পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఆఫీ বিভূতি-রচনাবলী বাড়ির মধ্যে গিয়া পটেশ্বরী কাঁদিয়া মাকে জড়াইয়া ধরিল—একটু পরে পণ দীঘড়ী তাহাকে ডাকিয়া বাড়ির মধ্যে লইয়া গিয়া দেখাইলেন পটেশ্বরীর হাতে, পিঠে ঘাড়ের কাছে প্রহারের কালশিরার দাগ, এক এক জায়গায় রক্ত ফুটিয়া বাহির হইতেছে -মাকে ছাড়া দাগগলি সে আর কাহাকেও দেখায় নাই, তিনি আবার স্বামীক দেখাইয়াছেন। ক্রমেই জানা গেল পটেশ্বরী নাকি রাত বারেটা হইতে পুরুরের ঘাটে শীতের মধ্যে বসিয়া ভাবিয়াছে কি করা যায়—দ ঘণ্টা শাঁতে ঠকঠক করিয়া কাঁপিবার পরও সে বাড়ি আসিবার সাহস সঞ্চয় করিতে না পারিয়া মাসটার মহাশয়ের জানালায় শব্দ করিয়াছিল। মেয়েকে আর সেখানে পাঠানো চলিতে পারে না এ কথা ঠিক । দীঘড়ী মশাই অপকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তাহার কোন উকীল বন্ধ আছে কি-না ; এ সম্বন্ধে একটা আইনের পরামশ বিশেষ আবশ্যক —মেয়ের ভরণপোষণের দাবী দিয়া তিনি জামাইয়ের নামে নালিশ করিতে পারেন কি না । অপর দিন দই শুধুই ভাবিতে লাগিল এক্ষেত্রে কি করা উচিত । সতরাং স্বভাবতই সে খুব আশ্চর্য হইয়া গেল, যখন মাঘীপণিমার দিন-পাঁচেক পরে সে শুনিল পটেশ্বরীর স্বামী আসিয়া পনরায় তাহাকে লইয়া গিয়াছে। কিন্তু তাহাকে আরও বেশী আশ্চৰ্য্য হইতে হইল, সম্পণে আর এক ব্যাপারে। একদিন সে কুল হইতে ছটির পরে বাহিরে আসিতেছে, কুলের বেহারা তাহার হাতে একখানা চিঠি দিল-খলিয়া পড়িল, স্কুলের সেক্রেটারী লিখিতেছেন, তাহাকে আর বর্তমানে আবশ্যক নাই—এক মাসের মধ্যে সে যেন অন্যত্র চাকুরি দেখিয়া লয় । অপু বিন্মিত হইল—কি ব্যাপার । হঠাৎ এ নোটিশের মানে কি ? সে তখনই হেডমাস্টারের কাছে গিয়া চিঠিখানি দেখাইল । তিনি নানা কারণে অপর উপর সন্তুষ্ট ছিলেন না। প্রথম, সেবাসমিতি দলগঠন আপটুই করিয়াছিল, নেতৃত্বও করিত সে । ছেলেদের সে অত্যন্ত প্রিয়পাত্র, তাহার কথায় ছেলেরা ওঠে বসে। জিনিসটা হেডমাস্টারের চক্ষুশল । অনেকদিন হইতেই তিনি সংযোগ খুজিতেছিলেন –ছিদটা এত দিন পান নাই পাইলে কি আর একটা অনভিজ্ঞ ছোকরাকে জব্দ করিতে এতদিন লাগিত ? হেডমাস্টার কিছ জানেন না –সেক্রেটারীর ইচ্ছা, তাঁহার হাত নাই। সেক্রেটারী জানাইলেন, কথাটা এই যে, অপর্বে বাবর নামে নানা কথা রটিয়াছে, দীঘড়ী-বাড়ীর মেয়েটির এই সব ঘটনা লইয়া। অনেকদিন হইতেই এ লইয়া তাঁহার কানে কোন কোন কথা গেলেও তিনি শোনেন নাই। কিন্ত সম্প্রতি ছেলেদের অভিভাবকদের মধ্যে অনেকে আপত্তি করিতেছেন যে, ও-রপ চরিত্রের শিক্ষককে কুলে কেন রাখা হয় । অপর প্রতিবাদ সেক্রেটারী কানে তুলিলেন না। —দেখন, ওসব কথা আলাদা। লামাদের স্কুলের ও ছাত্রদের দিক থেকে এ-ব্যাপারটা অন্যভাবে আমরা দেখব কিনা ! একবার যাঁর নামে কুৎসা রটেছে, তাঁকে আর আমরা শিক্ষক হিসাবে রাখতে পারি নে তা সে সত্যিই হোক, বা মিথ্যেই হোক । অপর মুখ লাল হইয়া গেল এই বিরাট অবিচারে। সে উত্তেজিত সরে বলিল –বেশ তো মশায়, এ বেশ জাস্টিস হ’ল তো ! সত্যি মিথ্যে না জেনে আপনারা একজনকে এই বাজারে অনায়াসে চাকরি থেকে ছাড়িয়ে দিচ্ছেন—বেশ তো ? বাহিরে আসিয়া রাগে ও ক্ষোভে তাহার চোখে জল আসিয়া গেল। মনে ভাবিল এসব হেডমাস্টারের কারসাজি—আমি যাব তাঁর বাড়ি খোশামোদ করতে ? যায় যাক চাকরি । কিন্তু এদের অদ্ভুত বিচার বটে - ডিফেন্ড করার একটা সংযোগ তো খন আসামীকেও দেওয়া হয়ে থাকে, তা-ও এরা আমায় দিলে না ! কয়দিন সে বসিয়া ভাবিতে লাগিল, এখানকার চাকুরির মেয়াদ তো আর এই মাসটা