পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&o বিভূতি-রচনাবলী অপর বিবর্ণমখে বলিল—কই না, আমার কাছে, হ্যাঁ-না আর বসব না—আচ্ছা। বাহিরে আসিয়া জগৎটা যেন অপর কাছে একেবারে নিজ’ন, সঙ্গীহীন, বিবাদ ও বৈচিত্র্যহীন ঠেকিল। কেন এ রকম মনে হইতেছে তাহার ? লীলা বিবাহ করিবে ইহার মধ্যে অসম্ভব তো কিছু নাই! সম্পণে স্বাভাবিক। তবে তাহার মন খারাপ করিবার কি আছে ? ভালই তো। জামাই ইঞ্জিনিয়ার,শিক্ষিত, অবস্থাপন্ন—লীলার উপযুক্ত বর জটিয়াছে, ভালই তো । রাস্তা ছাড়িয়া ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সম্মথের মাঠটাতে অন্ধ অন্ধকারের মধ্যে সে উদভ্ৰাস্তের মত অনেকক্ষণ ঘরিয়া বেড়াইল । লীলার বিবাহ হইয়াছে, খুবই আনন্দের কথা, ভাল কথা। ভালই তো । পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ কলিকাতা আর ভাল লাগে না, কিছুতেই না-এখানকার ধরাবাঁধা রুটিনমাফিক কাজ, বন্ধতা, একঘেয়েমি–এ যেন অপর অসহ্য হইয়া উঠিল। তা ছাড়া একটা যক্তিহীন ও ভিত্তিহীন অস্পষ্ট ধারণা তাহাঁর মনের মধ্যে কুমেই গড়িয়া উঠিতেছিল—কলিকাতা ছাড়িলেই যেন সব দুঃখ দরে হইবে—মনের শান্তি আবার ফিরিয়া পাওয়া যাইবে । শীলেদের অফিসের কাজ ছাড়িয়া দিয়া অবশেষে সে চাঁপদানীর কাছে একটা গ্রাম্য কুলের মাস্টারি লইয়া গেল । জায়গাটা না-শহর, না-পাড়াগাঁ গোছের - চারিধারে পাটের কল ও কুলিবস্তি, টিনের চালাওয়ালা দোকানঘর ও বাজার, কয়লার গড়োফেলা রাস্তার কালো ধলো ও ধোঁয়া, শহরের পারিপাট্যও নাই, পাড়াগায়ের সহজ শ্রীও নাই । বড়দিনের ছয়টিতে প্রণব ঢাকা হইতে কলিকাতায় অপর সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিল । সে জানিত অপ আজকাল কলিকাতায় থাকে না—সন্ধ্যার কিছু আগে সে গিয়া চাঁপদানী পে"াছিল । খুজিয়া খুজিয়া অপর বাসাও বাহির করিল। বাজারের একপাশে একটা ছোট্ট ঘর— তার অধোকটা একটা ডাক্তারখানা, স্থানীয় একজন হাতুড়ে ডাক্তার সকালে বিকালে রোগী দেখেন । বাকী অধোকটাতে অপর একখানা তত্ত্বপোশ, একটা অধময়লা বিছানা, খানকতক বই, একটা বাঁশের আলনায় খানকতক কাপড় ঝুলানো । তত্ত্বপোশের নিচে অপর স্টীলের তোরঙ্গটা । . . . অপু বলিল—এসো এসো, এখানকার ঠিকানা কি ক'রে জানলে ? —সে কথার দরকার নেই। তারপর কলকাতা ছেড়ে এখানে কি মনে ক'রে ?—বাস ! এমন জায়গায় মানষে থাকে ? --খারাপ জায়গাটা কি দেখলি ? তা ছাড়া কলকাতায় যেন আর ভাল লাগে না— দিনকতক এমন হ’ল যে, বাইরে যেখানে হয় যাব, সেই সময় এখানকার মাস্টারিটা জটে গেল, তাই এখানে এলাম। দাঁড়া, তোর চায়ের কথা বলে আসি— । পাশেই একটা বাঁকুড়ানিবাসী বামনের তেলেভাজা পরোটার দোকান। রাত্রে তাদেরই দোকানে অতি অপকৃষ্ট খাদ্য কলংক-ধরা পিতলের থালায় আনীত হইতে দেখিয়া প্রণব অবাক হইয়া গেল-অপর রচি অন্ততঃ মাeিজত ছিল চিরদিন, হয়ত তাহা সরল ছিল, DDB DBS BB DDu DB BS BB BBBB DD DDDDD S gBB BDDD নয়, রোজই রায়ে নাকি এই তেলেভাজা পরোটাই অপর প্রাণধারণের একমাত্র উপায় । এত অপরিকারও তো সে অপকে কস্মিনকালে দেখিয়াছে এমন মনে হয় না ।