পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত ά4 অমন করে, ওরা অভাবী লোক, বিশেষ করে দীঘড়ী-গিন্নী ভারী খেলোয়াড় মেয়েছেলে, বিদেশী লোক আপনি, আপনাকে বলে রাখি, ওদের সঙ্গে আত মেলামেশার দরকার কি আপনার ? মেয়ে-দুইটির সঙ্গে সে মেশে বটে। বড় মেয়েটির নাম পটেশ্বরী, বয়স বছর চোঁদ, পনেরো হইবে, রং উজ্জল শ্যামবণ", তবে তাহাকে দেখিয়া সন্দেরী বলিয়া কোনদিনই মনে হয় নাই অপর । তবে এটুকু সে লক্ষ্য করিয়াছে, তাহার সুবিধা অসুবিধার দিকে বাড়ির এই মেয়েটিই একটু বেশী লক্ষ্য রাখে। পটেশ্বরী না রাধিয়া দিলে অধোঁক দিন বোধ হয় তাহাকে না খাইয়াই স্কুলে যাইতে হইত। তাহার ময়লা রমালগুলি নিজে চাহিয়া লইয়া সাবান দিয়া রাখে, ছোট ভাইয়ের হাতে টিফিনের সময় তাহার জন্য আটার রুটি পাঠাইয়া দেয়, অপ খাইতে বসিলে পান সাজিয়া রামালে জড়াইয়া রাখে। কি একটা ব্রতের সময় বলিয়াছিল, আপনার হাত দিয়ে ব্ৰতটা নেব মাস্টার মশাই ! এ সবের জন্য সে মনে মনে মেয়েটির উপর কৃতজ্ঞ—কিন্তু এ সব জিনিস যে বাহিরেব দিক হইতে এরুপ ভাবে দেখা যাইতে পারে, একথা পয"শু তাহার মনে কখনও উদয় হয় নাই—সে জানেই না এ ধরনের সন্দিগধ ও অশুচি মনোভাবের খবর। সে বিস্মিতও হইল, রাগও করিল। শেষে ভাবিয়া চিন্তিয়া পরদিন হইতে পণে দীঘড়ীর বাড়ি যাওয়া-আসা বন্ধ করিল। ভাবিল—কিছ না, মাঝে পড়ে পটেশ্বরীকে বিপদে পড়তে হবে । Jo ইতিমধ্যে বাঁকুড়াবাসী বামনটি রাশীকৃত বাজার-দেনা ফেলিয়া একদিন ঝাঁঝরা, হাতম ও বেলনখানা মাত্র সবল করিরা চাঁপদানীর বাজার হইতে রাতারাতি উধাও হইয়াছিল, সতরাং আহারাদির খুবই কষ্ট হইতে লাগিল । ■ দীঘড়ী-বাড়ি হইতে ফিরিয়া সে মনে মনে ভাবিল, এরকম বাবা-মা তো কখনও দেখি নি ? বেচারীকে এ-ভাবে কট দেওয়া—ছিঃ- যাক, ওদের সঙ্গে কোনও সম্পক আর রাখব ना ! সেদিন ছয়টির পর অপর একখানা খবরের কাগজ উলটাইতে উলটাইতে দেখিতে পাইল একটা শিক্ষাবিষয়ক প্রবন্ধের লেখক তাহার বন্ধ জানকী এবং নামের তলায় ব্র্যাকেটের মধ্যে tat¬T ♥[[cg-On deputation to England. জানকী ভাল করিয়া এম-এ ও বি-টি পাশ করিবার পর গবন'মেণ্ট স্কুলে মাসটারি করিতেছে এ-সংবাদ পরেই সে জানিত কিন্তু তাহার বিলাত যাওয়ার কোন খবরই তাহার জানা ছিল না । কে-ই বা দিবে ? দেখি দেখি-বা রে! জানকী বিলাত গিয়াছে, বাঃপ্রবন্ধটা কৌতুহলের সহিত পড়িল । বিলাতের একটা বিখ্যাত কুলের শিক্ষাপ্রণালী ও ছাত্রজীবনের দৈনন্দিন ঘটনা-সংক্রান্ত আলোচনা। বাহির হইয়া পথ চলিতে চলিতে ভাবিল, উঃ, জানকী যে জানকী-সেও গেল বিলেত । মনে পড়িল কলেজ-জীবনের কথা-বাগবাজারের সেই শ্যামরায়ের মন্দির ও ঠাকুরবাড়ি —গরীব ছাত্রজীবনে জানকীর সঙ্গে কতদিন সেখানে খাইতে যাওয়ার কথা । ভালই হইয়াছে, জানকী কম কন্টটা করিয়াছিল কি একদিন । বেশ হইয়াছে, ভালই হইয়াছে। এ-অঞ্চলের রাস্তায় বড় ধলো, তাহার উপর আবার কয়লার গড়া দেওয়া—পথ হাঁটা মোটেই প্রতিকর নয়। দধারে কুলিবন্তীঃ ময়লা দড়ির চারপাই পাতিয়া লোকগলা তামাক টানিতেছে ও গল্প করিতেছে । এ-পথ চলিতে চলিতে অপরিচ্ছন্ন, সঙ্কীণ বস্তীগলির দিকে চাহিয়া সে কতবার ভাবিয়াছে, মানুষ কোন টানে, কিসের লোভে এ-ধরণের নরককণ্ডে বেচ্ছায় বাস করে ? জানে না, বেচারীরা জানে না, পলে পলে এই নোংরা