পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8&8 বিভূতি-রচনাবলী profile, the whole aspect suggesting abundance of thought and life--.” আমাদের দেশে রবীন্দ্রনাথ ছাড়া কার সম্বন্ধে সে কথা বলা যায় ? 零 রাত্রে মন রায়ের বাড়িতে সামাজিক দলাদলির মিটিং হোল রাত একটা পয্যন্ত । * গাঁয়ের সবাই ছিল, কিছুতেই আর মেটে না। নানা কথা ওঠে, এ রাগ করে চলে যায়, ও রাগ করে চলে যায়। শেষ পয্যন্ত কিছুই মীমাংসা হোল না। আমায় দু-বার ডাকতে এল, আমি যাই নি । " সারাদিন বর্ষার বটি । আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, পথে ঘাটে জল বেধেচে । বৈকালে বটি একটু ধরেছিল, সন্ধ্যায় আবার মেঘ এল ঘনিয়ে । আমি সেই সময় নদীর জলে নেমেচি নাইতে–মাধবপুরের পারের ওপরে সেই মেঘনীল দিবলয়ের পটভূমিতে একটা শিমল গাছ কি সুন্দর দেখাচ্চে । এই ইছামতী, এই মেঘমালা, এই বর্ষার সবুজ বনভুমি এমনি থাকবে—অথচ আমরা চলে যাবো আমাদের সকল সুখ-দঃখ নিয়ে, আজকের এই মেঘ-মেদর সন্ধ্যার সকল অনভূতি নিয়ে। ঘাটের ওপর ওই বনসিম লতার কোলের নিচে খকুর সে ছবিটা ক্ৰমে বহ,দরের হয়ে পড়েচে, এই পল্লীনদীটির শ্যামতীরে বাঁশ ও বনসিম লতার ছায়ায় অক্ষম হয়ে থাকবে সে ছবি, এর আকাশে বাতাসে মিলিয়ে, কিন্তু তাকে চিনে নেবার লোক থাকবে না কেউ, কেউ এমন থাকবে না যার মনে ও ছবি বেচে থাকবে । বারাসাত গেলাম পশুপতিবাবর কাছে । উনি সকালেই যেতে লিখেছিলেন । কিন্তু শরীরটা একটু খারাপ ছিল । বারাসাত নেমে দেখি এ অঞ্চলে খুব ব্যটি হয়ে গিয়েচে—অথচ কলকাতায় এক ফোঁটাও জল নেই। হাসপাতালে গিয়ে দেখি পশুপতিবাব জেল দেখতে গিয়েচেন । আমি বসে রইলাম, তারপর পশুপতিবাব এলেন । আমায় পেয়ে খুব খুশি । দু-জনে হাসপাতাল দেখতে গেলাম, গোবরডাঙ্গা থেকে এসেচে একটা জখম রোগী। তার মাথায় দু-তিনটা বড় বড় গত্ত । তার বড় ভাই নাকি বিষয়ের ভাগ দিতে হবে বলে তার মাথায় ওই রকম মেরেচে। পশুপতিবাব বললেন, লোকটা বাঁচবে না। জাতিতে ব্রাহ্মণ, গাঙ্গলি, গোবরডাঙার কাছে বেড়গমি গ্রামে বাড়ি । হাসপাতালের কালো, মোটা মত একটা নাস ওকে যত্ন করচে দেখলাম । তারপর জেল দেখতে গেলাম । তখন কয়েদীরা সব খেতে বসেচে। খাবার বন্দোবস্ত দেখে মনে হোল জেলের মধ্যে ওরা বেশ সুখেই থাকে । দিব্যি সাদা চালের ভাত, তরকারিটা রোধেচে তার বেশ সদগন্ধ বেরচ্ছে, ডালটাও বেশ ঘন । সপ্তাহে একদিন মাছ, একদিন মাংস দেয় । ওরা নিজেদের বাড়িতে অমন খাদ্য প্রতিদিন তো দরের কথা কালেভদ্রে খেতে পায় কি না সন্দেহ । একজন কয়েদী ভদ্রলোকশ্রেণীর, তাকে বললাম, আপনার কি হয়েছিল, কতদিনের জেল ? বললে, চিটিং কেস মশাই, পনেরো মাসের জেল । আর একটা ছোকরাকে বসিরহাট অঞ্চল থেকে ধরে এনেচে । তার বিচার এখনও হয় নি। জিজ্ঞেস করলাম—কি করেছিলে ? বললে—একটা মেয়েকে খনে করেচি । —কেন খন করলে ? —বাব, চারদিন খাইনি। ওর গায়ে গয়না ছিল, সেই লোভে মেরেচি। আমরা বললাম-বাপ। ওরকম বোলো না, পলিসের কাছেও না বিচারের সময়ও না। বললে মারা পড়বে । তারপর এসে একটা বড় পুকুরের ধারে বসলাম । তখন বন্টি থেমে গিয়েচে । পুকুরের