পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&సీ विफूउि-ज्ञळ्नावलौ নাই, বদলও নাই । অপর কাহারো সহিত গায়ে পড়িয়া আত্মীয়তা করিতে যায় যে, কোন মতলব অটিয়া তাহা নহে, ইহা সে যখনই করে, তখনই সে করে নিজের অজ্ঞাতসারে—নিঃসঙ্গতা দর করিবার অচেতন আগ্রহে । কিস্ত নিঃসঙ্গতা কাটিতে চায় না সব সময় । যাইবার মত জায়গা নাই, করিবার মত কাজও নাই—চুপচাপ বসিয়া বসিয়া সময় কাটে না । ছয়টির দিনগুলি তো অসম্ভবরুপ দীঘ হইয়া পড়ে । নিকটেই ব্রাঞ্চ পোস্টাফিস । অপর রোজ বৈকালে ছয়টির পরে সেখানে গিয়া বসিয়া প্রতিদিনের ডাক অতি আগ্রহের সহিত দেখে । ঠিক বৈকালে পাঁচটার সময় সব-অফিসের পিওন চিঠিপত্র-ভরা সীল-করা ডাক-ব্যাগটি ঘাড়ে করিয়া আনিয়া হাজির করে, সীল ভাঙিয়া বড় কাঁচি দিয়া সেটার মুখের বাঁধন কাটা হয় । এক একদিন অপই বলে-ব্যাগটা খালি চরণবাব ? চরণবাব বলেন- হ্যাঁ হ্যাঁ, খলন না, আমি ততক্ষণ ইন্টাস্পের হিসেবটা মিলিয়ে ফেলি –এই নিন কাঁচি । n পোস্টকাড", থাম, খবরের কাগজ, পলিন্দা, মনি-অডার । চরণবাব বলেন—মনিঅডার সাতখানা ? দেখেছেন কাপডটা মশাই, এদিকে টাকা নেই মোটে । টোটালটা দেখন না একবার দয়া করে—সাতান্ন টাকা ন’ আনা ? তবেই হয়েছে—রইল পড়ে, আমি তো আর ইস্ত্রীর গয়না বন্ধক দিয়ে টাকা এনে মনি-অডার তামিল করতে পারি না মশাই ? এদিকে ক্যাশ বুঝে নেওয়া চাই বাবদের রোজ রোজ— , , প্রতিদিন বৈকালে পোস্টমাস্টারের টহলদারী করা অপর কাছে অত্যন্ত আনন্দদায়ক কাজ। সাগ্রহে স্কুলের ছয়টির পর পোস্টাপিসে দৌড়ানো চাই-ই তাহার । তার সবচেয়ে আকষণের বস্তু খামের চিঠিগুলি । প্রতিদিনের ডাকে বিস্তর খামের চিঠি আসে-- নানাধরণের খাম, সাদা, গোলাপী, সবুজ, নীল । চিঠি-প্রাপ্তিটা চিরদিনই জীবনের একটি দল্লভ ঘটনা বলিয়া, চিরদিনই চিঠির—বিশেষ করিয়া খামের চিঠির—প্রতি তাহার কেমন একটা বিচিত্র আকষণ । মধ্যে দ’ বৎসর অপণা সে পিপাসা মিটাইয়াছিল – এক একখানা খাম বা তাহার উপরের লেখাটা এতটা হুবহু সে রকম, যে প্রথমটা হঠাৎ মনে হয় বুঝি বা সেই-ই চিঠি দিয়াছে । একদিন শ্ৰীগোপাল মল্লিক লেনের বাসায় এই রকম খামের চিঠি তাহারও কত আসিত । তাহার নিজের চিঠি কোনদিন থাকে না, সে জানে তাহা কোথাও হইতে আসিবার সম্ভাবনা নাই-কিন্তু শধে নানা ধরণের চিঠির বাহ্যদশ্যের মোহটাই তাহার কাছে অত্যস্ত প্রবল । একদিন কাহার একখানি মালিকশন্য সাকিমশন্যে পোটকাডে’র চিঠি ডেড-লেটার অফিস হইতে ঘুরিয়া সারা অঙ্গে ভক্ত বৈষ্ণবের মত বহু ডাক-মোহরের ছাপ লইয়া এখানে আসিয়া পড়িল ৷ বহন সন্ধান করিয়াও তাহার মালিক জটিল না। সেখানা রোজ এগ্রাম ও-গ্রাম হইতে ঘুরিয়া আসে—পিওন কৈফিয়ৎ দেয়, এ নামে কোন লোকই নাই এ অঞ্চলে । ক্লমে– চিঠিখানা অনাদত অবস্থায় এখানে-ওখানে পড়িয়া থাকিতে দেখা গেলএকদিন ঘরবাটি দিবার সময় জঞ্জালের সঙ্গে কে সামনের মাঠের ঘাসের উপরে ফেলিয়া দিয়াছিল, অপ কৌতুহলের সঙ্গে কুড়াইয়া লইয়া পড়িল— শ্রীচরণকমলের 瞳 মেজদাদা, আজ অনেকদিন যাবৎ আপনি আমাদের নিকট কোন পরাঙ্গি দেন না এবং . আপনি কোথায় আছেন, কি ঠিকানা য়ু জানিতে পারায় আপনাকেও আমরা পর লিখি