পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নাই। আপনার আগের ঠিকানাতেই এ পরখানা দিলাম, আশা করি উত্তর দিতে ভুলবেন না। আপনি কেন আমাদের নিকট পর দেওয়া বধ করিয়াছেন, তাহার কারণ বধিতে সক্ষম হই নাই। আপনি বোধহয় আমাদের কথা ভুলিয়া গিয়াছেন, তাহা না হইলে আপনি আমাদের এখানে না আসিলেও একখানা পত্র দিতে পারেন । এতদিন আপনার খবর না জানিতে পারিয়া কি ভাবে দিন যাপন করিতেছি তাহা সামান্য পরে লিখিলে কি বিশ্বাস করিবেন মেজদাদা ? আমাদের সঙ্গে আপনার সম্পক কি একেবারেই ফুরাইয়া গিয়াছে ? সে যা হোক, যেরপে অদষ্ট নিয়ে জন্মগ্রহণ করিয়াছি সেইরুপ ফল । আপনাকে ব্যথা দোষ দিব না । আশা করি আপনি অসন্তোষ হইবেন না। যদি অপরাধ হইয়া থাকে, ছোট বোন বলিয়া ক্ষমা করিবেন। আপনার শরীর কেমন আছে, আপনি আমার সভক্তি প্রণাম জানিবেন, খুব আশা করি পরের উত্তর পাইব । আপনার পরের আশায় পথ চাহিয়া রহিলাম। ইতি— সেবিকা কুসমেলতা বস কাঁচা মেয়েলি হাতের লেখা, লেখার অপটত্ব ও বানান-ভুলে ভরা। সহোদর বোনের চিঠি নয়, কারণ পত্ৰখানা লেখা হইতেছে জীবনকৃষ্ণ চক্রবতী নামের কোন লোককে। এত আগ্রহপণ", আবেগভরা পত্ৰখানার শেষকালে এই গতি ঘটিল ? মেয়েটি ঠিকানা জানে না, নয় তো লিখিতে ভুলিয়াছে ! অপটু লেখার ছত্ৰে ছত্রে যে আন্তরিকতা ফুটিয়াছে তাহার প্রতি সম্মান দেখাইবার জন্য পত্ৰখানা সে তুলিয়া লইয়া নিজের বাক্সে আনিয়া রাখিল। মেয়েটির ছবি চোখের সম্মখে ফুটিয়া উঠে-পনেরো-ষোল বৎসর বয়স, সঠিাম গড়ন, ছিপছিপে পাতলা, একরাশ কালো কোঁকড়া কোঁকড়া চুল মাথায় । ডাগর চোখ ৷-“কোথায় সে তাহার মেজদাদার পত্রের উত্তরের অপেক্ষায় ব্যথাই পথ চাহিয়া আছে! মানবমনের এত প্রেম, এত আগ্রহভরা আহবান, পবিত্র বালিকাহাদয়ের এ অমল্য অঘ কেন জগতে এভাবে ধলোয় অনাদরে গড়াগড়ি যায়, কেহ পোছে না, কেহ তা লইয়া গম্ব করে না ? বিশ্বম্ভর স্যাকরার দোকানে সেদিন রাত এগারটা পষ‘্যস্ত জোর তাসের আন্ডা চলিল— সবাই উঠিতে চায়, সবাই বলে রাত দেশী হইয়াছে, অথচ অপর সকলকে অনুরোধ করিয়া বসায়, কিছুতেই খেলা ছাড়িতে চায় না। অবশেষে অনেক রাত্রে বাসায় ফিরিতেছে, কলদের পকুরের কাছে কুলের থাড" পণ্ডিত আশ্য সান্যাল লাঠি ঠকঠক করিতে করিতে চলিয়াছেন। অপকে দেখিয়া বলিলুেন, কি অপববাব যে, এত রাত্রে কোথায় ? —কোথাও না ; এই বিশ স্যাকরার দোকানে তাসের— থাড" পণ্ডিত এদিক-ওদিক চাহিয়া নিম্ন সরে বলিলেন-একটা কথা আপনাকে বলি, আপনি বিদেশী লোক-পণে দীঘড়ীর খ-পরে পড়ে গেলেন কি ক'রে বলনে তো ? অপ বঝিতে না পারিয়া বুলিল, খ-পরে-পড়া কেমন বাবতে পারছি নে—কি ব্যাপারটা বলনে তো ? so পণ্ডিত আরও নিচু সরে করিয়া বলিল—ওখানে অত ঘন ঘন যাওয়া-আসা আপনার কি ভাল দেখাচ্ছে, ভাবছেন ? ওদের টাকাকড়ি দেওয়া ও-সব ? আপনি হচ্ছেন ইস্কুলের মাস্টার, আপনাকে নিয়ে অনেক কথা উঠেছে, তা বুেধ করি জানেন না ? —না ! কি কথা ? —কি কথা তা আর বুঝতে পারছেন না মশাই ? হ'—পরে কিছু থামিয়া বলিলেন— ও সব ছেড়ে দিন, বাবলেন ? আরও একজন আপনার আগে ঐ রকম খ-পরে পড়েছিল, এখানকার মন্দ গুইয়ের আবগারী দোকানে কাজ করত, ঠিক আপনার মত অলপ বয়স—