পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উমি্মুখর 884 চলে যাচ্ছি। আগে কেন ভাব হোল না।•••ইত্যাদি । অদ্ভুত মেয়ে বটে । ভারী ভাল লাগে ওকে, সব সময়ে ‘বাবা" বলে ডাকবে আমাকে । রেণুর কথাটা কেমন এক ধরণের আনন্দে আমায় ক-দিন যেন ডুবিয়ে রেখেচে । এমন একটা মনের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটল—যার সন্ধান পথে ঘাটে পাওয়া যায় না। তাই সবাইকে গল্প করে বেড়াচ্চি। আজ বিকেলে নীরদবাব, বউঠাকরান, পশুপতিবাবু, মিসেস দাশগুপ্ত সবাই মিলে গড়িয়ার মাঠে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সঙ্গে হারমোনিয়াম গিয়েছিল, স্টেশনে নেমে মাঠের মধ্যে বসে আমরা গান গাইলম । আমি হালয়া তৈরী করলাম উন্ন জেলে। চা খাওয়ার পরে গল্পগুজব হোল। আমার কিস্ত রেণর কথা বার বার মনে হয়ে বিকালটা কি রকম হয়ে গেল। কেবলই মনে হয়, আহা, রেণ থাকলে বেশ হত ! ওদের কাছে কথাটা বললাম। ওরা তো শুনেই বললে, আগে কেন বললেন না, আমরা গিয়ে তাকে নিয়ে আসতুম । কাল রেণদের বাড়ি গিয়েছিলাম। যেমন গিয়েচি ও তখনই দৌড়ে একখানা পাখা নিয়ে আমায় বাতাস করতে বসল, বললে,—শরবৎ করে নিয়ে আসি, দড়িান। তারপর সব সময়েই মণি, আমি আর ওর বাবা গল্প করচি, রেণ, আমার পাশে জানলার ধারে বসে রইল । লক্ষীপুজো গিয়েচে কাল ওদের বাড়িতে, তা ও ভুলেই গিয়েচে । ওর বাবা বুলে, আপনি এসেচেন আর ও সব ভুলে গিয়েচে । বাইরের বারান্দাতে জ্যোৎস্নায় মণি ওর কলেজ-জীবনের কত কথা বললে। রেণ বললে—আপনার জন্যে রজনীগন্ধা রেখেছিলাম, শকিয়ে গিয়েচে, পদ্ম আছে, দেব এখন ? আসবার সময় নিচু পয্যন্ত নেমে এল সঙ্গে, আর কেউ নয়, মণি এসেছিল, কিস্ত ওর বাবা ডাকলেন বলে আমি আবার ওপরে গেলাম উঠে, তাই মণি এবার আর আসে নি কিন্ত রেণ্য দু-বারই এল । আমার কোলের কাছটি ঘেষে দাঁড়িয়ে বললে— আপনি বুধবারে আসবেন তো ? আমি পথের দিকে চেয়ে থাকি, কখন আসবেন । কি সন্দের মেয়ে ! ছ-বছর পরে খন্দদের ওখান থেকে বেড়িয়ে এসে দপুর বেলাতে মনে বেশ আনন্দ হোল, কারণ পথে পথে নতুন-পাতা-ওঠা গাছ, কোকিলের ডাক । রাত দশটার পরে জ্যোৎসনা উঠেচে, চেয়ার পেতে বাইরে বসে দেখি আর ভাবি, কাল ঠিক জ্যোৎস্না উঠতে দেখে মণি আমার সঙ্গে তক করলে যে এটা নাকি শক্লেপক্ষ—ওদের বাড়ির ছাদে । তারপর, তিন আর আমি খয়রামারির মাঠে গেলাম বেড়াত্ত্বে । বেশ জ্যোৎসনা উঠেচে–পথে ঝোপেঝাড়ে কত কি ফুলের সগন্ধ। এই গ্রীষ্মকালে বনঝোপে রাত্রে নানারকম বনফুল ফোটে—তার মধ্যে বনমল্লিকা বেশী । মনে এমন একটা অঙ্গভূত আনন্দ ও উত্তেজনা আসে যে মনে হয় খয়রামারির মাঠেই সারারাত বসে থাকি। খনতুর কথা ও রেণ-র কথা যত মনে হয় আর তত আনন্দ বেশী পাই। মাথার ওপরে কেমন নক্ষত্র উঠেচে, এই জ্যোৎস্না রাত্রে সারা বিশ্বের কেন্দ্রগহলে ষে প্রীতি ও ভালবাসা উৎসারিত হচ্চে, পবিত্র প্রাণের অবলম্বনে তারা আমার জন্যে, তোমার জন্যে, সেই প্রীতি ভালবাসার কিছু অংশ homely ভাবে পরিবেশন করবে। কতরাত্রে ফিরে এলাম, তবুও ঘমে আসে না । একে গরম, তাতে আনন্দের উচ্ছাস মনের মধ্যে, কি করে ঘমোই ? জীবনে আজকাল বড় বেশী আনন্দ পাচ্চি, খানিকটা মানুষের সঙ্গে মানষের সম্পক' থেকে । নৌকো করে সকালে বারাকপরে যাচ্চি। এ সময়টা আর কখনও ইছামতীতে নেীকো