পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SO বিভূতি-রচনাবলী তাহার গোলাপফুল সাজানো মোটরখানা চাটুয্যে-বাড়ির সম্মুখে মোড় ঘুরিবার সময় দেবব্রত কেবলই ভাবিতেছিল, কোনও জানালার ফাঁক দিয়া তের বৎসরের বিধবা মেয়েটা হয়ত কৌতুহলের সহিত তাহাদের মোটর ও ফিটন গাড়ির সারির দিকে চাহিয়া আছে । রাত্রের গোড়ার দিকেই বিবাহ ও বরযাত্ৰীভোজন মিটিয়া গেল । o দেবব্রত বাসরে গিয়া দেখিল, সেখানে অত্যন্ত ভিড়—বাসরের ঘর খুব বড় নয়—স দালানেও হান নাই, অন্য অন্য ঘরের বাক্স তোরঙ্গ সব দালানে বাহির করা হইয়াছে, অথচ মেয়েদের ভিড় এত বেশী যে বসা তো দুরের কথা, সকলের দাঁড়াইবার জায়গাও নাই। সে বড় শালাকে বলিল—দেখন, যদি অনুমতি করেন, একটু ইঞ্জিনীয়ারিং বিদ্যে জাহির করি । এই ট্রাঙ্কগুলো এখানে রাখার কোন মানে নেই—লোক ডাকিয়ে দেওয়ালের দিকে এক সারি এখানে, আর এক সারি করে দিন সিড়ির ধাপে ধাপে—বুঝলেন না ?“যাবার আসবারও কট হবে না অথচ এদের জায়গা হবে এখন । তাহার ছোট শালীরা ব্যাপারটা লইয়া তাহাকে কি একটা ঠাট্টা করিল । সবাই হাসিয়া উঠিল । রাত্রি একটার পর কিন্ত, যে-যাহার হানে চলিয়া গেল । দেবব্রত বাসর হইতে বাহির হইয়া দালানের একটা পটীলের তোরঙ্গের উপর বসিয়া একটা সিগারেট ধরাইল । তাহার মনে আনন্দের সঙ্গে কেমন একটা উত্তেজনা । মনে মনে একটা তৃপ্তিও অনুভব করিল।••• জীবন এখন সনিদিষ্ট পথে চলবে—লক্ষীছাড়ার জীবন শেষ হইল। পাটনার চাকুরিতে একটা সুবিধা এই যে, জায়গা খাব বাস্হ্যকর, বাড়িভাড়া সস্তা, বছরে পঞ্চাশ টাকা করিয়া মাহিনা বাড়িবে—তবে প্রভিডেন্ট ফণ্ডের সদ কিছু কম । সে ভাবিল—যাই তো আগে, ফৈজদ্দেীন হোসেনকে একটু হাতে রাখতে হবে, ওর হাতেই সব—অন্য ডিরেক্টর তো কাঠের পুতুল। ক্যান্টনমেন্টের ক্লাবে গিয়েই ভক্তি হয়ে যাবো—ওরা আবার ওসব দেখলে ভেজে কিনা ! নববধ এখনও ঘমোয় নাই, দেবব্রত গিয়া বলিল—বাইরে এসো না সুনীতি, কেউ নেই। আসবে ? নববধ চেলীর পটুীল নয়, কিন্ত পায়ের জন্য তার উঠিতে কন্ট হয়—দেবব্রত তাহাকে সযত্বে ধরিয়া দালানে আনিয়া তোরঙ্গটার উপর ধীরে ধীরে বসাইয়া দিল । নববধ হাসিয়া ব’লল—ওই দোরটা বন্ধ করে দাও—সিড়ির ওইটে—শেকল উঠিয়ে দাও—হ’্যা—ঠিক হয়েছে—নৈলে এক্ষনি কেউ এসে পড়বে । * দেবব্রত পাশে বসিয়া বলিল—রাত জেগে কষ্ট হচ্ছে খুব—না ? —কি এমন কষ্ট, তা ছাড়া দােপরেবেলা আমি ঘামিয়েছি খাব ৷ —আচ্ছা, তুমি কনে-চন্দন পরো নি কেন সনেীতি ? এখানে সে চলন নেই ? মেয়েটি সলৎজমখে বলিল—মা পরাতে বলেছিলেন— • —তবে ? & —জ্যাঠাইমা বললেন, তুমি নাকি পছন্দ করবে না। দেবব্রত হাসিয়া উঠিয়া বলিল—কেন বল তো—বিলেত-ফেরত বলে ? বা তো— পরে সে বলিল—আমি সাত তারিখে পাটনায় যাব, বুঝলে, তোমাকে আর মাকে এসে নিয়ে যাব মাস দই পরে, সনৌতি । তোমার বাবাকে বলে রেখেছি। মেয়েটি নতমখে বলিল—আচ্ছা একটা কথা বলব ? কিছ মনে করবে না ?” —বল না, কি মনে করব ?— o —আচ্ছা, আমার এই পা নিয়ে তুমি যে বিয়ে করলে, যদি পা না সারে ? দ্যাখ, তোমার গা ছয়ে সত্যি বলছি আমার ইচ্ছে ছিল না বিয়ের। মাকে কতবার বঝিয়ে বলেছি, মা