পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত ఆసి উপায় কি ? --তাই আজ ভাল খাওয়াটা আছে, কাল পত্নী বললে, যাও কুঞ্জকে বলে এসো— ওরে বসে যা বাবা, থালা না থাকে পাতা একখানা পেতে । হাত-মুখটা ধয়ে আয় বারা— এত দেরি করে ফেললি কেন ? বেলা বেশী ছিল না। খাওয়া-দাওয়ার পর গল্প করিতে করিতে অনেক রাত হইয়া গেল। অপর বলিল, আচ্ছা, আজ উঠি ভাই, বেশ আনন্দ হ’ল আজ অনেকদিন পরে— বন্ধ বলিল, ওগো, অপবকে আলোটা ধরে গলির মুখটা পার ক'রে দাও তো ? আমি আর উঠতে পারি নে— একটা ছোট কেরোসিনের টেমি হাতে বৌটি অপর পিছনে পিছনে চলিল । অপ বলিল, থাক, বৌঠাকরণ, আর এগোবেন না, এমন আর কি অন্ধকার, ষান আপনি— —আবার কবে আসবেন ? - ঠিক নেই, এখন একটা লম্বা পাড়ি তো দি– —কেন, একটা বিয়ে-থা করন না ? পথে পথে সন্ন্যাসী হয়ে এ রকম বেড়ানো কি ভাল ? মাও তো নেই শুনেছি। কবে যাবেন আপনি ?’- যাবার আগে একবার আসবেন না, যদি পারেন । © -—তা হয়ে উঠবে না বৌঠাকরণ। ফিরি যদি আবার তখন বরং-আচ্ছা নমস্কার । বোঁটি টেমি হাতে গলির মুখে দাঁড়াইয়া রহিল। পরদিন সে সকালে উঠিয়া ভাবিয়া দেখিল, হাতের পয়সা নানারকমে উড়িয়া যাইতেছে, আর কিছুদিন দেরি করিলে যাওয়াই হইবে না। এখানেই আবার চাকরির উমেদার হইয়া বোরে দোরে ঘুরিতে হইবে। কিন্তু আকাশপাতাল ভাবিয়াও কিছু ঠিক হইল না। একবার মনে হয় এটা ভাল, আবার মনে হয় ওটা ভাল। অবশেযে স্থির করিল স্টেশনে গিয়া সম্মখে বাহা পাওয়া যাইবে, তাহাতেই উঠা যাইবে । জিনিস-পত্ৰ বধিয়া গছাইয়া হাওড়া স্টেশনে গিয়া দেখিল, আর মিনিট পনেরো পরে চার নম্বর প্ল্যাটফম" হইতে গয়া প্যাসেঞ্জার ছাড়িতেছে। একখানা থাড ক্লাসের টিকিট কিনিয়া সোজা ট্রেনে উঠিয়া জানালার ধারের একটা জায়গায় সে নিজের বিছানাটি পাতিয়া বসিল। আপ কি জানিত এই যাত্রা তাহাকে কোন পথে চালিত করিয়া লইয়া চলিয়াছে ? এই চারটা বিশ মিনিটের গয়া প্যাসেঞ্জার ? পরবতী জীবনে সে কতবার ভাবিয়াছে যে সে তো পাজ দেখিয়া যাত্রা শুরু করে নাই, কিন্তু কোন মহাশভে মাহেন্দুক্ষণে সে হাওড়া স্টেশনে থাণ্ড ক্লাস টিকিট ঘরের ঘলঘুলিতে ফিরিঙ্গি মেয়ের কাছে গিয়া একখানা টিকিট চাহিয়াছিল —qশ টাকার একখানা নোট দিয়া সাড়ে পাঁচ টাকা ফেরত পাইয়াছিল । মানুষ যদি তাহার ভবিষ্যৎ জানিতে পারিত ! to অপ বৰ্ত্তমানে এসব কিছুই ভাবিতেছিল না। এত বয়স হইল, কখনও সে গ্র্যাডকড' লাইনে বেড়ায় নাই, সেই ছেলেবেলায় দটি বার ছাড়া ইস্ট ইণ্ডিয়ান রেলেও আর কখনও চড়ে নাই, রেলে চড়িয়া দরদেশে যাওয়ার আনন্দে সে ছেলেমানযের মতই উৎফুল্ল হইয়া উঠিয়াছিল ? রাস্তার ধারে গাছপালা ক্ৰমশঃ কিরূপ বদলাইয়া যায়, লক্ষ্য করিবার ইচ্ছা অনেকদিন হইতে তাহার আছে, বন্ধমান পয্যন্ত দেখিতে দেখিতে গেল, কিন্তু তাহার পরই অন্ধকারে আর দেখা গেল না ।