পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উমি্মুখর 894 আমি ওদের সকলকে অনেকদিন পরে একজায়গায় দেখলাম,—বড় ভাল লাগছিল । রাত দশটার ট্রেনে কলকাতায় এলমে । পরদিন শনিবার বনগাঁ যাব, ঠিক দুপারবেলা থেকে ঝমােঝম ব্যটি শার হোল—অতি কন্টে বটির মধ্যে দিয়ে তো ট্রেন ধরলাম। বণ্টিনাত ঘন সবুজ গাছপালা, ধানের ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে ট্রেন বনগাঁ গিয়ে পৌছল। খয়রামারিতে ফুটবল ম্যাচ দেখতে গেলাম । তার পরদিন সকাল থেকে কি বিশ্রী বাদলা । নদীর জলে ঘোলা এসেচে, ঘাস পৰ্য্যস্ত ডুবে গিয়েচে, এত জল বেড়েচে নদীতে। এখন তো খুবই ভাল, মুশকিল বাধবে সেই কাত্তিক মাসে যখন হাঁটুভ’র কাদা হবে নদীর ধারের সম্ববত ! 證 সোমবার বৈকালে চলে এলমে কলকাতায় । দিনটা পরিৎকার ছিল, নীল আকাশ, রৌদ্রও উঠেচে । মনে হোল ওই প্রজাপতির দলের উড়ে বেড়ানোর দিকে চেয়ে সারাদিন যদি বসে থাকি, চমৎকার গলেপর প্লট মনে আনতে পারি । এই আলো ছায়ার খেলাতেই মনের ভাব নতুন ধরনের হয়—মাটির সঙ্গে, প্রস্ফুটিত ভায়োলেট রঙের বনকলমী ফুলের শোভা ব্যটিধোয়া নীল আকাশের রাপে । আজ স্কুলের ছাদ থেকে দর্পরের চনমনে রোদে দীর আকাশের দিকে চেয়ে রবীন্দ্রনাথের গানটি মনে পড়ল— ‘কেন বাজাও কাঁকন কনকন কত ছল ভরে । ওগো, ঘরে ফিরে চল কনককলসে জল ভরে” । এই গানের ছত্র দটির সঙ্গে আমার আঠার বৎসর পবেকার প্রথম যৌবনের জীবনের একটা ঘনিষ্ঠ সাপক আছে । চেয়ে চেয়ে মনে হোল বষাসতেজ সবুজ গাছপালা বনঝোপে ঘেরা কোন একটি নিভৃত পল্লীভবনে তারা এখনও সব কিশোরই রয়ে গিয়েচে কত বৎসর আগের সেই এক প্রথম শরতের দিনগুলির মত i কোথায় যে তারা ছায়াছবির মত মিলিয়ে গিয়েচে রজনীর মধ্যযামে শুক্লা চতুর্থীর চাঁদ যেমন মিলিয়ে যায়, এ কথা ভুলেই গেলমে ক্ষণকালের জন্যে। পেট্রাকের সবধে যে কথা হয়েচে, বড় সত্যি সে কথা । ‘Know that for a lofty soul death is but a release from prison, that she frightens only those who look for their whole happiness in this poor earth.” ইত্যাদি । প্রায় ছ-বছর পরে আবার রামরাজাতলায় গিয়েছিলাম রামরাজা ঠাকুরের ভাসান দেখতে । ননীদের বাড়ি গিয়ে উঠলাম, জতু খাব খুশি হোল, জতুর মাকে দেখলাম আজ বহুকাল পরে। অনেক সব পরোন কথা হোল । সাঁতরাগাছি গ্রাম সম্বন্ধে ননী এমন সব গল্প করলে যাতে জায়গাটার ওপরে আমার কোন শ্রদ্ধা রইল না। একজন লোকের স্ত্রী একটু পাগল মত, সে লোকটা নাকি তার স্ত্রীকে প্রায়ই এমন মারে যে দু-তিন দিন বেচারী আর উঠতে পারে না। অথচ সেই লোকটি এখানে নাকি একজন সমাজপতি । কলকাতার এত কাছে অথচ কালচার বলে কোনও জিনিস নেই এখানে, লোকে বোঝে দশটায় খেয়ে আপিসে ছোটা, আর রবিবার দিন ভাল করে বাজার করে দাপরে ঠেসে খাওয়া । গ্রামটাও অত্যন্ত নোংরা, চারিদিকে খোলা ড়েন, জঞ্জাল, দুগ'-ধ, নোংরা জল গড়িয়ে চলেচে রাস্তার পাশ দিয়ে । আমি *যতক্ষণ ছিলাম, দম বন্ধ হবার উপক্রম হয় আর কি । রামরাজার মিছিল বার হবার আগে আমি আর ননী দু-জনে পথের ধারে একখানা গরুর গাড়ির ওপর গিয়ে বসলাম। প্রথমে বাকসাড়া ও ব্যাতড়ের নবনারী কুঞ্জর বেরলে, সঙ্গে অনেক সঙ, কাগজের এরোপ্লেন, রাক্ষসী ইত্যাদি । পেছনে এল রামরাজার মিছিল । শেষের