পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত షిపి এই তো আমার পায়ের দশা, পরের ওপর অনথ’ক কেন বোঝা চাপানো সারাজীবন—তা মা বললেন তুমি নাকি খব—তোমার নাকি খুব ইচ্ছে । আচ্ছা কেন বল তো এ মতি তোমার হ’ল ? দেবব্রত বলিল-স্পষ্ট কথা বললে তুমিও কিছ মনে করবে না সনেীতি ? তাহলে বলি শোন, তোমার এই পায়ের দোষ যদি না হ’ত তবে আমি অন্য জায়গায় বিয়ে করে ফেলতুম --যেদিন থেকে শুনেছি পায়ের দোষের জন্য তোমার বিয়ে এই তিন বছুরের মধ্যে হয় নি— সেদিন থেকে আমার মন বলেছে ওখানেই বিয়ে করব, নয় তো নয় । অন্য জায়গায় বিয়ে করলে মনে শান্তি পেতাম না সনৌতি । সেই যে তোমাকে দেখে গিয়েছিলাম, তারপর বিয়ে তখন ভেঙে গেল, কিন্তু তোমার মুখখানা কতবার যে মনে হয়েছে !“কেন কে জানে—আমি কাব্যি করছি নে সুনীতি, ওসব আমার আসে না, আমি সত্য কথা বলছি । তারপর সে আজ ওবেলায় চাটুয্যে-বাড়ির বিধবা মেয়েটির কথা বলিল । বলিল—দ্যাখ এও তো কাব্যের কথা নয়—আজ বিয়ের আসনে বসে কেবলই সেই ছোট মেয়েটার কথা মনে হয়েছে । ছোট পিসিমা তাকে তাড়িয়ে দিয়ে আজ আমার অন্ধেক আনন্দ মাটি করেছেন স,নীতি—তোমার কাছে বলছি, আর কাউকে ব'লো না যেন ! এ কেউ বুঝবে না, আমার মা-ও বোঝেন নি । - ঘড়িতে ঢং ঢং করিয়া রাত্রি দুইটা বাজিল । কাজলের মুশকিল বাধে রোজ সন্ধ্যার সময় । খাওয়া-দাওয়া হইয়া গেলে তাহার মাসীমা বলেন, ওপরে চলে যাও, শয়ে পড় গ্নিয়ে । কাজল বিপন্নমুখে রোয়াকের কোণে দাঁড়াইয়া শীতে ঠক-ঠক করিয়া কপিতে থাকে। ওপরে কেউ নাই, মধ্যে একটা অন্ধকার সিড়ি, তাহার উপর দোতলার পাশের ধরটাতে আঁলনায় একরাশ লেপকাঁথা বাধা আছে। আধ-অন্ধকারে সেগলা এমন দেখায় ! আগে আগে দিদিমা সঙ্গে করিয়া লইয়া গিয়া ঘমে পাড়াইয়া রাখিয়া আসিতেন। দিদিমা আর নাই, মামৗমারা খাওয়াইয়া দিয়াই খালাস । সেদিন সে সেজ দিদিমাকে বলিয়াছিল, তিনি ঝৎকার দিয়া বলিয়া উঠিলেন, আমার তো আর খেয়ে দেয়ে কাজ নেই, এখন তোমায় যাই শোওয়াতে । একা এটুকু আর যেতে পারেন না, সেদিন তো পীরপরের হাটে একা পালিয়ে যেতে পেরেছিলে ? ছেলের ন্যাকরা দেখে বাঁচিনে । নিরপোয় হইয়া ভয়ে ভয়ে সিড়ি বাহিয়া সে উপরে উঠে । কিন্ত ঘরে ঢুকিতে আর সাহস না করিয়া প্রথমটা দোরের কাছে দাঁড়াইয়া থাকে। কোণে কড়ির আলনার নীচে দাদামহাশয়ের একরাশ পরানো হকার খোল ও হকা-দান । এককোণে মিটমিটে তেলের প্রদীপ, তাতে সামান্য একটুখানি আলো হয় মাত্র, কোণের অন্ধকার তাহাতে আরও যেন সন্দেহজনক দেখায়। এখানে একবার আসিলে আর কেহ কোথাও নাই, ছোট মামীমা নাই, ছোটদিদিমা নাই, দল নাই, টাটি নাই—শধে সে আর চারিপাশের এই-সব অজানা বিভীষিকা। কিন্তু এখানেই বা সে কতক্ষণ দাঁড়াইয়া থাকিবে—ছোট মাসাঁমা ও বিন্দ-ঝি এঘরে শোয়, তাহদের আসিতে এখনও বহু দেরি, শীতের হাওয়ায় হাড়-কাঁপুনি ধরিয়া যায় যে অগত্যা সে অন্যান্য দিনের মত চোখ বজিয়া ঘরের মধ্যে ঢুকিয়া নিজের বিছানার উপর উঠিয়াই ছোট লেপটা একেবারে মুড়ি দিয়া ফেলে। কিন্ত বেশীক্ষণ লেপমড়ি দিয়া থাকিতে পারে না—ঘরের মধ্যে কোন কিছু নাই তো ? মুখ খলিয়া একবার ভাঁতচোখে চারিধারে চাহিয়া দেখিয়া আবার লেপমঁড়ি দেয়—আর যত রাজ্যের ভূতের গল্প কি ঠিক ছাই এই সময়টাতে মনে আসে ।