পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উমি্মখের 880 বিবাহের কথা হবে অন্নদাশঙ্করের আত্মীয়ের সঙ্গে এবং আমিই তার ঘটক। পাক সাকাসের বাস থেকে নেমে যখন মণীন্দ্র বসার বাড়ি ষাচ্চি, তখন ছিন্নভিন্ন বাদলা মেঘের অন্তরালে প্রতিপদের চাঁদ উঠেচে, সে যে কি এক সৌন্দয্যভরা ছবি, না দেখলে বোঝানো যাবে না। তখনই আমার বিহারের জঙ্গলের ও তার হতভাগ্য দরিদ্র নরনারীদের কথা কি জানি হঠাৎ মনে পড়ল, তাদের মধ্যে ছ-বছর থেকেচি, তাদের সব অবস্হাতে দেখোঁচ, জানি। আর সেই নিজজন বনানী ! রাত্রে পরিপণ জ্যোৎস্না উঠেচে যখন বিছানাতে এসে শুই ; মণীন্দ্রবাবুর বাড়িতে চার রায়, সরেন্দ্র মৈত্র এদের সঙ্গে spiritualism নিয়ে ঘোর বাদানুবাদ করে বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েচি। তারপর হিমালয়ের শঙ্গরাজি ও গঙ্গার উৎপত্তিস্হান সম্বন্ধে আর একপালা বাদানবোদ । আজ ট্রামে স্কুল থেকে গেলমে গঙ্গার ধারে । গিরিজাপ্রসন্ন সেনের কবিরাজি ডিসপেনসারির মধ্যে আয়েল-পেণিটংখানা ঠিক সেই জায়গাটিতে আছে -- বাবার সঙ্গে কতবার ভগবতীপ্রসন্ন কবিরাজের কাছে আসতুম। বাড়িটা সেইরকমই আছে, তবে খাব পরোনো হয়ে পড়েচে । ভাবলাম আজ এই যে এই ঘরে ঢুকলম, জীবনে যা কিছল সব হয়েচে, সেবার এই ঘর থেকে বার হবার ও এবার পুনরায় ঢুকবার মধ্যে, সেই যে ছেলেবেলায় কিশোর কাকা সত্যনারায়ণের পুথি পড়তেন তাও,--যুগল কাকাদেরঢে’কশেলে আমি, ভরত, নেড়া বাদলার দিনে খেলা করতাম তাও, বাবার সঙ্গে আমি হ:কোর দোকানে বসে লুচি খেয়েছিলাম তাও, প্রথম যেদিন ধানবনের মধ্যে দিয়ে স্কুলে ভক্তি হতে যাই বনগাঁয়ে তাও, সব কিছল,—সব কিছ, কত কথা মনে হোল, সারা জীবনটা যেন এক চমকে দেখতে পেলাম গঙ্গাপ্রসাদ সেনের বড় অয়েল পেন্টিংটার সামনে বসে । তারপর গিরিজাবাবরে সঙ্গে ওদের বৈঠকখানায় অনেকক্ষণ বসে গল্প করি। কত পরোনো আমলের ছবি টাঙানো, যে সব ছবি আর এখন মেলে না। উঠোনের সেই জায়গাটি যেখানে বসে বাল্যে একদিন মধ্যছন্দার অভিনয় দেখেছিলাম ভূষণ দাসের যাত্রার দলে, সব সেই রকমই আছে তবে যেন বড় পরোনো হয়ে গিয়েচে । বারাকপরে শৈশবে যাপিত কত রাঙা সন্ধ্যা, পাখীর ডাক ও মায়ের মখ মনে পড়ল— বাড়ির পিছনে বাঁশবনের কত দিনের কত ছায়া গহন, রাঙা রোদ গাছের মাথায় মাখানো সন্ধ্যা। যে সন্ধ্যা, যে শৈশব, যে বারাকপর আর কখনও ফিরে আসবে না আমার জীবনে । ওখান থেকে বার হয়ে গঙ্গার ধারে বাঁধানো ঘাটের পৈঠায় অনেকক্ষণ বসে রইলাম। কালোর বৌভাতে শনিবার বাড়ি গিয়েছিলাম। দাপরে খয়রামারির মাঠে যেমন বেড়াতে যাই,—গিয়েচি। একটি ঝোপের ধারে বৈচি গাছে কচি বৈচি পাতা গজিয়েছে, মাথার ওপর নীল আকাশ, কি ঘন নীল, বাতাসে যেন সঞ্জীবনী মৰ্ম্ম, মাঠের সন্বলি ছড়ানো শিমল গাছ ফুলে রাঙা হয়ে রয়েচে । ট্রেনে আসতে কাল শনিবারে রাঙা শিমল ফুলের শোভা মন্ধে হয়ে শধে চেয়ে চেয়ে দেখোঁচ, মনে মনে ভাবি প্রতি বৎসর দেখচি আজ চল্লিশ বছর কিস্ত এরা তো পরোনো হোল না, কেন পরোনো হোল না—কেন প্রতি বৎসর শিরায় শিরায় আনন্দের স্রোত বইয়ে দেয়, তা কে বলবে ? গত শক্লেবারে আবার বসিরহাট গিয়েছিলাম। মাঠে মাঠে শিমল গাছগুলি রাঙা হয়ে উঠেচে ফুলে ফুলে, বৈচি ফুল ফুটেচে বাঁশবনের শুকনো ঝরা লতার মধ্যে, বাতাবী লেব