পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত ዓ§ মেয়েটি ডাহার দিকে ফিরিয়া বলিল—চলে যাবেন ? দাড়ান, পিসিমাকে ভাকি—চ খেয়েছেন ? অপু বলিল—চ তা—থাক্, বরং অন্ত একদিন— মেয়েটি বলিল—বমুন, বমুন—দাড়ান চা আনি–পিসিমাকে ডাকি দাড়ান ! কিন্তু খানিকটা পরে মেয়েটিই এক পেয়ালা চা ও একটা প্লেটে কিছু হালুয়া আনিয়া তাহার সামনে বসিল । অপু ক্ষুধার মুখে হালুয়াটুকু গো-গ্রালে গিলিল। গরম চা থাইতে গিয়া প্রথম চুমুকে মুখ পুড়াইয়া ফেলিয়া ঢালিয়া ঢালিয়া খাইতে লাগিল। মেয়েটি বলিল—আপনি বুঝি ওদের খুড়তুতো ভাই? থাকু প্লেটটা এখানেই—মার একটু হালুয়া আন্‌ব ? —হালুয়া ?...না:–ইয়ে তেমন ক্ষিদে নেই—হ্যা, সুরেশদার বাবা আমার জ্যাঠামশাই হতেন, জ্ঞাতি সম্পর্ক— এই সময় অতসী ঘরে ঢোকাতে মেয়েটি চায়ের বাটি ও প্লেট লইয়া চলিয়া গেল। জ্যোঠমা আর আসিলেন না। অপু অতলীর কাছে বিদায় লইয়া চলিয়া গেল। সন্ধ্যার পরে ঠাকুরবাড়িতে খাইয়া অনেক রাত্রে সে নিজের থাকিবার স্থানে ফিরিয়া দেখিল আজও একজন লোক সেখানে রাত্রের জন্ত আশ্রয় লইয়াছে। মাঝে মাঝে এরকম আসে, কারখানার লোকের দু-একজন আত্মীয়-স্বজন মাঝে মাঝে আসে ও দু-চার দিন থাকিয়া যায়। একে ছোট ঘর, থাকিবার কষ্ট, তাহতে লোক বাড়িলে এইটুকু ঘরের মধ্যে তিষ্ঠানো দায় হইয়া উঠে। লোকটার পরণের কাপড় এমন ময়লা যে, ঘরের বাতাসে একটা অপ্রতিকর গন্ধ। অপু সব সহ করিতে পারে, এক ঘরে এ-ধরণের নোংরা স্বভাবের লোকের ভিড়ের মধ্যে শুইডে পারে না, জীবনে কখনো সে তা করে নাই—ইহা তাহার অসহ ! কোথায় রাত্রে আসিয়া নির্জনে একটু পড়াশুনা করিবে—ন, ইহাদের বক্‌বকের চোটে সে ঘর ছাড়িয়া বাহিরে আসিয়া দাড়াইল। নতুন লোকটি বড়বাজারের আলু পোস্তায় আলুর চালান লইয়া আসে– হুগলী জেলার কোন জায়গা হইতে, অপু জানে, আরও একবার আসিয়াছিল। লোকটি বলিল —কোথায় যান ও মশায় ? আবার বেরোন ন-কি ? অপু বলিল, এইখানটাতে দাড়িয়ে—বেঞ্জার গরম আজ. একটু পরে লোকটা বলিয়া উঠিল—স্থা, ইদ, হ্যা, বিছানাটা কি মহাশয়ের ? আমুন, আমুন, সরিয়ে স্তান একটু—এ—ইকোর জলটা গেল গড়িয়ে পড়ে—ত্তোর—না— অপু বিছানা সরাইয়া পুনরায় বাহিরে আসিল। সে কি বলিবে ? এখানে তাহার কি জোর খাটে । উহারাই উপরোধে পড়িয়া দয়া করিয়া থাকিতে দিয়াছে এখানে। মুখে কিছু না বলিলেও অপু অন্তদিন হয়তো মনে মনে বিরক্ত হইত, কিন্তু আজ সে সম্পূর্ণ অঙ্কমনস্ক ছিল। বাহিরের বারানায় জীর্ণ কাঠের রেলিং ধরিয়া অন্ধকারের দিকে চাহিয়া ভাবিত্তেছিলমুরেশদীদের কেমন চমৎকার বাড়ি কলিকাতায় । ইলেকট্রক পাখা, আলো, ঘরগুলি কেমন সাজানো, মেয়েটির কেমন সুন্দর কাপড় পরণে। চারিট না বাজিতে চা, জলখাবার, চারি