পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উমি্মখের 8୯୪ নানারকম অভিজ্ঞতা হচ্চে । এই অভিজ্ঞতা বিভিন্ন ধরনের জীবনযাত্রা প্রণালী সম্বন্ধে । জীবমটাকে এভাবে দেখাও বড় দরকার বলে মনে করি । তবে পাটিতে জীবন দেখার চেয়ে আমি যে লোকজনের বাসায় গিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে তাদের সঙ্গে মিশি, ওতে আরও ভাল করে ওদের দেখা হয়, যেমন রামপ্রসাদের বাড়ি, বকুদের বাড়িতে বিনর পাগল হয়ে যাওয়া রাতের দশ্য, রমা যখন আমাদের কাছ থেকে চলে গেল মীরাট, তার সেই আকুল কান্নার দশ্য, রাজপরে তেতুলের বৌয়ের অসখের জন্যে চান্দ্রায়ণ করবার ব্যাপার ইত্যাদি । অনেকদিন আগে কামাখ্যা ছিল ইউনিভাসিটি ইনস্টিটিউটের একজন চাই থিয়েটারের সময়ে মেয়েদের পাট" সে-ই করতো, এবং আমাদের সময়ে বেশ নামও করেছিল তাতে । কাল ইনস্টিটিউটে আর একটি ছেলেকে মানময়ী গাল’স স্কুলে নীহারিকার পাট করতে দেখলাম-- এত চমৎকার মানিয়েছিল তাকে যে কোথায় লাগে মেয়েদের । যেমন রপসী, তেমনি কমনীয় কান্তি, তেমনি গলার সর ও গান ! হায় কামাখ্যা, তুমি এখন কোথায় তাই ভাবি ! সে ভাল লেখাপড়া শেখে নি, থিয়েটার করে বেড়াতো, বোধহয় বি. এ. পাসটাও করেছিল । কোন পাড়াগাঁয়ে এতদিন ছেলেমেয়ে পরিবত হয়ে দাবাপাশা ও দলাদলির চচ্চা করচে। এখন তার মনের সে সফত্তি নেই, চোখের জলস কমেচে, চুলে পাক ধরেচে, মুখশ্রীর সে কমনীয়তা আর নেই। এখন যে নীহারিকার পাট করল, সে ছেলেটি সে সময়ে হয়তো ছিল তিন-চার বছরের শিশ । ‘মানময়ী গাল’স স্কুল’ দেখতে দেখতে হঠাৎ আজ কামাখ্যার কথা মনে পড়ল কেন কি জানি । একদিন মাত্র কলকাতা থেকে বেরিয়োচ অমনি কি ভালই লাগচে । আজ সকালে উঠে অশোক গপ্তের বাড়ি গেলাম, সেখান থেকে খেয়ে দুজনেই যতীশবাবদের গাড়িতে গ্নে স্ট্রীট দিয়ে ট্রান্ড য়োড দিয়ে হাওড়া স্টেশনে । বসন্মতাঁর সেই পরোনো বাড়িটা, বাবার সঙ্গে যেখানে বল্যে একদিন এসেছিলম, সেটা সেই রকমই আছে । কুসুম বলে বাল্যে যে মেয়েটিকে জানতুম, এখন সে বড়ী হয়েচে, ছেলেবেলায় আমায় তার ছেলের মত ভালবাসতো, সে থাকে কাছেই ওই বাড়িটাতে । ট্রেনে ভিড় নেই, কারণ পুজোর সময় তো আর নয়। দিব্যি আরামে বেচিতে বিছানা পেতে নিলাম। সাঁতরাগাছি স্টেশনে উঠলো কিশোর কাকার ছেলে সন্তোষ, তাকে উঠিয়ে দিতে এল জীবন। আজ দিনটা বাদলা, জোলো হাওয়া দিচ্চে । কোলাঘাটে রপনারায়ণের কি রপে, কুলে কুলে ভরা গৈরিক জলরাশি তাঁরবেগে ছটেচে। সেই অন্তরীপ মত জায়গাটা, যেটা প্রতিবারই মনে করিয়ে দেয় পজোর সময়, সেটা কেমন চমৎকার দেখাচ্চে । রেলের বাঁধের ধারে ঘন বনঝোপে কত কি ফুল ফুটেচে। এসব গাছের নাম জানি নে। এ অঞ্চলে গাছগলি আমার সম্পণ অপরিচিত, একমায় বনকলমী ফুল ছাড়া । হলদে কাপাস তলোর গাছের বড় ফুল, ঘে'টকোল ফুলের মত বড় বড় ফুল, সাদা সাদা কুচো ফুল, আরও কত কি ! এবার জল বেজায় বেড়েচে, সব গ্রামের বাড়িঘরের চারিধারে জল ভৰ্ত্তি, ডোবা, বিল, পুকুর । কোলাঘাটে গাড়ি একঘণ্টা দাঁড়িয়ে রইল লাইন বন্ধ ছিল বলে । খড়গপর ছাড়িয়েচি, সেই সময় আবার মেঘ করে এল। ঝাড়গ্রামে থামবার কিছর আগে সন্তোষ গ্রামের কথা উপলক্ষে বললে—গণেশ মচির ছোট ছেলেটি মারা গিয়েচে । শনে খুবই দুঃখিত হলাম, গণেশ বড়ো হয়েচে, ওই ছেলেটিকে বড় ভালবাসতো। আর একটা খবর বললে—হরিদাদার মেয়ে কনকের বিয়ে হয়েচে এক বড়ো বরের সঙ্গে। আরও দুঃখিত হলাম, কনক মেয়েটি বড় সন্দরী, তার জন্যে তার বাবা ওর চেয়ে