পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত 86. অপর বকের ভিতরটা হঠাৎ যেন হিম হইয়া গেল। কেমন করিয়া আপনা-আপনি তাহার মুখ দিয়া বাহির হইল—অপণা নেই ? —মরারি নিজেকে আর সামলাইতে পারিল না। -क श्झर्गछळ ? —কাল সকালে আটটার সময় প্রসব হ’ল—সাড়ে ন’টার সময়— —জ্ঞান ছিল ? —আগাগোড়া। ছোট কাকীমার কাছে চুপি চুপি নাকি বলেছিল ছেলে হওয়ার কথা তোমাকে তার ক’রে জানাতে । তখন ভালই ছিল । হঠাৎ ন’টার পর থেকে— ইহার পর অপর অনেক সময় ভাবিয়া আশ্চৰ্য্য হইত—সে তখন স্বাভাবিক সরে অতগুলি প্রশ্ন একসঙ্গে করিয়াছিল কি করিয়া ! মারারি বাড়ি ফিরিয়া গল্প করিয়াছিল—অপব্বকে কি ক'রে খবরটা শোনাব, সারা রেল স্টীমারে শুধু তাই ভেবেছিলাম—কিস্ত সেখানে গিয়ে আশ্চয্য হয়ে গেলাম, আমায় বলতে হ’ল না—ওই খবর টেনে বার করলে । মরারি চলিয়া গেলে সন্ধ্যার দিকে একবার অপর মনে হইল, নবজাত পত্রটি বাঁচিয়া আছে, না নাই ? সে কথা তো মরারিকে জিজ্ঞাসা করা হয় নাই বা সে-ও কিছু বলে নাই । কে জানে, হয়ত নাই । 翰 কথাটা ক্ৰমে বাসার সকলেই শুনিল । পরদিন যথারীতি অফিসে গিয়াছিল, অফিস হইতে ফিরিয়া হাতমখে ধুইতেছে, উপরের ভাড়াটে বন্ধ সেন মহাশয় অপদের ঘরের বারান্দাতে উঠিলেন। অপ বলিল—এই যে সেন মহাশয়, আসন, আসনে । সেন মহাশয় জিহদা ও তালর সাহায্যে একটা দুঃখসচক শব্দ উচ্চারণ করিয়া টুলখানা টানিয়া লইয়া হতাশভাবে বসিয়া পড়িলেন । . —আহা-হা, রপে সরস্বতী গণে লক্ষসী । কলের কাছে সেদিন মা আমার সাবান নিয়ে কাপড় ধচ্ছেন, আমি সকাল সকাল স্নান করব বলে ওপরের জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখি । বললাম—কে, বৌমা ? তা মা আমার একটু হাসলেন—বলি তা থাক, মায়ের কাপড় কাচা হয়ে যাক । স্নানটা না হয় ন’টার পরেই করা যাবে এখন—একদিন ইলিশ মাছের দুইমাছ রোধেছেন, অমনি তা বাটি ক'রে ওপরে পাঠিয়ে দিয়েছেন—আহা কি নরম কথা, কি লক্ষীশ্রী—সবই শ্রীহরির ইচ্ছে ! সবই তাঁর— তিনি উঠিয়া যাইবার পর আসিলেন গাঙ্গালী-গহিণী। বয়সে প্রবীণা হইলেও ইনি কখনও অপর সঙ্গে সাক্ষাৎভাবে কথাবাত্তা বলেন নাই । আধঘোমটা দিয়া ইনি দোরের আড়াল হইতে বলিতে লাগিলেনু—আহা, জলজ্যান্ত বোঁটা, এমন হবে তা বখনও জানি নি, ভাবি নি—কাল আমার বড় ছেলে নবীন বলছে রাত্তিরে, যে, মা শনেছ এইরকম, অপববাবার স্মী মারা গিয়েছেন এই মাত্তর খবর এল—তা বাবা আমি বিশ্বাস করি নি। আজ সকালে আবার বাঁটুল বললে—তা বলি, যাই জেলে আসি—আসব কি বাবা, দই ছেলের আপিসের ভাত, বাঁটুলের আজকাল আবার দমদমার গলির কারখানার কাজ, দটো নাকেমখে গজেই দৌড়োয়, এখন আড়াই টাকা হস্তা, সাহেব বলেছে বোশেখ মাস থেকে দেড় টাকা বাড়িয়ে দেবে। ওই এক ছেলে রেখে ওর মা মারা যায়, সেই থেকে আমারই কাছে—আহা তা ভেবো না বাবা-সবারই ও কষ্ট আছে,-তুমি পরষ মানুষ তোমার ভাবনা কি বাবা ? বলে— বজায় থাকুক চড়ো-বাঁশী মিলবে কত সেবাদাসী— —একটা ছেড়ে দশটা বিয়ে কর না কেন ?—তোমার বয়েসটাই বা কি এমন—