পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উমি্মুখর 88ఫీ বনগী থেকে আসবার সময়ে । এই বছরেই কতকাল পরে দেখা হয়ে গেল রাজলক্ষীর সঙ্গে— সেদিন রাণাঘাট স্টেশনে । আচ্চারদার সঙ্গে রাণাঘাট মেডিকেল মিশনে, চড়কের দিন দেখা হোল । উমার সঙ্গেও বারাকপরে প"চিশ-ছাবিশ বছর পরে। এই বছরেই ডাঃ পি. সি. রায়েদের আন্ডাতে আবার যাচ্চি ১৯১৪ সালের ছাত্র-জীবনের মত । এই বছরেই বনগাঁয়ে মিনদের বাসায় গিয়ে রোজ গান শনি, সেখানে ১৯১৮ সালের পরে আর কোনদিন পদাপণ করি নি। আবার এই গত গ্রীমাবসানেই বাগান গাঁয়ে রাখালী পিসীমার বাড়ি গিয়েছিলাম, তের বছর পরে। এই বছরেই এই সেদিন কবিরাজ গঙ্গাপ্রসাদ সেনের সেই ডিসপেনসারি ঘরটাতে গিয়ে গিরিজাপ্রসন্নবাবর সঙ্গে কথা বলে এলমে—যেখানে আমার ন-বছর বয়সের শৈশবে শেষ বার গিয়েছিলাম। এ সবের চেয়েও বড় ও আমার কাছে সকলের চেয়ে মধর— এই বছরেই এই সেদিন শনিবার গিয়ে পানিতরে সেই ওপরের ঘরটাতে রাত্রিযাপন করলাম বহুকাল পরে, আমার বিয়ের পরে যে ঘরটাতে আমি ও গৌরী থাকতুম । ওদের সঙ্গেও আবার একটা যোগ স্হাপিত হয়েচে এই বছরেই ; জীবনে কখনোও যে আবার যাব তার আশা ছিল না । বশুরবাড়িতে ওদের বাড়িটার পিছনে কি আছে জানতুম না—তা এবার জেনেচি ৷ বহুকাল পরে মারাতপুরে মামার বাড়ির ওপরের ও নিচের ঘরে এবার দোলের সময় আবার রাত্রি কাটিয়ে এসোঁচ । আমির সঙ্গে দেখা হয়েচে এবছরে, দিদির সঙ্গে দেখা হয়েচে তাও এবছরে । 彎 অপদ্রবণ ১৩৪২ সাল কেটে গেল আমার পক্ষে । পরোনো বন্ধদের হারাতে চাই নে, বড় কষ্ট হয়। যে যেখানে আছে, যাদের কতভাবে, কতরপে পেয়েচি—সব ভাল থাকুক, মাঝে মাঝে তাদের যেন দেখতে পাই । ওঃ সেই বায়োকোপওয়ালা সাহেবের সঙ্গে দেখা হয়ে কি আনন্দই পেয়েছিলাম আজ বিকেলে। ভাল কথা—লিখতে ভুল হয়ে গিয়েচে, এই কালই বিকেলে ভাগলপুরের যতীন বাবরে মেয়ে সত্যপ্রিয়ার সংবাদ পেয়েচি । কেবল দটি কন্ট মনে রয়েচে—উষার সঙ্গে দেখা হয় নি বহনকাল—ভাবচি গরমের ছুটিতে, কি পজোর ছয়টিতে একবার এলাহাবাদে যাব। আবার একদিন রাজপরের বিন্দদের শ্বশুরবাড়িতে গেলাম রাধানাথ মল্লিকের লেনে। বিন্দ বড় ভাল মেয়ে, ভারি আদরযত্ন করলে ৷ একে ছোট অবস্হায় দেখেছিলাম—আবার দেখলাম এই বছরই প্রথম । আবার বড়মামার ছেলে গলকে আজ আট বছর পরে এই বছরই দেখলাম । কত বছর পরে কুসুমের সঙ্গেও দেখা হয় গত ২৫ই মে । রেণদের বাড়ি আর একদিন গিয়েছিলাম। ওরা ছেলেমানযে, ভূতের গল্প শনে খুব খুশি । আমায় আবার একটা লেবেণুষের কোঁটা উপহার দিলে রেণ । বললে, আপনি আমাদের মত ছেলেমানুষ, তাই এটা দিলাম আপনাকে । ওরা কাল রবিধারে চাটগাঁ চলে গেল, আমি সকালে তুলে দিতে গেছলাম, ওরা ঠিকনা দিয়ে চিঠি দিতে বললে । রেণর তো কথাই নেই, সে জেতনকে বললে, আপনাকে ধন্যবাদ যে আপনি এ’র সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছেন । রেণ্যর পত্র পেয়েচি । সে গিয়েই পত্র লিখেচে, আর তাতে লিখেচে, আসন শীগগির একবার চাটগাঁয়ে । আমি আর একদিন রাজপরে গিয়েছিলাম । বদনাথ ও খকেী বলছিল, রেণ আর একদিন ওখানে গিয়েছিল বেড়াতে, সেদিন আমি ছিলাম না তাই শুধই আমার নাম করেচে।“ওইখানে বাবা শয়েছিলেন, এখানে বসে বাবার সঙ্গে কত গল্প করেছিলাম--- শধে এই সব কথাই হয়েচে । সেদিন রাজপর থেকে ফিরবার পথে জ্যোৎস্নালোকিত প্ল্যাটফর্মে" বসে বসে কেবল এই সব ভেবেচি। বি. র. (৩য়)—২৯