগজপত্র আমাদের League Office থেকে টাইপ করে এনে দিতুম । অন্নদাবাবর মেয়ে মণির সঙ্গে পনেরো বছর পরে দেখা । ওর ভাল নাম যে মণিকুন্তলা তা আমি আজ এতকাল পরে ওর মুখে শনলাম । মণি তখন ছোট মেয়ে ছিল, —আমি যখন ১৯২২ সালে অন্নদাবাবরে বাড়িতে গিয়েছিলাম চট্টগ্রামে । আমার মুখে গল্প শনতে ও ভালবাসত। মণি যে বত্তি পেয়ে ম্যাট্রিক ও আই-এ পাস করেছিল—সে সব খবর আমি আজই প্রথম জানলাম । ওর ছোট একটি মেয়েকে কোলে নিয়ে বসে রইলাম—বেশ চার মাসের ছোট খকৌটি । পৃথিবী অস্তুত, জীবন অভূত। কে ভেবেছিল যে আজ এত বছর পরে মণির সঙ্গে বালিগঞ্জে এভাবে আবার দেখাশোনা হবে । মণির মখে শুনলাম সপ্রভা মণিদের নিচে পড়ত এবং দু-জনে এক সঙ্গে দেশে যেত । ওখান থেকে বার হয়ে আমি আর বেগন এলমে মণীন্দ্র বসরে বাড়ি । সেখান থেকে সরমা বসরে বাড়ি,—রামমোহন রায় রোডে । বেশ সাজানো বাড়ি, সাজানো ড্রয়িং রাম । সরমা বস ও তাঁর একটি বোন গান গাইলেন বড় চমৎকার। মেয়েটি মিউনিকে ছিলেন, ইউরোপীয়ান মিউজিক শিখতেন। দেখে মনে হোল এই সব মেয়ে, মণি, সুরমা বস কেমন চমৎকার ঘর বর পেয়েচে, বেশ আছে । কিন্ত যার আরও বেশী ভালভাবে এ সব জিনিস পাওয়া উচিত ছিল—সে কোথায় পড়ে কট পাচ্চে, তার কিছুই হোল না । জীবনে এমন ট্র্যাজেডি কতই যে হচ্চে প্রতিনিয়ত। অথচ সে কি বধিতে, কি বিদ্যায়—কোন অংশে এদের চেয়ে কম তো নয়ই—বরং অনেক বেশী। ভেবে সত্যিই বড় কাট হয় । সরমা বসর সদর গান শনিবার সময়ে আরও মনে হোল পল্লীগ্রামের সেই সব অভাগিনী মেয়েদের কথা, যারা জীবনে কোন সখেই কোনদিন পেলে না । এমন কত আছে, জীবনে তাদের সঙ্গে কত ভাবে কত পরিচয় । আজ সন্ধ্যায় তাদের সবারই করণ মখ মনে পড়ে আনন্দের পরিবত্তে গভীর দুঃখ ও সহানুভুতিতে মন ভরে উঠল । , আজ সাতভেয়ে তলায় আমাদের বনভোজন গেল। বনগাঁয়ের আমাদের বন্ধবোন্ধব উকীল মোক্তার সকলেই ছিল, তা ছাড়া সাবরেজিস্টার ও ডাক্তার। বেলা দশটার সময়ে নেীকো করে আমরা গান করতে করতে নদীপথে চলেচি—পরেনো বনগী ও শিমুলতলার সবাই ভাবচে এ আবার বাবদের কি খেয়াল ! তারপর বটতলায় গিয়ে মাদর পেতে বসে আমরা সবাই খব গল্পগজব করলাম। আমরা ধর্মপান করতে পারি নি, কারণ প্রবণের দল সম্ববাদা কাছে কাছে রয়েচে । সতীশ মামাকে অনেক কৌশল করে সরিয়ে একটু আমাদের সবিধে করে নেওয়া গেল। এর আগেও গত পজোর ছয়টিতে একদিন সাতভেয়ে তলায় এসে খদ, খড়ীমা, ন-দি আমরা সবাই বনভোজন করে খেয়েছিলাম। এত বড় বটগাছ এখানে আর কোথাও নেই,—এক রাজনগরের বট ছাড়া। নদীর দ-ধারে এড়াষ্টির ফুল ফুটে আছে—কিস্ত কুঠীর মাঠের সে শোভা নেই এখানে । রামায়ণে সেই শ্লোকটা মনে পড়ল—