পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ᏑᎸ বিভূতি-রচনাবলী অপরূপ সন্ধ্যায় ; উদার কল্পনায় ভরপুর নিঃশবে জীবনমায়ায় —লে একটা অপূর্ব শক্তি অনুভব করে নিজের মধ্যে—এটা যেন বাহিরে প্রকাশ করিবার জিনিস—মনে মনে ধরিয়া রাখার নয়। কোথায় থাকিবে প্রণব আর মন্মথ ?...সবাই মামুলি কথা বলে। সকল বিষয়ে এই মামুলি ধরণ যেন তাহদের দেশের একচেটে হইয়া উঠিতেছে—যে মন গরুড়ের মত ডিম ফুটিয়া বাহির হইয়া সারা পৃথিবীটার রস-ভাণ্ডার গ্রাস করিতে ছুটিতেছে, সে তীব্র আগ্রহ-ভরা পিপাসাত নবীন মনের সকল কল্পনা তাহাতে তৃপ্ত হয় না । ইহারই বিরুদ্ধে, ইহাদের সকলের বিরুদ্ধে দাড়াইতে হইবে, সব ওলট পালট করিয়া দিবার নিমিত্ত সঙ্ঘবদ্ধ হইতে হইবে তাহাদিগকে এবং সে-ই হইবে তাহার অগ্রণী । দিন কতক ধরিয়া অপু ক্লাসে ছেলেদের মধ্যে তাহার স্বভাবসিদ্ধ ধরণে গর্ব করিয়া বেড়াইল ধে, এমন প্রবন্ধ পড়িবে যাহা কেহ কোনদিন লিখিবর কল্পনা করে নাই, কেহ কখনও শোনে নাই ইত্যাদি। লজিকের ছোকরা-প্রোফেসার ইউনিয়নের সেক্রেটারী, তিনি জিজ্ঞাস করিলেন,—কি বলে নোটিশ দেবো তোমার প্রবন্ধের হে, বিষয়টা কি ? পরে নাম শুনিয়া হাসিয়া বলিলেন,—বেশ, বেশ । নামটা বেশ দিয়েছ—but why not পুরাতনের বাণী— ? অপু হাসিমুখে চুপ করিয়া রহিল। নির্দিষ্ট দিনে যদিও ভাইসপ্রিন্সিপ্যালের সভাপতি হইবার কথা নোটিশে ছিল, তিনি কার্যবশত: অসিতে পারিলেন না। ইতিহাসের অধ্যাপক মিঃ বমুকে সভাপতির অসনে বসিতে সকলে অনুরোধ করিল। ভিড় খুব হইয়াছে, প্রকাশু সভায় অনেক লোকের সম্মুখে দাড়াইয়া কিছু করা অপুর এই প্রথম। প্রথমটা তাহার পা কঁাপিল, গলাও খুব কঁাপিল, কিন্তু ক্রমে বেশ সহজ হইয়া আসিল । প্রবন্ধ খুব সতেজ-এ-বয়সে যাহা কিছু দোষ থাকে—উচ্ছ্বাস, অনভিজ্ঞ আইডিয়ালিজমৃ, ভালমন্দ নির্বিশেষে পুরাতনকে ছাটিয়া ফেলবার দত্ত—বেপরোয়া সমালোচনা, তাহার প্রবন্ধে কোনটাই বাদ যায় নাই। প্রবন্ধ পড়িবার পরে খুব হৈ-চৈ হইল। খুব তীব্র সমালোচনা হইল। প্রতিপক্ষ কড়া কড়া কথা শুনাইয়া দিতে ছাড়িল না। কিন্তু অপু দেখিল অধিকাংশ সমালোচকই ফাক আওয়াজ করিতেছে। সে যাহা লইয়া প্রবন্ধ লিখিয়ছে, সে বিষয়ে কাহারও কিছু অভিজ্ঞতাও নাই, বলিবার বিষয়ও নাই, তাহারা তাহাকে মন্মথর শ্রেণীতে ফেলিয়া দেশদ্রোহী, সমাজদ্রোহী বলিয়। গালাগালি দিতে শুরু করিয়াছে। অপু মনে মনে একটু বিস্মিত হইল। হয়ত সে আরও পরিস্ফুট করিয়া লিখিলে ভাল করিত। জিনিসটা কি পরিষ্কার হয় নাই ? এত বড় সভার মধ্যে তাহার নিতান্ত অন্তরঙ্গ ছু’একজন বন্ধু ছাড়া সকলেই তাহার বিরুদ্ধে দাড়াইয়াছে,—টিটকারি গালাগালির অশের জন্ত মন্মথকে হিংসা করার তাহার কিছুই নাই। শেষে সভাপতি তাহাকে প্রতিবাদের উত্তর দিবার অধিকার দেওয়াতে সে উঠিয়া ব্যাপারটা আরও খুলিয়া বলিবার চেষ্টা করিল। দু’চারজন সমালোচক—যাহাদের প্রতিবাদ সে বসিয়া নোট করিয়া লইয়াছিল, তাহাদিগকে উত্তর দিতে গিয়া যুক্তির থেই হারাইয়া ফেলিল। অপর পক্ষ এই অবসরে আর এক পালা হাসিয়া লইতে ছাড়িল না। অপু রাশিয়া গিয়াছিল, এইবার যুক্তির পথ না ধরিয়া উচ্ছ্বাসের