পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S$ বিভূতি-রচনাবলী মনে হয়, এ কাহারও মা, কাহারও স্ত্রী, কাহারও বোন । জীবনে এই তিনরপেই সে নারীকে পাইয়াছে, তাহাদের মঙ্গল হস্তের পরিবেষণে এই ছাব্বিশ বৎসরের জীবন প'ষ্ট হইয়াছে, তাহাদের কি চিনিতে বাকী আছে তাহার ? স্টীমার ছাড়িয়া দুজনে নৌকায় চড়িল । অপর্ণার খড়তুতো ভাই মারারি উহাদের নামাইয়া লইতে আসিয়াছিল, সে-ও গল্প করিতে করিতে চলিল । অপণা ঘোমটা দিয়া একপাশে সরিয়া বসিয়াছিল । হেমন্ত-অপরাহের স্নিগ্ধ ছায়া নদীর বকে নামিয়াছে, বা দিকের তীরে সারি সারি গ্রাম, একখানা বড় হাঁড়ি-কলসী বোঝাই ভড় যশাইকাটির ঘাটে বাঁধা। অপর মনে একটা মুক্তির আনন্দ—আর মনেও হয় না যে জগতেশীলেদের অফিসের মত ভয়ানক মহান আছে । তাহার সহজ আনন্দ-প্রবণ মন আবার নাচিয়া উঠিল, চারিধারের এই শ্যামলতা, প্রসার, নদীজলের গন্ধের সঙ্গে তাহার যে নাড়ীর ষোগ আছে । কৌতুক দেখিবার জন্য অপণাকে লক্ষ্য করিয়া হাসিমুখে বলিল—ওগো কলাবোঁ, ঘোমটা খোলো, চেয়ে দ্যাখো, বাপের বাড়ির দ্যাশটা চেয়ে দ্যাখো গো— মরারি হাসিমুখে অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া রহিল । অপণা লৎজায় আরও জড়সড় হইয়া বসিল । আরও খানিকটা আসিয়া মুরারি বলিল—তোমরা যাও, এইখানেই হাটে যদি বড় মাছ পাওয়া যায়, জ্যাঠাইমা কিনতে বলে দিয়েছেন। এইটুকু হেটে যাব এখন । মরারি নামিয়া গেলে অপণা-বলিল—আচ্ছা, তুমি কি ? দাদার সামনে ওইরকম করে আমায়-তোমার সেই দণ্টেমি এখনও গেল না ? কি ভাবলে বল তো দাদা-ছিঃ ! পরে রাগের সরে বলিল—দ টু কোথাকার, তোমার সঙ্গে আমি আর কোথাও কখখনো যাবো না —কখখনো না, থেকে একলা বাসায় । & —বয়েই গেল ! আমি তোমাকে মাথার দিব্যি দিয়ে সেধেছিলাম কিনা ? আমি নিজে মজা ক'রে রোধে খাব ৷ —তাই খেও । আহা হা, কি রান্নার ছাঁদ, তব যদি আমি না জানতাম আল ভাতে, বেগন ভাতে, সাত রকম তরকারী সব ভাতে—কি রাঁধনী ! —নিজের দিকে চেয়ে কথা বলো। প্রথম যেদিন খলনার ঘাটে রে’ধেছিলে, মনে আছে —সব আল নি ? —ওমা মা আমার কি হবে । এত বড় মিথ্যেবাদী তুমি, সব আলনি ! ওমা আমি কোথায়— o —সব। বিলকুল। মায় পটলভাজা পৰ্য্যস্ত । অপণা রাগ করিতে গিয়া হাসিয়া ফেলিল, বলিল—তুমি ভাঙন মাছ খাও নি ? আমাদের এ নোনা গাঙের ভাঙন মাছ ভারী মিটি। কাল মাকে বলে তোমায় খাওয়াব । —লৎজা করবে না তার বেলায় ? কি বলবে মাকে—ও মা, এই আমার— অপণা স্বামীর মুখে হাত চাপা দিয়া বলিল—চুপ। ঠিক সন্ধ্যার সময় অপণাদের ঘাটে নৌকা লাগিল। দুজনেরই মনে এক অপন্বে" ভাব । শটিবনের সগন্ধভরা নিগধ হেমন্ত-অপরাহু তার সবটা কারণ নয়, নদীতীরে ঝুপসি হইয়া থাকা গোলগাছের সবজি সারিও নয়, কারণ—তাহারে আনন্দ-প্রবণ অনাবিল যৌবন—ব্যগ্ন, নবীন, আগ্রহভরা যৌবন । জ্যোংনারাত্রে উপরের ঘরে ফুলশয্যার সেই পালকে বাতি জালিয়া বসিয়া পড়িতে পড়িতে সে অপণার প্রতীক্ষায় থাকে। নারিকেলশাখায় দেবীপক্ষের বকের পালকের মত শঙ্খ চাঁদের আলো পড়ে, বাহিরের রাত্রির দিকে চাহিয়া কত কথা মনে আসে, কত সব