পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 তাহা নয়, এই কমব্যস্ত অগভীর একঘেয়ে জীবনের পিছনে একটি সন্দের পরিপণ", আনন্দভরা সৌম্যজীবন লকোনো আছে—সে এক শাশ্বত রহস্যভরা গহন গভীর জীবনমন্দাকিনী, যাহার গতি কল্প হইতে কলপাস্তরে ; দুঃখকে তাহা করিয়াছে অমতত্বের পাথেয়, আশ্রকে করিয়াছে অনন্ত জীবনের উৎসধারা” ( অপরাজিত", পৃ. ৩০৭ )। | 6 || বিভূতি-রচনাবলীতে বাস্তবলোকের উপাদান, বিভূতিভূষণের অভিজ্ঞতার জগৎ, চোখে দেখা পরিচিত জগৎ । ভাবলোকের উপাদান তিনটি—প্রকৃতি, শিশু ও স্বপ্ন। বিভূতিভুষণের জীবনেও বটে, সাহিত্যেও বটে—প্রকৃতি ভাবলোকের উদ্বোধক ৷ শিশুর জগতের প্রায় অধিকাংশই ভাবলোকের ; তাই বিভুতিভূষণেব সন্ট সব চরিত্রই অল্পবিস্তর শিশুভাবাপন্ন । "অপরাজিত’-এর অপ, হরিহর, সবজিয়া, কেদার, শরৎ সকলেই বয়সের মাপে শিশর চেয়ে বড়ো, মনের মাপে শিশুর সমবয়সী। তথাপি এরা বেমানান সন্টিছাড়া নয়। কারণ, সব মানুষের মধ্যেই একটি শিশু আছে। যার মধ্যে নেই সে হয় অতি-মানুষ কিবা অ-মানুষ । এই দুই কোটির মানুষ বিভুতি-সাহিত্যে নেই। স্বপ্নকে ভাষাত্তরে বলতে পারি রোম্যাণ্টিসিজম । মানুষের ডানা নেই, স্বপ্ন আছে । স্বপ্নহীন মানুষও জগতে বিরল নয়, বিভূতিসাহিত্যে বিরল। প্রকৃতি-শিশু-স্বপ্ন—এই তিন উপাদানে বিভূতিভূষণ বাস্তবলোকের চেনামানুষকে দেখিয়েছেন নতন আর এক dimension-এ । তিনি সন্টি করেছেন এক শ্রেণীর নরনারী যার বাস্তবজীবনের দারিদ্র্য-শ্ৰীহীনতার গভীরে আনন্দরসের ফলগধারা আবিস্কার করে, যারা ভাবলোক থেকে আনন্দের ফুলিঙ্গ সংগ্রহ করে বাস্তবলোকের নিরানন্দের অন্ধকার বিদ্যুরিত করে। এমন বস্তু, এমন ঘটনা তাদের আনন্দনায়ক, সাধারণ ব্যবহারিক মানষের কাছে যা নিতান্তই অকিঞ্চিৎকর, তুচ্ছ । বিভুতি-সাহিত্য অকিঞ্চিৎকরতার সবগ । এই বৈশিষ্ট্যের কথা মনে রেখে পথের পাঁচালী’র একজন সমালোচক বলেছেন, “The book catches the rhythm of the ordinary.” বাস্তবলোক এবং ভাবলোককে যথাথরিপে উপন্যাসের চরিত্রের মধ্যে মেলানোতেই উপন্যাসের সাথকতা। পথের পাঁচালী’-তে বিভুতিভূষণ তা পেরেছেন, "অপরাজিত’-তে পারেন নি। পথের পাঁচালী”-র শিশু অপর জীবনে বাস্তবলোক ও ভাবলোকের সীমানা চোখে পড়ে না। নিশ্চিন্দিপুরের অপর এবং স্বপ্নলোকের অপু-র মধ্যে বিরোধ তো নেই-ই, পরন্তু স্বপ্নলোকের অপকে বাদ দিলে নিশ্চিন্দিপুরের অপর অনেকখানি বাদ পড়ে। যে অপর ভাগ্যবিড়ম্বিত কণের দুঃখে চোখের জল ঢেকে রাখতে পারে না, শ্রতিলিখনের ‘প্রস্রবণ-গিরি যার মনের মধ্যে রোমাঞ্চ আনে, গ্রামের সবুজ বনরেখার উপর ঝ:কে পড়া নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে যার মন কেমন করে, মনচকুন্দ-চাঁপার গন্ধ যার ক্লান্ত দেহমনকে খেলাধুলার অতীত ক্ষণগুলির জন্য বিরহাতুর করে তোলে—সে-আপ যেমন সত্য, দাগার ভাই, রাণ-পটু-নাড়ার খেলার সঙ্গী অপও তেমনি সত্য। স্বপ্নলোকের অপ ও বাস্তবলোকের অপরকে নিয়ে যথাথ অপ। অপরাজুিত'-এর অপর ভাবলোক ঐশী প্রেরণার মত ক্ষণে ক্ষণে অপকে এক অনিবাঁচনীয় আনন্দলোকে নিয়ে যায়, কিন্তু অপা তার জীবনে আনন্দলোককে বাস্তবলোকের সঙ্গে মেলাতে পারে নি । || Q5 is মানষের জীবন বিসপিতগতি পথের মত। পথের শেষ মানষের দৃষ্টির অগোচরে। মানৰ জানে পথের বাঁকের খবর ৷ এক বাঁকের শেষে আর এক বাঁকের পথের চেহারা তার জানা