পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত &b. বাঃ রে, আবার কোথায় গিয়েছিলে-ওতে কি ? খাবার ? বাঃ রে, খাবার তুমি আবার কেন— অপর হাসিমুখে বলিল—তোমার আমার জন্যে তো আনি নি ? খাকী রয়েছে, ঐ খোকা রয়েছে—এস তো মান—কি নাম ? রমলা ? ও বাবা, বাপের শখ দ্যাখ—রমলা 1, বৌ-ঠাকরণ-ধরনে তো এটা । • বন্ধপত্নী আধঘোমটা টানিয়া প্রসন্ন হাসিভরা মুখে ঠোঙাটি হাতে লইলেন। সকলকে চা ও খাবার দিলেন । সেই খাবারই । আধঘণ্টাটাক পর অপর বলিল—উঠি ভাই, আবার চাঁপদানীতেই ফিরব –বেশ ভাল ভাই—কটের সঙ্গে তুমি এই যে লড়াই করছ –এতেই তোমাকে ভাল করে চিনে নিলাম— কিন্তু বৌ-ঠাকরণকে একটা কথা বলে যাই -অত ভালমানষে হবেন না –আপনার স্বামী তা পছন্দ করেন না । দু-একদিন একটু-আধটু চুলোচুলি, হাতী-যুদ্ধ বেলন-যন্ধ-জীবনটা বেশ একটু সরস হয়ে উঠবে-ব বলেন না ? এ আমার মত নয় কিন্তু, আমার এই বন্ধটির মত— আচ্ছা আসি, নমস্কার । বন্ধটি পিছ পিছ আসিয়া হাসিমুখে বলিল ওহে তোমার বৌ-ঠাকরণ বলছেন, ঠাকুরপোকে জিজ্ঞেস কর, উনি বিয়ে করবেন, না, এই রকম সন্ন্যিসি হয়ে ঘরে ঘরে বেড়াবেন ? --উত্তর দাও । o অপর হাসিয়া বলিল—দেখে শুনে আর ইচ্ছে নেই ভাই, বলে দাও। বাইরে আসিয়া ভাবে—আচ্ছা তব এরা আজ ছিল বলে বিজয়ার আনন্দটা করা গেল । সত্যিই শান্ত বৌটি । ইচ্ছে করে এদের কোনও হেল্প করি –কি ক'রে হয়, হাতে এদিকে পয়সা কোথায় ? o তাহার পর কিসের টানে সে ট্রামে উঠিয়া একেবারে ভবানীপরে লীলাদের বাড়ি গিয়া হাজির হইল । রাত তখন প্রায় সাড়ে-আটটা । লীলার দাদামশায়ের লাইব্রেরী-ঘরটাতে লোকজন কথাবাত্তা বলিতেছে - গাড়িবারান্দাতে দ্বখানা মোটর দাঁড়াইয়া আছে —পোকার উপদ্রবের ভয়ে হলের ইলেকট্রিক আলোগলিতে রাঙা সিল্কের ঘেরাটোপ বাঁধা । মাবেলের সিড়ির ধাপ বাহিয়া হলের সামনের চাতালে উঠিবার সময় সেই গন্ধটা পাইল - কিসের গন্ধ ঠিক সে জানে না, হয়ত দামী আসবাবপত্রের গন্ধ, নয়ত লীলার দাদামশাইয়ের দামী চুরাটের গন্ধ—এখানে আসিলেই ওটা পাওয়া যায় । লীলা—এবার হয়ত লীলা-অপর বকটা ঢিপ ঢপ করিতে লাগিল । লীলার ছোট ভাই বিমলেন্দ তাহাকে দেখিতে পাইয়া ছটিয়া আসিয়া হাত ধরিল। এই বালকটিকে অপর বড় ভাল লাগে - মাত্র বার দুই ইহার আগে সে আপকে দেখিয়াছে, কিন্তু কি চোখেই ষে দেখিয়াছে ! একটু বিস্ময়মাখানো আনন্মের সরে বলিল— অপববাব, আপনি এতদিন পরে কোথা থেকে ? আসন, আসন, বসবেন । বিজয়ার প্রণামটা, দাঁড়ান। —এসো এসো, কল্যাণ হোক, মা কোথায় ? - মা গিয়েছেন বাগবাজারের বাড়িতে—আসবেন এখনি—বসন । —ইয়ে—তোমার দিদি এখানে তো –না ?- ও । - - এক মহত্তে' সারা বিজয়া দশমীর উৎসবটটি আজিকার সকল ছাটাছুটি ও পরিশ্রমটা অপর কাছে বিসবাদ, নীরস, অথ'হীন হইয়া গেল। শধ্যে আজ বলিয়া নয়, পজো আরম্ভ হইবার সময় হইতেই সে ভাবিতেছে-লীলা পাজার সময় নিশ্চয় কলিকাতায় আসিবে— বিজয়ার দিন গিয়া দেখা করিবে । আঁাজ চাপৰানীর চটকলে পাঁচটার ভোঁ বাজিয়া প্রভাত